
স্মার্টফোন এখন শুধু বড়দের হাতেই সীমাবদ্ধ নেই—এটি পৌঁছে গেছে অল্পবয়সী শিশুদের কাছেও। পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য অনেক পরিবারেই শিশুরা খুব ছোট বয়সেই নিজের একটি স্মার্টফোন পেয়ে যায়। কিন্তু এই সহজলভ্যতার পেছনে লুকিয়ে আছে কিছু গুরুতর ঝুঁকি, যা সাম্প্রতিক গবেষণায় নতুন করে সামনে এসেছে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ বছর বয়সের আগেই শিশুর হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, এমনকি বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
শৈশব ও কৈশোরের মধ্যবর্তী সময়টি শিশুদের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ১২ বছর বয়সেই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি ৬০ শতাংশের বেশি এবং স্থূলতার ঝুঁকি ৪০ শতাংশের বেশি।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যারা ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করেনি, তাদের তুলনায় যারা এই সময়ের মধ্যে ফোন ব্যবহার শুরু করেছে—তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার বেশি। বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং ঘুমের ঘাটতি—সবকিছুর সঙ্গেই স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এই গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির শুরুতেই স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা তরুণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিশুদের সুরক্ষায় নীতিমালা বা আইনি সীমাবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, যেখানে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই। শিশুদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি।

আমি মো তানজিল সিরাজ সিরাজ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 দিন 8 ঘন্টা যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।