বাংলা ব্লগ লেখার সময় যে ৭টি ভুল নতুনরা করে

বাংলায় ব্লগ লেখা দেখতে যতটা সহজ, ভালো বাংলা ব্লগ লেখা ততটা সহজ নয়। অনেকেই মনে করেন, একটি বিষয় নিয়ে কিছু তথ্য লিখে দিলেই ব্লগ তৈরি হয়ে যায়। বাস্তবে পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা, বিষয়টি সহজভাবে বোঝানো এবং লেখাটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য কিছু নির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রাখতে হয়।

নতুন ব্লগারদের লেখায় কিছু ভুল বারবার চোখে পড়ে। শুরুতেই এগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে লেখার মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। দীর্ঘদিন বাংলা কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে এমন সাতটি সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করা যাক।

১. পাঠককে না বুঝেই লেখা শুরু করা

নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, কার জন্য লেখা হচ্ছে সেটা না ভেবেই লেখা শুরু করা। ধরুন, আপনি লিখছেন ‘স্মার্টফোন কেনার আগে কী কী দেখবেন’। এই লেখা যদি সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য হয়, তাহলে অত্যন্ত প্রযুক্তিগত শব্দ ব্যবহার করলে অনেক পাঠক বিষয়টি বুঝতে পারবেন না।

আবার প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহী পাঠকের জন্য লিখলে খুব সাধারণ তথ্য দিয়ে পুরো লেখাটি ভরিয়ে দেওয়াও কার্যকর নয়।

লেখা শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই লেখাটি কে পড়বে? তাঁর কী সমস্যা রয়েছে? তিনি এই লেখাটি পড়ে কী জানতে বা করতে চাইছেন? এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে লেখার দিক অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়।

২. শিরোনাম আকর্ষণীয় না হওয়া

ভালো লেখা হলেও দুর্বল শিরোনামের কারণে পাঠক সেটি পড়তে আগ্রহী নাও হতে পারেন। নতুনরা প্রায়ই বিষয়ের নামটাকেই শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে লেখার মূল বক্তব্য বোঝা গেলেও কৌতূহল তৈরি হয় না।

শিরোনাম এমন হওয়া উচিত, যাতে পাঠক বুঝতে পারেন লেখাটিতে তাঁর জন্য কী রয়েছে। যেমন ‘বাংলা ব্লগ লেখার নিয়ম’ শিরোনামের বদলে ‘বাংলা ব্লগ লেখার সময় যে ৭টি ভুল নতুনরা করে’ অনেক বেশি নির্দিষ্ট এবং আকর্ষণীয়।

তবে আকর্ষণীয় করার নামে অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দেওয়া উচিত নয়। শিরোনামে যে প্রতিশ্রুতি থাকবে, লেখার মধ্যে তার উত্তর অবশ্যই থাকতে হবে।

৩. শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা দেওয়া

ব্লগের প্রথম কয়েকটি লাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন লেখকরা অনেক সময় বিষয়ের মূল কথায় না গিয়ে দীর্ঘ ভূমিকা লিখতে থাকেন।

‘বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির যুগে.’, ‘আজকের দিনে আমরা সবাই জানি.’—এই ধরনের বাক্য দিয়ে শুরু করা অনেক ক্ষেত্রে লেখাকে ধীর করে দেয়। পাঠক দ্রুত জানতে চান, লেখাটিতে তাঁর জন্য কী আছে।

তাই শুরুতেই সমস্যাটি তুলে ধরুন। তারপর বলুন, লেখায় তার সমাধান কীভাবে পাওয়া যাবে। প্রথম অনুচ্ছেদ ছোট, স্বাভাবিক এবং সরাসরি হলে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা সহজ হয়।

৪. কঠিন ভাষা ব্যবহার করে লেখাকে ভারী করে ফেলা

বাংলা ভাষায় লিখছেন মানেই খুব জটিল বা বইয়ের ভাষা ব্যবহার করতে হবে—এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। ব্লগের ভাষা হওয়া উচিত সহজ, পরিষ্কার এবং কথোপকথনের মতো স্বাভাবিক।

একটি বাক্যে অনেকগুলো তথ্য ঢুকিয়ে দিলে পাঠককে বারবার পড়তে হয়। ছোট বাক্য ব্যবহার করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী উদাহরণ দিন। অপরিচিত শব্দ থাকলে তার সহজ অর্থ বুঝিয়ে দিন।

বিশেষ করে তথ্যভিত্তিক ব্লগে ভাষা যত সহজ হবে, পাঠকের কাছে বিষয়টি তত বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হবে।

৫. একই কথা বারবার বলা

শব্দসংখ্যা বাড়ানোর জন্য একই বক্তব্য বিভিন্নভাবে বারবার লেখা নতুনদের একটি পরিচিত সমস্যা। এতে লেখা বড় হয় ঠিকই, কিন্তু তথ্য বাড়ে না।

ধরুন, আপনি লিখছেন নিয়মিত লেখালেখির গুরুত্ব নিয়ে। একবার কারণগুলো পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার পর একই বিষয় তিন-চারটি অনুচ্ছেদে ঘুরিয়ে বলার দরকার নেই।

একটি ভালো ব্লগের লক্ষ্য শুধু নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা পূরণ করা নয়। প্রতিটি অনুচ্ছেদে নতুন কিছু তথ্য, ব্যাখ্যা, উদাহরণ অথবা ব্যবহারিক পরামর্শ থাকা উচিত।

৬. উপশিরোনাম ও অনুচ্ছেদ ঠিকভাবে ব্যবহার না করা

একটানা বড় বড় অনুচ্ছেদ দেখে অনেক পাঠকই লেখা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে মোবাইলে ব্লগ পড়ার সময় ছোট অনুচ্ছেদ এবং পরিষ্কার উপশিরোনাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করুন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের জন্য আলাদা উপশিরোনাম দিন। প্রয়োজন হলে তালিকা বা নম্বর ব্যবহার করুন।

এতে পাঠক পুরো লেখাটি না পড়লেও চোখ বুলিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় অংশটি খুঁজে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে লেখাটিও গোছানো দেখাবে।

৭. প্রকাশের আগে লেখা যাচাই না করা

অনেক নতুন ব্লগার লেখা শেষ করেই প্রকাশ করে দেন। এখানেই থেকে যায় বানান ভুল, ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ বাক্য কিংবা অপ্রয়োজনীয় অংশ।

প্রকাশের আগে অন্তত একবার পুরো লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। শুধু বানান নয়, বাক্যগুলো স্বাভাবিক শোনাচ্ছে কি না সেটাও দেখুন। কোথাও একই কথা পুনরাবৃত্তি হয়েছে কি না খেয়াল করুন।

সম্ভব হলে লেখা শেষ করার পর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আবার পড়ুন। দূরত্ব তৈরি হলে নিজের লেখার দুর্বলতাগুলো অনেক সহজে চোখে পড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভালো বাংলা ব্লগ লেখার জন্য শুধু ভাষাজ্ঞান যথেষ্ট নয়। পাঠকের প্রয়োজন বোঝা, তথ্যকে সাজিয়ে উপস্থাপন করা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দেওয়ার অভ্যাসও তৈরি করতে হয়। শুরুতে ভুল হবেই। কিন্তু প্রতিটি লেখা প্রকাশের পর নিজের ভুলগুলো খুঁজে ঠিক করার অভ্যাস থাকলে কয়েক মাসের মধ্যেই লেখার মানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়।

Level 0

আমি রক্তিম দাস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 দিন 22 ঘন্টা যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

রক্তিম দাস একজন উদীয়মান লেখক, যিনি তাঁর আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য লেখনশৈলীর জন্য পরিচিত। তাঁর লেখায় সমসাময়িক বিষয়, মানবিক অভিজ্ঞতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের নানা গল্প স্বচ্ছতা ও চিন্তাশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে উঠে আসে। পাঠকদের সাথে স্বাভাবিক সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রক্তিম তাঁর লেখায় এক সতেজ ও আপন মনে হওয়ার মতো কণ্ঠস্বর...


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস