প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা কী করি? ফেসবুক খুলি, ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করি, ব্লগ পড়ি। নিজের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো শেয়ার করি এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি — আমাদের এই মুহূর্তগুলো, আমাদের অনুভূতিগুলো, আসলে কোথায় যাচ্ছে?
আপনি যা টিউন করেন তা শুধু আপনার বন্ধুরা দেখে না — বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানির সার্ভারেও জমা থাকে চিরকালের জন্য।
আমি প্রায় ১২ বছর ধরে টেক সেক্টরে কাজ করে, টেক বিষয়ে পড়ালেখা করে, লেখালেখি করে আমি সোশাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্লাটফরমগুলোর কয়েকটি সিরিয়াস সমস্যা খুঁজে পেয়েছি। এবং আমি নিজে চেষ্টা করেছি সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে বিকল্প একটা বাবস্থা দার করাতে।
নিচে সমস্যাগুলো দিলাম, এবং এই সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে করতে পারি সেটাও দিয়ে দিলাম।
Facebook, Instagram, বিভিন্ন ব্লগ প্ল্যাটফর্ম — এরা সবাই আপনার ডেটা তাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করে। শুধু সংরক্ষণই নয়, এই ডেটা বিশ্লেষণ করে আপনার সম্পর্কে প্রোফাইল তৈরি করে এবং তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে। আপনার ব্যক্তিগত ছবি, লেখা, অনুভূতি — সবকিছু তাদের ব্যবসার কাঁচামাল।
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে নিজের কথা লিখতে গেলে চোখে পড়ে অপ্রাসঙ্গিক টিউন, বিজ্ঞাপণ, অন্যদের হাইলাইট করা জীবন। এই প্ল্যাটফর্মগুলো ডিজাইন করা হয়েছে আপনাকে যতক্ষণ সম্ভব আটকে রাখতে — আপনার নিজের সাথে একান্ত সময় কাটানোর জন্য এগুলো নয়। কিন্তু হিউম্যান ব্রেইন এগুলোর জন্য রেডি না।
মানুষের মনে এমন অনেক কথা থাকে যা সবার সামনে বলা যায় না। আবার অনেকে Facebook এ Only Me করে টিউন করে, কিন্তু সেটাও আপনার জন্য নিরাপদ না, কারণ Facebook এর আপনার সেই ডাটায় ফুল অ্যাক্সেস আছে। ডায়েরি লেখার অভ্যাস অনেকের ছিল, কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই নিরাপদ জায়গাটা হারিয়ে গেছে। ক্লাউড-ভিত্তিক অ্যাপগুলোতে লিখলেও মনে একটা অস্বস্তি থাকে — "কেউ পড়তে পারবে না তো?" এই ভয় অমূলক নয়। অনেকে বলেন ফেচবুক সহ অন্যান্য সাইটের ডাটা চাইলেই নিরাপত্তা সংস্থা এবং সরকার চাইলে অ্যাক্সেস করতে পারে।
প্রতিদিন আপনি প্রকার ছবি তুলেন, ভিডিও করেন, আপনার নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের। সেগুলো ফোন এ থাকে, কিংবা গুগল ফটোস এ ব্যাকআপ হয়। এগুলো আবার সময়মতো খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা ছবিতে শুধু ছবি থাকে না, এর সাথে মুহূর্তটাকে খুঁজে পেতে আপনাকে আরো কিছু মেটা ডাটা লাগে যেমন: ওই সময়ের অনুভূতি, লোকেশন, কিছু ভয়েস নোটস, কিছু টাইটেল, বর্ণনা ইত্যাদি। এগুলোর সম্মিলিত ভাবেই তৈরী হয় একটা মোমেন্ট। ফটোস টাইপ অ্যাপসে এই মোমেন্ট টা অনুপস্থিত।
উপড়ের উল্লেখিত সমস্যার সমাধানের জন্য আমি একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ হাতে নিয়েছিলাম। একটা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানাইছি যেটার নাম Timeline। কাজকর্ম অন্যান্য সোশাল অ্যাপ এর মত, কিন্তু এটা তে উপড়ের সমস্যাগুলোর ক্লিন এবং ভালো একটা সমাধান আছে।
TimeLine একটি সম্পূর্ণ অফলাইন, লোকাল-ফার্স্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। আপনি যা লিখবেন, যত ছবি কিংবা ভিডিও করবেন সব আপনার মোবাইলে থাকবে। আবার এটা পিন এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে সংরক্ষণ করা, কেও চাইলেও ঢুকতে পারবে না। আবার আপনি চাইলে ব্যাকআপ হিসেবে আপনার নিজের গুগল ড্রাইভ কিংবা ড্রপবক্স এ জমা রাখতে পারবেন। আপনার ডাটা আপনার ফোন এবং আপনার ক্লাউড একাউন্ট ছাড়া অন্য কোথাও, অন্য কোনো সার্ভার এ থাকে না। যেকারণে আপনার ডাটা আপনি ব্যাতিরেকে আর কারও দেখার সুযোগ নাই।
আবার এটা আজীবনের জন্য ফ্রি লেয়ার আছে, কোনো অ্যাড কখনো আসবে না, ডেভেলপার হিসেবে আমি আপের প্রো সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করে ইনকাম করি। তবে প্রত্যেক ইউসার ইনস্টল করে প্রথম ২ মাস প্রো ফীচার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।
এই অ্যাপটি দুটো জিনিস একসাথে করে, যা আগে কোনো অ্যাপ করেনি — Moments (ছবিভিত্তিক স্মৃতি) এবং Diary (লিখিত অনুভূতি) একটি একক টাইমলাইনে দেখায়। ঠিক যেভাবে মস্তিষ্ক স্মৃতি ধরে রাখে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা যেকোনো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আপনি যখন কিছু টিউন করেন, মনে রাখবেন — আপনি সেখানে পণ্য, ব্যবহারকারী নন। আপনার ডেটাই তাদের ব্যবসা।
TimeLine এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। এখানে কোনো সার্ভার নেই, কোনো কোম্পানি নেই যে আপনার কথা পড়বে, কোনো বিজ্ঞাপণ নেই যা আপনাকে বিক্ষিপ্ত করবে। শুধু আপনি, আপনার স্মৃতি, এবং আপনার ফোন।
Downloads
TimeLine সম্পূর্ণ বিনামূল্যে Google Play Store-এ পাওয়া যাচ্ছে।
App Link: Timeline
https://play.google.com/store/apps/details?id=app.privatetimeline
Website: https://privatetimeline.app/

আমি সাজেদুল কারিম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 1 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।