বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবন অনেকাংশে ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা স্মার্ট টিভি—সবকিছুই ওয়াই-ফাই রাউটারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। যদিও এই প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ এবং দ্রুত করেছে, তবে অনেকেই জানেন না যে রাউটারের নির্গত রেডিয়েশন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গ মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) নির্গত করে। এটি সাধারণভাবে খুবই হালকা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ক্ষতি করতে পারে। যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে যে স্বাভাবিক ব্যবহারে এটি গুরুতর ক্ষতি করে না, তবে দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শে কিছু সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
রাউটারের রেডিয়েশন থেকে নিরাপদ থাকার উপায়
১. রাউটার দূরে রাখুন
রাউটার ব্যবহারের স্থান থেকে দূরে রাখাই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। শোবার ঘর, বাচ্চাদের খেলার জায়গা বা বসার ঘরের কাছাকাছি রাউটার রাখবেন না। চেষ্টা করুন যে রাউটার একটি উঁচু বা সেন্ট্রাল স্থানে স্থাপন হয়, যেখানে ঘরে বসা অবস্থান থেকে সরাসরি সংস্পর্শ কম থাকে।
২. রাতে বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সময় রাউটার বন্ধ রাখুন
রাতে ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলে শরীরে অতিরিক্ত রেডিয়েশনের সম্ভাবনা কমে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়ও রাউটার বন্ধ রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
৩. ওয়্যারড সংযোগ ব্যবহার করুন
যদি সম্ভব হয়, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য ল্যান কেবল ব্যবহার করুন। এতে রাউটারের নির্গত তরঙ্গের সংস্পর্শ কম হয়। কেবল সংযোগে ইন্টারনেটের গতি স্থিতিশীল থাকে এবং রেডিয়েশন সংস্পর্শ ন্যূনতম হয়।
৪. রাউটারের শক্তি নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেক আধুনিক রাউটারে সিগন্যাল শক্তি নিয়ন্ত্রণের অপশন থাকে। প্রয়োজনে এটি কমিয়ে নিন। কম শক্তিতে রেডিয়েশন কমে, তবে সংযোগের মান ঠিক থাকে।
৫. রাউটার কভার বা শিল্ড ব্যবহার করুন
বাজারে পাওয়া যায় বিশেষ ধাতব বা EMF শিল্ড, যা রাউটারের নির্গত রেডিয়েশন কমাতে সাহায্য করে। এটি রাউটারের কার্যকারিতা প্রায় অক্ষুণ্ণ রাখে, তবে অতিরিক্ত তরঙ্গ নির্গত হওয়া বন্ধ করে।
৬. রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন
সময় সময় রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকলে সংস্পর্শের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পরিবর্তিত অবস্থান শরীরে রেডিয়েশনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
৭. সবচেয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন
রাউটারের জন্য নিরাপদ দূরত্ব সাধারণত ১–২ মিটার বা তার বেশি। এই দূরত্বে বসলে শরীরে তরঙ্গের প্রভাব খুবই কম থাকে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য রাউটার থেকে দূরে বসার অভ্যাস করানো উচিত।
৮. প্রাকৃতিক উপায়ে রক্ষা করুন
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘরোয়া উদ্ভিদ যেমন লিঙ্গুয়া, এলোভেরা, এবং অন্যান্য পাতাযুক্ত উদ্ভিদ EMF রেডিয়েশনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া লোহা, কাচ বা কাঠের প্যানেল দিয়ে রাউটারকে কিছুটা আড়াল করা যায়।
৯. প্রয়োজন ছাড়া রাউটার বন্ধ রাখুন
রাউটার সর্বদা চালু রাখার অভ্যাস কমান। রাতে বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের বাইরে রাউটার বন্ধ রাখলে রেডিয়েশন সংস্পর্শ প্রায় শূন্যে চলে আসে।
১০. সতর্ক ও সচেতন হোন
রেডিয়েশন সম্পর্কে সচেতন থাকুন। ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, কিন্তু নিরাপদ ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিন।
উপসংহার
রাউটার আমাদের ডিজিটাল জীবনকে সহজ করেছে, তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার দিক থেকেও আমাদের সাবধান থাকা প্রয়োজন। উপরোক্ত কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই আমরা রাউটারের রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারি। নিরাপদ ব্যবহারে আমরা প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারি, একই সঙ্গে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারি।
রাউটার ব্যবহারে সচেতন হওয়া মানে নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষা করা। তাই আজই এই সহজ পদক্ষেপগুলো শুরু করুন এবং বাড়ির ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপদ থাকুন।
আমি ইমরুল হাসান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 12 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 9 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।