ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য এখনই আমাদের যেসব ফোনগুলো বাছাই করে নেওয়া উচিত

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলে আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। আমরা যখন একটি নতুন ফোন কিনতে চাই তখন সেটি অনেকে দেখেশুনে কিনে থাকি। সেই ফোনটি কিরকম পারফর্ম করবে, সেই ফোনে কি কি রয়েছে এসব যাবতীয় অনেক কিছু।

আমরা যখন একটি নতুন ফোন কিনি, তখন সেই ফোনটি সম্পর্কে ইউটিউবে অনেক রিভিউ ভিডিও দেখে থাকি। যেসব ভিডিওতে সেই ফোনটির বর্তমানের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স গুলো বলা থাকে। কিন্তু সেই ফোনটি কিছুদিন পর কিরকম পারফর্ম করবে সেটি কিন্তু আমাদের জানা থাকে না। বর্তমানের জন্য কোন ফোন ভালো পারফর্ম করলেও সেটি যে এক-দুই বছর পর সেরকম পারফর্ম করবে এটা কিন্তু বলা যায়না। বর্তমানের জন্য কোন ফোন ভালো হলেও সেটি এক-দুই বছর পর আর আগের মত নাও থাকতে পারে।

কেননা প্রতিনিয়ত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন গুলো যেভাবে ডেভলপ হচ্ছে তাতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তোবা এসব সাধারন ফোনগুলোতে সেসব অ্যাপ্লিকেশন গুলো আর ইন্সটল করাই যাবে না। যাইহোক, এসব বিষয়গুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চলুন তবে আজকের টিউনের সম্পূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে দেখে নেয়া যাক।

ভবিষ্যতের জন্য স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে

Smartphone

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের কোন একটি ফোন কিনতে গেলে আমাদের মাথায় আসে যে, এই স্মার্টফোনটি আয়ু কতদিন হবে। বর্তমানে আমরা যে প্রোডাক্ট ই কিনি না কেন সেটির আয়ু নিয়ে একটি প্রশ্ন আসে। আপনি খেয়াল করে দেখুন যে আজ থেকে প্রায় 5 বছর আগেও যদি আপনি কোন ফোন কিনতেন তখন সেটি কিনে নিশ্চিত হওয়া যেত যে এটি কয়েক বছর অর্থাৎ 4 থেকে 5 বছর অনায়াসেই চালানো যাবে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ফোনটি যদি সর্বোচ্চ তিন বছর চলে যায় তবে আমরা অনেক খুশি হয়ে যাই। কেননা বর্তমানের স্মার্টফোনগুলো বেশিদিন ভালো পারফর্ম করে না।

তাহলে আমরা এটা লক্ষ্য করতে পারছি যে পূর্বের চাইতে বর্তমানের স্মার্টফোনের কিরকম বিবর্তন হয়েছে। তাহলে আমরা যদি একটি বিষয় খেয়াল করি, তাহলে আমরা যখন ফোন কিনব তখন আমরাই নির্দিষ্ট করে নিতে পারব যে আমাদের ফোনটি কতদিন চলবে। কোন ফোনটি কিনলে বেশি দিন চালানো যাবে এবং কোনটি কেনা আপনার জন্য ভালো হবে।

হ্যাঁ, তবে একটি ফোন হাত থেকে পরে গেলো, পানিতে পড়ে গেল অথবা অন্য কোন কারণে নষ্ট হয়ে গেল সেটি অন্য কথা। আপনার একটি স্মার্টফোন বেশিদিন চালানোর জন্য কি কি করা উচিত সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারনা দেবার জন্য আজকের এই টিউন টি। তবে টিউনটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন, আশা করছি এই টিউনটি আপনাদের অনেক উপকারে দেবে। টিউনটি ভাল লাগলে শেষে গিয়ে একটি জোসস করে দিবেন আর আমার টিউনে নতুন হলে উপরে ফলো বাটন এ ক্লিক করে ফলো করে রাখবেন। কেননা উপরের ফলো বাটনটি আপনার জন্যই খোলা হয়েছে।

১. নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে প্রসেসর এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া

Smartphone processor

প্রথমেই বলি যে একটি স্মার্টফোন কতদিন চলবে সেটি নির্ধারণ করে সেই স্মার্টফোনের প্রাণ। একটি ফোনের হার্ড বা প্রাণ যেটিই বলুন না কেন সেটি হচ্ছে তার প্রসেসর। আমরা মানুষ যখন কোন কাজ করি তখন সেই কাজের তথ্যটি প্রথমে মাথায় চলে যায় এবং সেখান থেকে সেটি প্রসেস হয়ে হাত-পা কে নির্দেশ করে সেই কাজটি করবো কিনা। ফোন এর ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম। আমরা যখন কোন কাজের জন্য স্মার্টফোন কে নির্দেশ করি তখন সেটি প্রসেসর এর মাধ্যমে প্রসেসিং হতে থাকে। আমাদের মাথার মতো যদি মোবাইলের প্রসেসর ও ভালো হয় তবে সেই কাজটি কিন্তু খুব দ্রুতই করে দিতে পারবে।

আমরা যখন কোন ফোন কিনতে চাই তখন বেশিরভাগেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনা। আমাদের মধ্যে যারা নতুন ফোন কিনতে যাই, তারা সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে ফোনটিতে কত রেম এবং রম আছে। সেই ফোনের ক্যামেরা টি কিরকম, ফোনটি দেখতে কেমন ইত্যাদি বিষয়গুলো। তবে এসবের চাইতেও যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত তা হচ্ছে এর প্রসেসর, যা কিনা একটি মোবাইলকেই নিয়ন্ত্রণ করে।

অনেকেই বলে থাকে যে আমিতো মোবাইলে কোন গেম খেলি না, সে ক্ষেত্রে আমার ফোনের প্রসেসর কত ভালো হবে তা কিছু যায় আসে না। আমি শুধুমাত্র ওয়েব ব্রাউজিং করব এবং মুভি দেখব ও গান দেখব, যার জন্য বেশি ভালো প্রসেসর নিয়ে কী হবে। এটি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আপনি আপনার মোবাইলে যে কাজই করেন না কেন এর জন্য দরকার ভালো মানের প্রসেসর।

একটি ফোনের প্রসেসর এর উপর নির্ভর করে সেই ফোনের ডিসপ্লে টা কিরকম পারফর্ম করবে। আপনি ডিসপ্লে কত তাড়াতাড়ি Scroll করতে পারবেন, কোন ওয়েবসাইটে কত ভালো Scroll করতে পারবেন এবং সেগুলো কত তাড়াতাড়ি চালু হবে সেটি নির্ভর করে প্রসেসর এর পারফরমেন্সের উপর। এছাড়া আপনার ইন্টারনেটের স্পিড কেমন হবে, আপনার ফোনের ক্যামেরা কতটা ভাল আউটপুট দেবে এসব কিছু নির্ভর করে একটি মোবাইলের প্রসেসর এর উপর। মোট কথা বলতে গেলে প্রসেসর একটি স্মার্টফোনের সর্ব কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।

যেটাকে আমরা প্রসেসর বলে সেটাকে বলে SOC বা System on Chip। যেটির এর মধ্যে সবকিছু লাগিয়ে দেওয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি যদি একটি দুর্বল প্রসেসরযুক্ত স্মার্টফোন কেনেন তবে সেই ফোনটিতে যত বেশি রেম থাকুক এবং যত ভালো ডিসপ্লে ই হোক না কেন সেটি 1 থেকে 2 বছর পর ল্যাক করতে শুরু করবে। এক্ষেত্রে মোবাইলটি হ্যাং হয়ে যাবার কারণে আপনার মোবাইল ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা অনেক খারাপ হয়ে যাবে।

যত দিন যাবে ততো একটি দুর্বল প্রসেসর গরম হতে থাকবে কোন একটি সাধারণ কাজ করলেও। কেননা যত দিন যাচ্ছে ততই ডেভলপাররা তাদের অ্যাপগুলোকে আরো উন্নত করছে। সে ক্ষেত্রে আপনি 2 বছর পরে গিয়ে দেখবেন যে আপনার ফোনে একই অ্যাপ্লিকেশন দুই বছর পরে গিয়ে আর ভালোমতো চলছে না। একই ওয়েবসাইট কিংবা একই অ্যাপ দুই বছর পরে গিয়ে ওপেন করতে গেলে প্রসেসরটি অনেক গরম হয়ে যাচ্ছে। একটি প্রসেসর গরম হয়ে যাওয়া এবং বার বার হ্যাং হয়ে যাওয়ার কারণে এতে করে শুধুমাত্র আপনার এক্সপেরিয়েন্স খারাপ হবে তা নয়, বরং এতে করে আপনার ব্যাটারি ও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

আপনার ফোনের প্রসেসর যদি দুর্বল হয় তবে আস্তে আস্তে কিন্তু আপনার মোবাইলটি হ্যাং করতে শুরু করবে। কেননা আপনি যে সব অ্যাপগুলো রান করাবেন সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে সেটি ভালোভাবে রান করাতে পারবে না। সেগুলোর প্রসেসিং অনেক ধীরগতিতে হবার কারণে আপনার ফোনটিকে অনেক ছোট মনে হবে। মোট কথা বলতে গেলে আপনার ফোনটি সেসময় Slow-ই হয়ে যাবে। আর এমনিতেই সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের সকল যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা আগের চাইতে অনেক হ্রাস পায়।

সময় যাবার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনের প্রতিটা কম্পনেন্ট আস্তে আস্তে খারাপ হয়ে যাবে এবং সেগুলোর কার্যকারিতা শেষের দিকে চলে যাবে। এভাবে করে ঠিক পরের পয়েন্টটি চলে আসে। আর সেটি হচ্ছে ব্যাটারি। একটি স্মার্টফোন কেনার পর পরবর্তীতে সেটি আস্তে আস্তে ধীর গতির হয় কেন সে সম্পর্কে আমার পূর্বের একটি টিউন রয়েছে। মোবাইলসহ সম্পর্কিত সেই টিউনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

২. নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে ব্যাটারির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া

একটি ফোনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকে ব্যাটারি। ব্যাটারি যেকোনো সময় পাল্টিয়ে নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে এটি প্রসেসর এর মত নয় যে এটি যেকোনো সময় পাল্টানো যাবে না। তবে একটি ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেটিকে নতুন করে লাগানো অনেক ঝামেলা পূর্ণ মনে হয়। দুই বছর পরে গিয়ে একটি ফোনের ব্যাটারি পাল্টানোর চাইতে একটি নতুন ফোন কিনে নেওয়াই ভালো। কেননা একটি ফোন 2 বছর চালানোর পরে সেটি আর চালাতে মন চায় না এবং অন্য কোন ফোন ব্যবহার করার ইচ্ছা জাগে।

যদি কোন ফোনের ব্যাটারি কে পাল্টানো হয়, বিশেষ করে যেখানে যে ফোনে ইন্ড বিল্ড ব্যাটারি রয়েছে সেটির ব্যাটারি পাল্টানোর ক্ষেত্রে ফোনের অনেক কিছুর পারফরম্যান্স কমে যায়।

একটি ফোনের ব্যাটারি কত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে তা নির্ভর করে সেই ফোনটির কিছু বিষয়ের উপর। এই ফোনটিতে ফাস্ট চার্জিং আছে কিনা, আপনার ফোনটি কত গরম হচ্ছে, আপনি যে এলাকায় বসবাস করেন সে এলাকার আবহাওয়া কেমন, সেই এলাকায় আবহাওয়া খুব বেশি গরম কিংবা খুব বেশি ঠান্ডা কিনা। এসব অনেক কিছুর ওপর এই একটি ফোনের ব্যাটারির পারফরম্যান্স নির্ভর করে। এছাড়া আপনি আপনার ফোনটি কতটা ব্যবহার করছেন সে প্রভাব তো আপনার ব্যাটারির ওপর পড়বেই।

এজন্য আপনার দ্বিতীয় যে বিষয়টি ভাবা উচিত তাহলো আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি। বর্তমানে আমাদের মনে হতে পারে যে একটি ফোনের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি 4000 এমএইচ হলেই যথেষ্ট। এছাড়া আমার ফোনে তো ফাস্ট চার্জিং সুবিধা আছেই। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন যে এখন থেকে দুই বছর পরে গিয়ে বর্তমানের অ্যাপ গুলো আরো বেশি ব্যাটারি খেতে চাইবে এবং প্রসেসর ও আরো বেশি কাজ করতে চাইবে, প্রসেসর অতিরিক্ত কাজ করতে চাইবে এবং এতে করে ব্যাটারির চার্জ বেশি খরচ হবে। তখন কিন্তু মোবাইলের ব্যাটারি টি আরো পারফর্ম কম করবে।

এখানে ব্যাটারি এবং প্রসেসর বেশি খরচ হওয়ার কারণ আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। যেখানে বর্তমানে আমরা যেসব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন গুলো ব্যবহার করি সেগুলো কিছুদিন আগেও ছিল খুব সাধারণভাবে তৈরি। উদাহরণস্বরূপ আপনি ধরুন Shareit এর কথাই, যেখানে প্রথমদিকে আপনি ছিল মাত্র 4 থেকে 5 মেগাবাইট মাত্র। কিন্তু বর্তমানে সেই অ্যাপটির দৈর্ঘ্য গিয়ে দাঁড়িয়েছে 40 মেগাবাইট এর উপরে। এখানে এই বিষয়টি খুব পরিষ্কার যে প্রতিনিয়ত অ্যাপগুলোকে ডেভলপাররা আরো উন্নত এবং বড় করার চেষ্টা করছে।

একটি অ্যাপ শুধুমাত্র মেগাবাইটেই বড় হয় না। কোন একটি অ্যাপকে যখন আরো বড় করা হয় তখন সে অ্যাপটি রান হওয়ার জন্য ফোনের প্রসেসিং পাওয়ার কে বেশি খরচ করে এবং যা সেই ফোনের ব্যাটারির ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে ধরলাম যে বর্তমানে আমাদের ব্যাটারিটি অনেক বেশি ক্যাপাসিটির। কিন্তু এটি হয়তোবা আগামী দুই বছর পরে গিয়ে দাঁড়াবে সাধারণ ফোনের ব্যাটারির মত, যেখানে চার্জ খুব দ্রুতই শেষ হতে থাকবে। তখন বেশি এমএএইচ ব্যাটারি থাকলেও কোন কাজ হবে না, এক্ষেত্রে তখনকার সময়ের জন্য দরকার অনেক ভালো ক্যাপাসিটির একটি ব্যাটারি।

স্বাভাবিকভাবে একটি স্মার্টফোনের বয়স হবার সঙ্গে সঙ্গে সেটির ব্যাটারির পারফর্মেন্স ও কমে যেতে থাকে। তার উপর আবার যদি প্রতিনিয়ত আমাদের ব্যবহার করা অ্যাপগুলো বড় হতে থাকে তাহলে কিন্তু ব্যাটারির চার্জ খরচ হতে বেশি সময় লাগবে না।

কিছুদিন আগেও যেখানে একটি 3000 এমএএইচ এর ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল অনেকক্ষণ চালানো যেত, সেখানে বর্তমানের চার থেকে পাঁচ হাজার এমএএইচ যুক্ত ব্যাটারি গুলো একটি সাধারণ মোবাইল মাত্র। কেননা সময় পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের কার্যক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে এবং যার জন্য দরকার বেশি শক্তির। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে, আমরা যখন প্রথমদিকে স্মার্টফোন ব্যবহার করা শুরু করেছি তখন একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে দুই থেকে তিন হাজার এমএএইচ ব্যাটারি ছিল অনেক। সেখানে বর্তমানে দুই কিংবা তিন হাজার এমএএইচ ব্যাটারি দিয়ে চলবে না। এজন্য চাই বেশি এমএএইচ যুক্ত উন্নত ব্যাটারি।

কেননা বর্তমানের অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে চালানোর জন্য বেশি শক্তির প্রয়োজন যা 2000 থেকে 3000 এমএএইচ ব্যাটারি দিয়ে সম্ভব নয়। যদিও এটি সম্ভব, কিন্তু এক্ষেত্রে মোবাইলের চার্জ কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বর্তমান সময়ে 3000 এমএএইচ ব্যাটারি দিয়ে পাবজি খেলা শুরু করেন তবে আপনার মোবাইলের চার্জ কোন দিক দিয়ে যাবে তা বুঝতে পারবেন না। কেননা পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ার খেলার সময় সে সব অ্যাপগুলো রান করাতে অতিরিক্ত চার্জের প্রয়োজন পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ব্যাটারির ওপর এবং এতে করে মোবাইলও অনেক গরম হয়ে যায়।

এছাড়া আপনি যদি আরো একটি বিষয় ভাবেন যে বর্তমান সময়ে যদি এইসব গেমগুলো মোবাইলে প্লে করতে এত পরিমান চার্জ খরচ হতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে যখন এসব অ্যাপকে আরো উন্নত করা হবে তখন সেগুলো মোবাইলে রান করাতে আরো কিরকম পরিমাণ ব্যাটারির দরকার পড়বে। শুধু গেমের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আমাদের ব্যবহার্য সকল অ্যাপ্লিকেশন গুলোই দিনদিন অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। সে দিক থেকে বলতে গেলে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি নির্বাচন করা উচিত।

আমরা এটা সকলেই জানি যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি এর কার্যক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যায়। মোবাইল কেনার সময় যদি একটি 6000mAh এর ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল কেনা হয় তবে সেক্ষেত্রে প্রথমদিকে যেখানে এটি 6000mAh এর মত কাজ করবে, সেখানে এক বছর পর সেটি কাজ করবে 5000mAh এর মত। কিন্তু এক বছর পরে আপনার ব্যবহৃত অ্যাপগুলো পূর্বের মত কাজ করবে না, সেগুলো ঠিকই পূর্বের চাইতে আরো বেশি পাওয়ার খরচ করবে। যে কারণে কিন্তু প্রতিনিয়ত মোবাইলের চার্জ আগের চাইতে বেশি পরিমানে খরচ হয়।

তাই নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে এখনই ব্যাটারীতে ইনভেস্ট করা ভালো। এখন যতটা পারবেন বড় ব্যাটারি যুক্ত করা কিনবেন। যাতে করে ভবিষ্যতের জন্য আপনার মোবাইলে অ্যাপ গুলো চালানো সহজ হয়।

তবে একটি ফোনের ব্যাটারি সারা জীবন ভাল পারফর্ম করে না। দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে সেটির পারফরম্যান্সও আস্তে আস্তে কমে যায়। এছাড়া একটি ফোনের ব্যাটারি দ্রুত খারাপ হয়ে যাবার কারন হতে পারে যে মোবাইলটিতে সঠিকভাবে চার্জ দেওয়ার পদ্ধতি না জানা। কিভাবে মোবাইলের সঠিকভাবে চার্জ করতে হয় সে নিয়ে আমার পূর্বের একটি টিউন রয়েছে। সেই টিউনটির লিঙ্ক এখানে

এছাড়া আমাদের এই স্মার্টফোনটি অনেক সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। আপনার স্মার্টফোনটি কেন গরম হয় এবং গরম হলে কী করবেন সে বিষয় নিয়ে আমার পূর্বের টিউন এই লিঙ্কে

৩. নতুন মোবাইল কেনার সময় Ram এবং Rom নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া

আপনি গেম খেলুন নাকি অন্য কাজ করুন আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন বেশি Ram মোবাইল কেনার। আজকে আপনার কাছে যে Ram টি অতিরিক্ত মনে হচ্ছে দুই বছর পরে গিয়ে Ram টি অনেক কম মনে হবে। ভবিষ্যতে আপনার ফোন যেন হ্যাং না করে এবং ল্যাক না করে সেজন্য বেশি Ram যুক্ত মোবাইল কেনাইই ভালো। আজকে আপনি যে টাকা Ram এর জন্য বেশি খরচ করছেন সেটি এখন অনেক বেশি মনে হতে পারে, তবে যদি দুই বছর পর ফোনটি পরিবর্তন করতে হয় তাহলে কিন্তু টাকাটি অনেক বেশি হয়ে যাবে।

তাই আমার মতে সব সময় বেশি Ram যুক্ত মোবাইল কেনা উচিত। এক্ষেত্রে আমরা আন্দাজ ও করতে পারিনা যে দুই বছর পরে গিয়ে একটি ফোন চালাতে তখনকার সময়ে কিরকম Ram এর দরকার পড়বে। হতে পারে যে এখন 4gb কিংবা 8gb অনেক বেশি মনে হচ্ছে, কিন্তু দেখা গেল যে তখন গিয়ে সে Ram যুক্ত মোবাইল দিয়েও চলছে না। তাই এখনই মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে Ram পেছনেও ইনভেস্ট করা উচিত।

বেশি বড় রেম যুক্ত স্মার্টফোন কেনার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভবিষ্যতের ফোনগুলোর অ্যাপ যেন ভালোভাবে রান করানো যায়। সেসব বড় অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িক প্রসেসিং করার জন্য অতিরিক্ত Ram এর দরকার পড়বে। আমাদের ব্যবহার করা অ্যাপগুলো ভবিষ্যতে কিন্তু আর এরকম থাকবে না। অ্যাপ ডেভেলপারেরা সে গুলোকে আরো উন্নত করে আপডেট করতে থাকবে। যার জন্য আমাদের বেশি Ram যুক্ত ফোন কেনা উচিত হবে।

এছাড়া Ram এর পাশাপাশি আপনার ফোনের রম কেও বেশি দেখে কেনা উচিত। যেটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতে আপনার অপরদিকে ফাস্ট রাখবে। ফোনের কম স্টোরেজ কম হবার কারণেই কিন্তু মোবাইল অনেক সময় হ্যাং করে। এছাড়া আপনার ফোনে যদি কোন নিম্নমানের কোয়ালিটির এসডি কার্ড লাগানো থাকে তবে সেটি আপনার মোবাইলকে ভয়ানক রকমের স্লো করে দিতে পারে। কেননা আমরা যখন সেখানে কোন ফাইল রাখি এবং সেখান থেকে যদি সেগুলো ওপেন করি তবে সেখান থেকে রিড এবং রাইট স্পিড অনেক কম হবে।

রিড এবং রাইট স্পিড কম হওয়ার কারণে ফোনটিকে অনেক ছোট মনে হবে। যে কারণে আমাদের উচিত হবে যে একটি স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে যেন সেই মোবাইলে রম অনেক বেশি থাকে। যাতে করে আমাদের বাইরে থেকে কোন এসডি কার্ড লাগাতেই না হয়। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন যে অনেক ফ্লাগশিপ ফোন গুলোতে এসডি কার্ডের অপশন দেওয়া থাকে না। কেননা সেসব ফোনে যদি এইচডি কার্ড এর অপশন দেওয়া থাকতো তবে বাহিরে থেকে কোন খারাপ কোয়ালিটির এইচডি কার্ডট লাগালে ফোনটি অনেক স্লো মনে হবে।

আপনারা এটি নিজের মোবাইলে ও লক্ষ্য করে দেখে থাকবেন যে, যদি মোবাইলের ফোন মেমোরি বা রম ভর্তি হয়ে যায় কিংবা মোবাইলের ফোন মেমোরি ছোট হয় তবে আপনার মোবাইলটি হ্যাং করছে। এর কারণ হচ্ছে যে, আপনি যখন কোন অ্যাপ রান করছেন তখন সেগুলো কিন্তু আপনার মেমরি স্টোরেজ থেকেই রান হচ্ছে। এটিকে আপনাকে আরও সহজভাবে উদাহরণ দেওয়া যায়।

আমরা যখন ডেক্সটপে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করি তখন সেই সফটওয়্যার টির ছোট্ট একটি ফাইলকে আমাদের ওপেন করতে হয়। যেটি থেকে মাত্র কয়েক কিলোবাইট। সেটিতে ক্লিক করে সেই আপনি পূর্ণাঙ্গ সেটআপ দেবার পর আমরা অ্যাপটি ব্যবহার করা শুরু করি। কিন্তু আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, এই অ্যাপটি মাত্র কয়েক কিলোবাইট দিয়েই কি তৈরি? এর উত্তর হবে মোটেই না।

আমরা যখন ডেক্সটপে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার জন্য Setup দেই, তখন সেখানে ক্লিক করার পর সেই অ্যাপটির অন্যান্য ফোল্ডার থেকে তথ্যগুলো একে একে যেতে থাকে। এখানে আপনি যখন অ্যাপটি ইন্সটল করে কোন কাজ করেন, যেমন ধরুন আপনি মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড এর ভেতরে গিয়ে কোনো একটি লেখার ফ্রন্ট পরিবর্তন করবেন। তখন আপনি সেই অপশনে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার হার্ডডিক্স এর সেই ফোল্ডার থেকে সেই প্রোগ্রাম অনুযায়ী ডাটাটি নিয়ে তা আবার আপনাকে আউটপুট হিসেবে দেখাবে।

এখানে সম্পূর্ণ কাজটি হবে আপনার হার্ডডিক্সে থাকা ফাইলগুলো অ্যাক্সেস করার মাধ্যমে। ঠিক একই রকম ভাবে আপনার মোবাইলে যখন অফলাইনে রান করেন তখন সেই অ্যাপটির ফাইলগুলো থেকে তথ্যগুলো নিয়ে অ্যাপের মধ্যে আপনাকে দেখায়। ডেক্সটপ এর মত এই প্রক্রিয়াটি আপনি পাবজি কিংবা ফ্রী ফায়ার ইনস্টল করার সময় দেখতে পারেন। যেখানে এসব অ্যাপ্লিকেশন গুলোর ভেতর থেকে কয়েকশ এমবি ফাইল ডাউনলোড করতে হয়। যে ফাইলগুলো আপনার স্টোরেজে থেকে যায় এবং আপনি যখন গেমটি প্লে করেন তখন আপনার স্টোরেজ থেকে সেই ডেটাগুলো রিড এবং রাইট হবার মাধ্যমে গেমটি পরিচালনা হয়।

এবার তবে আপনি বুঝতেই পারছেন যে একটি ফোনের স্টোরেজ ডিভাইস কে কতটা ফাস্ট হওয়া দরকার। পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ার গেম খেলার সময় সেই ফাইলগুলো যদি আপনার মোবাইলের দুর্বল এসডি কার্ডে থাকে তবে কি রকম সমস্যা হবে এবার আপনি বুঝতে পারছেন। খেলার সময় সেসব ডেটা গুলোকে মেমোরি থেকে রিড এবং রাইট করতে অনেক ধীর গতি হবে এবং গেমটিতে ল্যাক করবে।

একই ফাইলগুলো যদি আপনার মোবাইলের ফোন মেমোরি অর্থাৎ রমে থাকে, এবং আপনার ফোনে যদি এরকম কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা থাকে যেগুলোর ফাইল অনেক বড় তবে কিন্তু অল্পতেই আপনার ফোন মেমোরিটি ভরে যাবে। বর্তমানে আমরা মোবাইলে অনেক অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে রাখি যেগুলো আমাদের স্টোরেজের অনেকটা জায়গা দখল করে। তাই আপনি যখন একটি স্মার্টফোন কিনবেন তখন সেই মোবাইলের স্টোরেজ এর উপর গুরুত্ব দিবেন।

৪. নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে ডিসপ্লে এর দিকে নজর দেওয়া

Mobile display

নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে আমি আরো যে বিষয়টি বলবো তা হচ্ছে, আপনি যে বাজেটে মোবাইল কিনবেন সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন সেই বাজেটের মধ্যে ফুল এইচডি যুক্ত ডিসপ্লে নেবার। আজকে হয়তোবা আপনি খুব বেশি তফাৎ অনুভব করছেন না, কারণ আজকে আপনি অতটা জানেন না। এইচডি প্লাস ডিসপ্লে আপনি 2 বছর পরে গিয়ে আর ব্যবহার করতে চাইবেন না। আপনার কাছে সেটি একটি জঘন্য এক্সপেরিয়েন্স হবে।

তাই আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই আপনাকে এইচডি প্লাস এর ডিসপ্লের বদলে একটি ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে বাছাই করা উচিত হবে। যেখানে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো বাজেট ফোনের মধ্যেই ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে দিচ্ছে। যেখানে আপনি একটু অনুসন্ধান করার মাধ্যমে আপনার কাঙ্খিত ডিসপ্লেটি খুঁজে নিতে পারেন।

বন্ধুরা আমরা অনেক টাকা দিয়ে একটি স্মার্টফোন কিনে থাকি। তবে স্মার্টফোন আমদানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক বেশি পরিমাণে ট্যাক্স নিয়ে থাকে। স্মার্টফোন আমদানি করার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ট্যাক্স কেন নেওয়া হয় সে সম্পর্কে আমার পূর্বের একটি টিউন রয়েছে। সেই টিউনটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।

৫. সেই স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এর সফটওয়্যার আপডেট সম্পর্কে ধারণা নেওয়া

সর্বশেষ ধাপে যে বিষয়টি সম্পর্কে বলব তাহলো, স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ইউজার ইন্টারফেস (UI) এর ব্যাপারে একটু খোঁজখবর রাখুন। আপনি দেখুন কোন স্মার্টফোন কোম্পানি গুলো ঠিকঠাক সফটওয়্যার আপডেট দেয়। সফটওয়্যার আপডেট এমন একটি বিষয় যে, আপডেট যদি খারাপ আসে তবে রাতারাতি আপনার সেই মোবাইল ব্যবহার করার এক্সপেরিয়েন্স খারাপ হয়ে যেতে পারে। আজকেই আপনার ফোনের ক্যামেরা টি হয়তোবা অনেক সেরা ক্যামেরা, কিন্তু সফটওয়্যার আপডেট এর পরে সেটি অনেক খারাপ ক্যামেরা হয়ে যেতে পারে।

অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাং এর মত কোম্পানিগুলো চেষ্টা করে একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যেন দীর্ঘদিন তাদের ফোনটি ব্যবহার করে। আর অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো ভাবে যে তাদের ব্যবহারকারী যেন দ্রুত তাদের ফোনটি বদলে নেয়। কিন্তু অ্যাপল, গুগল কিংবা স্যামসাং এর মত কোম্পানিগুলো চাইবে যে ব্যবহারকারী যেন একটি ভালো এক্সপেরিয়েন্স পায়। সে যেন সব সময়ই তাদের প্রোডাক্ট ব্যবহার করে। আপনি যেন পাঁচ বছর তাদের ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন এবং এতে করে তারা পরবর্তীতে আপনার কাছে যেন কোন সার্ভিস বিক্রি করতে পারে।

কোন কোম্পানি কিন্তু স্মার্টফোন বিক্রি করেই সব টাকা উপার্জন করে না। তাদের মেইন ফোকাস থাকে একটি ফোন বিক্রি করে ব্যবহারকারীকে তাদের ফোনের এক্সপেরিয়েন্স কে তুলে ধরা এবং সেই সার্ভিস এর মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। তাই আপনি যদি এখন একটি অ্যাপেলের ফোন কেনেন, এক্ষেত্রে তারা চাইবে যে আপনি আগামী পাঁচ বছর সেই ফোনটি ব্যবহার করেন। যাতে আপনি আগামী পাঁচ বছর অ্যাপলের সার্ভিস ব্যবহার করবেন এটা নিশ্চিত থাকে।

যদি আপনার ফোনটি কিছুদিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে যায় তবে এসময়ের মধ্যে আপনি অন্য কোন ফোনও তো কিনে নিতে পারেন। অ্যাপল সেই ঝুঁকিটি নিবে কেন। তারা চাইবে যে আগামী পাঁচ বছর আপনাকে ভালো সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সেস দিতে। যাতে করে আপনি শুধুমাত্র অ্যাপেল এর সার্ভিস ই ব্যবহার করেন।

তাই কোন কোম্পানি গুলো ঠিকমতো সফটওয়্যার আপডেট দেয় সেটি খেয়াল রাখুন। কোন কোম্পানি গুলো সব সময় চেষ্টা করে যে সফটওয়্যার আপডেট দেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরো বাড়ানো যায়। এক্ষেত্রে আপনি স্যামসাং কিংবা অ্যাপেল এর মতো প্রতিষ্ঠানের ফোন ব্যবহার করতে পারেন।

৬. স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড সিলেক্ট করা

Smartphone brand

আমরা বাঙালিরা যখন কিছু কিন্তু এখন দেখিযে বাজারে কোন বিষয়টি ভালো চলছে। আমরা সবসময় ভাইরাল জিনিসকেই পছন্দ করতে চাই। এটি হতে পারে কোন সিনেমা থেকে শুরু করে কোন পণ্য সামগ্রী। তবে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো ব্র্যান্ড দেখে কেনা উচিত। বাজারের কোন ব্রান্ডের ফোনটি ভালো চলছে সেটি দেখা উচিত হবে না। কেননা স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো সেসব ইউটিউবারদের কে সেসব ফোন রিভিউ এর জন্য পাঠিয়ে থাকে যেখানে তারা সবসময় সে ফোনটির পক্ষেই বলতে পছন্দ করবে।

এছাড়া যদি কোন ইউটিউবার সেই ফোনটি সম্পর্কে কোন বাজে অভিজ্ঞতার কথা বলেও থাকে কিন্তু দেখবেন যে কোন এক সময় ইউটিউবারেরা সবাই প্রায় একটি ব্র্যান্ড নিয়ে রিভিউ ভিডিও তৈরি করছে। যেখানে সবাই মিলে একটি ব্র্যান্ড কে ভাইরাল ব্র্যান্ডে পরিণত করেছে। যেখানে আপনি কিছু দিন দেখবেন যে রিয়েলমি নিয়ে সবাই মাতামাতি করছে, তো আরেকদিন সবাই মিলে শাওমি নিয়ে রিভিউ তৈরি করছে।

যাইহোক, আমি সকল স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এর মোবাইল ব্যবহার করে দেখিনি। যে কারণে আমার অতটা অভিজ্ঞতা নেই মোবাইল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি যে, আপনি যদি বাজেট এর মধ্যে স্যামসাং এর ফোনগুলো ব্যবহার করেন তবে সেখান থেকে খুব ভালো এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। যেখানে ইউজার ইন্টারফেস এবং সফটওয়্যার আপডেট অনেক ভালো হয়।

এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনার ভালো ফোন কেনা উচিত। তো বন্ধুরা আজকের এই টিউনে এই বিষয়গুলোই শেয়ার করার ছিল। কিন্তু শেষ করার আগেই আপনাদেরকে আবারও মনে করে দিচ্ছি যে, টিউনটি ভাল লাগলে জোসস করে দিবেন। আজ তবে এখানেই শেষ। দেখা হবে আগামীতে কোন নতুন টিউন ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 115 টি টিউন ও 50 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 13 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস