
আসুন জেনে নেই এয়ারলাইনগুলো বাংলাদেশে কিভাবে কাজ করে।আপনারা এটা জেনে হয়তো অবাক হবেন বাংলাদেশে কোন বিদেশী এয়ারলাইন সরাসরি কাজ করেনা, শুধুমাত্র বাংলাদেশী বিমান কম্পানিগুলো সরাসরি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যেমন বিমান বাংলাদেশ,জি এম জি, ইত্যাদি, তবে সৌদিয়া এয়ার লাইন সরাসরি বাংলাদেশে পরিচালনা করে।
বাহিরের এয়ারলাইলগুলো বাংলাদেশে অন্যকোন কম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা করে, যেমন কুয়েত এয়ারলাইনস, ড্রাগন এয়ার ক্যাথেপ্যাসেফিক, পরিচালিত হয় EXPOLONKA নামের একটা কম্পানির মাধ্যমে, এয়ার এরাবিয়া MGH গ্রুপের মাধ্যমে। বাংলাদেশে Emirates এর পরিচালনাও এর ব্যতিক্রম না।এই কম্পানিগুলোকে জি, এস, এ ( General service Agent) বলে, GSA গুলো সাধারনত Passenger এবং Cargo উভই পরিচালনা করে। তবে PSA গুলো শুধু Passenger নিয়ে কাজ করে।
এবার আসি আসল কথায়, পুরো এয়ারলাইনস এর Administration ( Ticketing & Reservation ) চলে GDS (Global Distribution System) এর মাধ্যমে। পুরো world এ রকম GDS বেশ কয়েকটা রয়েছে যার মধ্যে Amadeus, Galileo, Abacus অন্যতম। তবে সবচেয়ে পপুলার হলো Amadeus. এই সিস্টেমটি অনেকটা আমাদের কম্পিউটারে বায়োসে কাজ করার মত। এই GDS একধরনের software ছাড়া আর কিছুই না। তবে অনেক এয়ারলাইনস এর নিজস্ব software ও থাকে যেমন Malaysia Airlines use করে "COMMAS 4" নামের একটি software.
Malaysia Airlines এর GSA হলো Silkways নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই GDS সিস্টেম সব রকম Travel Agency এর কাছে দেয়া থাকে যার মাধ্যমে এরা তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ Airlines এর টিকিট বিক্রি করতে পারে। তবে এই Travel Agency গুলোকে অবশ্যই International Air Transport Association (IATA) এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হয়। International Air Transport Association (IATA) হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যার মাধ্যমে সারা world এর সব Airlines পরিচালিত হয়।




আসুন এবার জেনে নেই কিভাবে একজন যাত্রির বিমানে ভ্রমোনের পিছনে এই GDS কিভাবে সাহায্য করে। ধরা যাক একজন মালয়শিয়া যাবে, সে প্রথমে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে যাবে এবং তার পছন্দের তারিখ অনুয়ায়ী টিকিটের দাম জানতে চাইবে। তখন ওই ট্রভেল এজেন্সি তার GDS এর মাধ্যমে একটি সিট ধরে তার দাম দেখতে পারেন। এখারে টিকিটের দামের সাথে ট্যাক্স যোগ করে ট্রাভেল এজেন্সি মোট মূল্য জানিয়ে দেয়। এজন্য কোন যাত্রিকে সরাসরি ওই এয়ারলাইন অফিসে যেতে হয়না।
তবে ট্রাভেল এজেন্সি অনেক সময় টিকিটের বাইরে কিছু বেশি টাকা নেয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা সরাসরি এয়ারলাইন অফিসে একদম ফ্রি যেমন, RE-CONFIRM,জানালার পাশে সিট নেয়া, পছন্দ অনুযায়ী খাবার অর্ডার করা ইত্যাদি। ধরে নেই যাত্রি একটি টিকিট ট্রাভেল এজেন্সি থেকে কিনে নিলো, তার মানে এই নয় যে এটা কাগজের টিকিট যা হারিয়ে গেলে মহা বিপদ হয়ে যাবে।
আসলে এটা কোন কাগজের টিকিট না বরং শুধুমাত্র একটি নাম্বার যা হারিয়ে গেলেও সমস্যা নেই , যাত্রি নিজেই এয়ারলাইনস এর ওয়েবসাইট থেকে দেখে অথবা প্রিন্ট করে নিতে পারেন; ইচ্ছা করলে নিজের ইমেইলে নিতে পারেন। এই GDS এর মাধ্যমেই যে কেউ এ টিকিটটি world এর যেকোন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে change করতে পারবেন।
জি, ডি, এস সিস্টেম এর মাধ্যমে একজন যাত্রির টিকিট ইস্যু, টিকিট পরিবর্তন, কার্গো বুকিং, বিমানের খাবার, জানালার পাশের সিট ইত্যাদি বুকিং করা যায়।
এবার কয়েকটি জরুরী কথা বলে ইতি টানছি। বিমানে ভ্রমনের সময় অবশ্যই আপনার টিকিটটি রিকনফার্ম করে নিন এবং ৭২ ঘন্টা আগে আপনার জানালার পাশের সিটটি কনফার্ম করে নিন যা একদম ফ্রি। আর যদি কোন কারনে আপনি আপনার ভ্রমনের তারিখ পরিবর্তন করতে চান তাহলে আগেই ফোন করে তা পরিবর্তন করুন কেননা শেষ মুহুর্তে এয়ারলাইনস আপনার কাছ থেকে তারিখ পরিবর্তন ফির সাথে আরও একটি চার্জ নিবে যার নাম "NO SHOW" ।

আমি আবদুল বাকী। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 15 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 12 টি টিউন ও 198 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
good post.