
এইচএসসি পাশ করার পর অনেক শিক্ষার্থীর প্রথম প্রশ্ন হয়—“এখন কী করবো?” কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়, কেউ আবার পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য দ্রুত চাকরি খুঁজতে চায়। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে এইচএসসি পাশে চাকরি পাওয়া সম্ভব, যদি সঠিক পথে চেষ্টা করা যায়। এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করবো, কীভাবে একজন এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী তুলনামূলক সহজে চাকরি পেতে পারে।
হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। অনেকেই মনে করেন অনার্স বা মাস্টার্স না করলে ভালো চাকরি পাওয়া যায় না, কিন্তু এটি পুরোপুরি সত্য নয়। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় সেক্টরেই এইচএসসি পাশের জন্য উপযুক্ত চাকরি রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, এনজিও, টেলিকম, রিটেইল, ডেলিভারি সার্ভিস, কাস্টমার সাপোর্ট, ডেটা এন্ট্রি এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টরি বা অফিসে এইচএসসি পাশ প্রার্থীদের চাহিদা সবসময়ই থাকে।
চাকরি খোঁজার আগে নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি ফুল-টাইম চাকরি চান, নাকি পার্ট-টাইম? পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে চান, নাকি পুরোপুরি চাকরিতে ঢুকতে চান? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে জানলে চাকরি খোঁজার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকলে আপনি এলোমেলোভাবে আবেদন করবেন, কিন্তু সাফল্য আসবে না।
এইচএসসি পাশ করার পর যে চাকরিগুলো তুলনামূলক সহজে পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অফিস সহকারী, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, সেলসম্যান, ক্যাশিয়ার, ডেলিভারি ম্যান, কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং রিসেপশনিস্ট। এছাড়া এনজিও বা প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজে এইচএসসি পাশ প্রার্থীদের সুযোগ থাকে।
বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক কাজের চাহিদাও বেড়েছে। ফেসবুক পেজ ম্যানেজমেন্ট, কনটেন্ট মডারেশন, বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং বা অনলাইন সাপোর্টের কাজ এইচএসসি পাশ করেও শেখা যায়।
শুধু সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতা থাকলেই চাকরি পাওয়া সহজ হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন দেখে আপনি কী পারেন, শুধু কতদূর পড়েছেন তা নয়। যেমন কম্পিউটার চালাতে পারা, MS Word বা Excel ব্যবহার জানা, ইমেইল লেখা, ইংরেজিতে সাধারণ কথা বলা—এসব স্কিল থাকলে আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন।
বর্তমানে ইউটিউব, ফ্রি অনলাইন কোর্স এবং সরকারি ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে অনেক স্কিল শেখা যায়। এইচএসসি পাশ করার পর ২–৩ মাস সময় দিয়ে যদি কোনো একটি স্কিলে ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
অনেক এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থী চাকরি না পাওয়ার বড় কারণ হলো দুর্বল সিভি। মনে রাখতে হবে, সিভিই আপনার প্রথম পরিচয়। সিভি খুব বড় হওয়ার দরকার নেই, কিন্তু পরিষ্কার, সহজ এবং প্রফেশনাল হওয়া জরুরি।
সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, যোগাযোগের ঠিকানা, বেসিক স্কিল এবং যদি কোনো ট্রেনিং বা অভিজ্ঞতা থাকে তা সুন্দরভাবে উল্লেখ করতে হবে। বানান ভুল বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নিয়োগকর্তার কাছে খারাপ ইমপ্রেশন পড়ে।
এইচএসসি পাশের চাকরির বিজ্ঞাপণ এখন খুব সহজেই পাওয়া যায়। অনলাইন জব পোর্টাল যেমন Bdjobs, Chakri.com, JobsA1, এবং LinkedIn-এ নিয়মিত চোখ রাখলে অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া ফেসবুকে বিভিন্ন চাকরির গ্রুপেও প্রতিদিন নতুন নতুন বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয়।
পত্রিকায় এখনো অনেক সরকারি ও বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, তাই সাপ্তাহিক চাকরির পাতা দেখাও উপকারী।
বাংলাদেশে এইচএসসি পাশ প্রার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ আছে। যেমন পুলিশ কনস্টেবল, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী পদে এইচএসসি পাশ যোগ্যতা চাওয়া হয়।
সরকারি চাকরির জন্য নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা, সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া এবং ফিজিক্যাল ও লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি।
চাকরি পাওয়ার শেষ ধাপ হলো ইন্টারভিউ। অনেকেই এখানে এসে নার্ভাস হয়ে পড়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ইন্টারভিউ বোর্ড আপনার শত্রু নয়। তারা শুধু দেখতে চায় আপনি কাজটি করতে পারবেন কিনা।
ইন্টারভিউতে পরিষ্কারভাবে কথা বলা, নিজের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস দেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি ইংরেজি জানতেই হবে এমন নয়, কিন্তু যা জানেন তা পরিষ্কারভাবে বলুন।
এইচএসসি পাশ করার পর যারা পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে চান, তাদের জন্য পার্ট-টাইম চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং ভালো অপশন। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে শুরুতে সময় লাগলেও ধীরে ধীরে ভালো আয় করা সম্ভব।
এছাড়া কোচিং সেন্টারে সহকারী শিক্ষক, দোকানে বিক্রয় সহকারী বা রেস্টুরেন্টে পার্ট-টাইম কাজও করা যায়।
চাকরি খোঁজার সময় রিজেকশন আসতেই পারে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি রিজেকশন আপনাকে শেখায় কোথায় উন্নতি করতে হবে। হয়তো আপনার স্কিল বাড়াতে হবে, সিভি ঠিক করতে হবে অথবা ইন্টারভিউ প্র্যাকটিস দরকার।
ধৈর্য ধরে নিয়মিত আবেদন করলে একসময় সুযোগ আসবেই।
এইচএসসি পাশ করার পর সহজে চাকরি পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সামান্য দক্ষতা এবং নিয়মিত চেষ্টা থাকলে যে কেউ চাকরি পেতে পারে। মনে রাখবেন, আজকের ছোট চাকরিটাই আপনার ভবিষ্যতের বড় ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান—সাফল্য একদিন আসবেই।
আমি সাজিদ হাসান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 2 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
আপনার পণ্য ও সেবার ডিজিটাল মার্কেটিং করুন টেকটিউনসের সুবিশাল ৫ কোটি এর সৌশল নেটওয়ার্কে।
Techtunes ADs এর মাধ্যমে টেকটিউনসে ডিজিটাল মার্কেটিং করুন ১০ ধরনের এডভার্টাইজমেন্ট অপশনের মাধ্যমে। দারুন Competitive প্রাইজে আপনার পণ্য, সেবা ও ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপণ দিন আর পান ৩০০% এর ও বেশি রেসপন্স।
টেকটিউনসে বিজ্ঞাপণ দিতে ক্লিক করুন।
সুলভ মূল্যের অসংখ্য এডভার্টাইজমেন্ট প্যাক থেকে বেছে নিন আপনারটি। আপনার পছন্দমত USD কারেন্সিতে পেপাল, ক্রেডিডকার্ড এর মাধ্যমে অথবা BDT কারেন্সিতে বিকাশ, নগদ, উপায়, রকেট, ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে মাত্র একক্লিকে Techtunes AD এর এডভার্টাইজমেন্ট কিনতে ক্লিক করুন Techtunes Buy.
আপনার এই টিউনটি ‘টেকটিউনস স্পন্সরড টিউন’ হিসেবে প্রোমট করুন টেকটিউনস এর সুবিশাল ৫ কোটি+ কমিউনিটিতে এবং ৩০০% এরও বেশি রেসপন্স পান। টেকটিউনস স্পন্সরড টিউন কিনতে ক্লিক করুন এখানে।