আজকের সময়ে আমাদের জীবন অঙ্গাঙ্গীভাবে মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত। ফোন আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম, কাজের সহায়ক এবং বিনোদনের উৎস। তবে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। হ্যাকিং, ডেটা চুরি, ম্যালওয়্যার, এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস—এসব সমস্যা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য হুমকি। তাই ফোনকে নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এখানে ১৬টি কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
আপনার ফোনের লক স্ক্রিনে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, প্যাটার্ন বা পিন ব্যবহার করুন। সাধারণ ১২৩৪ বা ‘password’ ব্যবহার না করা শ্রেয়।
২. বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু করুন
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি ব্যবহার করুন। এটি দ্রুত এবং নিরাপদে ফোন আনলক করতে সাহায্য করে।
৩. সফটওয়্যার আপডেট করুন
ফোন এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট করুন। আপডেটগুলোতে নিরাপত্তা ফাঁক বন্ধ হয়।
৪. অজানা Wi-Fi ব্যবহার এড়ান
ওপেন বা পাবলিক Wi-Fi নেটওয়ার্কে সংযোগ দিলে হ্যাকাররা আপনার তথ্য চুরি করতে পারে।
৫. VPN ব্যবহার করুন
পাবলিক নেটওয়ার্কে VPN ব্যবহার করলে আপনার ডেটা এনক্রিপ্টেড থাকে। এটি হ্যাকিং রোধ করে।
৬. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না
অফিশিয়াল স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ম্যালওয়্যার আক্রান্ত হতে পারে।
৭. অনুমতি যাচাই করুন
অ্যাপ যখন ফোনের ডেটা বা ক্যামেরা ব্যবহার করতে চায়, তখন অনুমতি যাচাই করুন। অপ্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়ে ডেটা লিক হতে পারে।
৮. ডেটা ব্যাকআপ রাখুন
মোবাইল ডেটার ব্যাকআপ নিয়মিত রাখুন। ফোন হারানো বা ডেটা ক্ষতি হলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ হয়।
৯. ফোন খোয়া গেলে লোকেশন ট্র্যাক করুন
Android বা iOS-এর ফাইন্ড মাই ডিভাইস ফিচার ব্যবহার করুন। ফোন হারানো বা চুরি হলে তা ট্র্যাক করা যায়।
১০. অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন
বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করলে ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
১১. ব্লুটুথ সতর্কভাবে ব্যবহার করুন
অজানা ডিভাইসের সঙ্গে ব্লুটুথ সংযোগ এড়ান। এটি ডেটা চুরি থেকে রক্ষা করে।
১২. অপ্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক শেয়ারিং বন্ধ করুন
ফোনের হটস্পট, NFC, বা শেয়ারিং ফিচার শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে ব্যবহার করুন।
১৩. সতর্ক থাকুন ফিশিং লিঙ্কে
ইমেইল বা মেসেজে আসা অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। এটি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টা হতে পারে।
১৪. দুটি স্তরের যাচাই ব্যবহার করুন
ব্যাংকিং, সোশ্যাল মিডিয়া বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলিতে 2FA চালু করুন। এটি অ্যাকাউন্ট হ্যাকের সম্ভাবনা কমায়।
১৫. ব্যক্তিগত তথ্য ভাগ করবেন না
ফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বা পরিচয়পত্রের ছবি রাখলে সেগুলো এনক্রিপ্ট করুন বা নিরাপদ স্থানে রাখুন।
১৬. ফোনে দূরবর্তী লক বা ডিলিট ফিচার চালু করুন
ফোন হারানো বা চুরি হলে দূরবর্তীভাবে ফোন লক বা ডেটা মুছে ফেলা সম্ভব।
ফোনের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে না, ব্যবহারকারীর সচেতনতার ওপরও নির্ভর করে। উপরের ১৬টি পদক্ষেপ মেনে চললে আপনার মোবাইল ফোনের ডেটা নিরাপদ থাকবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সম্ভাবনা কমে যাবে। মনে রাখবেন, নিরাপদ ব্যবহারই প্রযুক্তির আসল সুবিধা নিশ্চিত করে।
আমি ইমরুল হাসান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 12 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 8 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।