স্মার্টফোন আমদানিতে যে কারণে শুল্ক এত বেশি নিয়ে থাকে

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই?

বর্তমানে বাংলাদেশে অফিসিয়াল কোন স্মার্টফোন কিনলে অথবা বিদেশ থেকে কোন ফোন নিয়ে আসলে তাহলে সেই স্মার্টফোনটির উপর প্রায় ৫৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। অর্থাৎ কোন একটি মোবাইলের দাম যদি একশ টাকা হয় তবে সে মোবাইলটির জন্য সরকারকে দিতে হবে ৫৭ টাকা। যা অন্যান্য দেশ এবং আগের চাইতে অনেক বেশি ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। যেটি কিনা পূর্বের বছরের চাইতে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে মোবাইল আমদানিতে এর উপর আমদানি শুল্ক ১০% থেকে ২৫% শতাংশ এবং ভ্যাট সহ মোট শুল্ক ৫৭%।

তবে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলে অতিরিক্ত কোন টাকা সরকারকে দিতে হয় না। সরকারকে ট্যাক্স বা ভ্যাট না দিয়ে দেশের বাজারে যেসব ফোন প্রবেশ করে সে গুলোকে আনঅফিসিয়াল ফোন বলা হয়। আনঅফিসিয়াল ফোন নিয়ে আমার করা আগের একটি টিউন রয়েছে আপনারা চাইলে সেটিও দেখে আসতে পারেন। টিউনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

তো এবার প্রশ্নই আসে যে কেন এমনটা হয় এদেশে। আমাদের দেশে কেন মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে এত ভ্যাট নেয়া হয়? এখানে বলে রাখা ভালো যে সব দেশেই কিন্তু এরকম কম কিংবা বেশি শুল্ক নেওয়া হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই টিউনে। তবে এজন্য মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ টিউনটি পড়তে থাকুন।

আমাদের দেশে মোবাইল আমদানিতে কেন এত বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়?

একই মডেলের কোন ফোন যদি অন্য কোন দেশে বিক্রি করা হয় ১০ হাজার টাকায় তবে সেটি বাংলাদেশ থেকে নিতে হবে প্রায় ১৫ হাজার টাকার চাইতেও বেশি দাম দিয়ে। কেন এমনটি করেছে বাংলাদেশ সরকার?

স্মার্টফোনের এই বাড়তি দাম এর কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত শুল্ক। আর এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে যেন বাংলাদেশে সেসব মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো নিজেদের কারখানা স্থাপন করে এবং তাদের ফোনগুলোকে এ দেশেই উৎপাদন করে। আর কোন কোম্পানি যদি এদেশে কারখানা স্থাপন করে সেক্ষেত্রে অবশ্যই এদেশের লোকবল লাগবে তাদের কারখানাতে কাজ করাতে। স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলোর কারণে যাতে করে এদেশে বড় একটি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সে লক্ষ্য নিয়েই এমন শুল্ক আরোপ করার যৌক্তিকতা রয়েছে। যার ফলে দেশে বেকারত্ব দূর হবে।

এছাড়া কোন দেশ যদি এদেশে কারখানা স্থাপন করে এবং সেসব ডিভাইসগুলো দেশের বাজারের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে তবে সরকার এখান থেকেও কিন্তু ভালো একটি সুবিধা পাবে। এসব কারণেই মূলত এদেশে মোবাইল আমদানির ক্ষেত্রে এত বেশি পরিমান ট্যাক্স নিচ্ছে। যাতে করে আমদানিকারকেরা অথবা স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারকরা বাহিরের দেশ থেকে কোন ফোন দেশে আমদানি না করে। এই কৌশলটি কিন্তু একটি দারুন কাজে দিয়েছে।

এখানে সরকার একটি কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। অতিরিক্ত ভ্যাট নেবার কারণে বিদেশ থেকে স্মার্ট ফোন আমদানী অনেক কমে যাবে। যার প্রভাব পড়বে বাজারে মোবাইলের বাজারে। একই ফিচার সমৃদ্ধ মোবাইল ফোনগুলো বাজারের অন্যান্য ফোনগুলোর চাইতে বেশী দামে কিনতে হবে। যেটি কিন্তু কোন গ্রাহকই চাইবে না। এতে করে লাভবান হবে স্থানীয় মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো। তারা দেশের ভেতরে সরকারের এই আমদানি শুল্ক থেকে বেঁচে যাবার কারণে কম দামেই বাজারে স্মার্টফোন বিক্রি করতে পারবে। এতে করে দেশীয় প্রযুক্তি এবং ব্রান্ডগুলোর বিকাশ লাভ করবে। এ ছাড়া এদেশে যারা তাদের নিজস্ব কারখানা তৈরি করবে সেখান থেকেও কম শুল্কে অফিসিয়াল স্মার্টফোন বাজারে ছাড়তে পারবে।

দেশীয় ব্র্যান্ড গুলোর মত বিদেশি ব্রান্ড গুলোও তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি পাবার জন্য অবশ্যই নিজেদের কারখানা স্থাপন করবে। যার ফলে কিন্তু দেশ অনেকটাই অগ্রগতি লাভ করবে।

চলুন তবে এবার জেনে নেওয়া যাক যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কা এর ক্ষেত্রে মোবাইল আমদানি এর ভ্যাট কত?

ভারতের বাজারে যদি কোন স্মার্টফোন আমদানি করতে হয় তাহলে সে দেশের সরকারকে ৩২% ভ্যাট দিতে হবে। যেটি মিয়ানমারের বাজারে ১৭% ও শ্রীলংকার বাজারে ৯%। যেটি কিনা মালয়েশিয়ার বাজারে ৫% ভ্যাট দিতে হয়। এসব থেকে আমরা দেখতে পারছি যে, বাংলাদেশের মতো এত বেশি পরিমাণে ভ্যাট অন্য কোন দেশে আর দিতে হয় না।

ব্যাবসায়িক সুবিধার জন্য অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও শাওমি, ভিভো ও অপো এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দেশে কোম্পানি স্থাপন করেছে। যার ফলে ইন্ডিয়াতে যে ভ্যাট আইন রয়েছে সে অনুযায়ী তাদেরকে ভ্যাট দিতে হয়। এসব ব্র্যান্ডগুলো যেগুলো ভারতের বাজারে তৈরি হয় সেগুলো সে দেশে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। তবে বাহিরের দেশ থেকে যেসব ফোনগুলো আমদানি হয় সেগুলো অনেক দামী হয়ে থাকে। যেমনটি অ্যাপলের আইফোনের ক্ষেত্রে হয়। অ্যাপেলের ফোন ভারতে আমদানি করতে সে দেশের ব্র্যান্ড অনুযায়ী অনেক দামে বিক্রি হয় অন্যান্য দেশের তুলনায়। যেটি কিন্তু বাংলাদেশেও হয়।

নিজের দেশে কারখানা স্থাপন করার জন্যই মূলত কোন দেশের সরকার সেদেশে মোবাইল আমদানি এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এছাড়া আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড এর প্রতি মানুষের চাহিদা বাড়াতে ও স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ সবক্ষেত্রেই সরকারের লাভ হয়ে থাকে। একদিকে যেমন নিজ দেশে কারখানা স্থাপন করার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হওয়া, আমদানি নির্ভরতা কমা, রাজস্ব আদায়, দেশীয় ব্র্যান্ড এর প্রসার সহ যাবতীয় উন্নয়ন সাধিত হয়।

আমদানি শুল্ক বাড়ানোর কারণে এ দেশে মোবাইল সংযোজন এবং উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কয়টি গড়ে উঠেছে। যে কাজটিতে অনেকটা সফল হওয়া গিয়েছে। যদিও বাংলাদেশী কিছু ব্রান্ড ইতিমধ্যেই তাদের কারখানা স্থাপন করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে চাহিদার 82% মোবাইল তৈরি হচ্ছে, দেশের মোট নয়টি মোবাইল কারখানায়। বাংলাদেশের উৎপাদন করা এসব স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি এর মধ্যে রয়েছে স্যামসাং, সিম্ফনি, টেকনো, আইটেল, ইনফিনিক্স, ওয়ালটন, ভিভো, অপো, রিয়েলমি, ফাইভস্টার ইত্যাদি ব্র্যান্ডের ফোন।

তবে এসব ব্রান্ড এদেশে স্মার্টফোন প্রস্তুত করলেও অন্যান্য ব্র্যান্ড গুলোকে দেশের বাজারের মোট চাহিদার আরো বাকী ১৮ শতাংশ মোবাইল বাহিরে থেকে আমদানি করতে হয়। এসব ব্র্যান্ডগুলো হলো শাওমি, নকিয়া, হুয়াওয়ে, অনর, আইফোনসহ ছোটবড় আরও অনেক কয়েকটি মোবাইল ব্র্যান্ড। তবে খুব দ্রুতই আরো অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তাদের কারখানা স্থাপন করতে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বাজারে যদি এসব প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের স্মার্টফোনগুলো তৈরি করে তবে সেসব স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭% ভ্যাট রয়েছে। যেটি দেশে উৎপাদিত স্মার্টফোনের দাম অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এছাড়াও যদি কোন প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন তৈরির সকল পার্টসগুলো এখানেই তৈরি করে তবে তাদের ক্ষেত্রে আরও কম কর সুবিধা রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড যেমন ওয়ালটন তাদের ফোনগুলো দেশেই তৈরি করে থাকে। এছাড়া স্যামসাং এবং টেকনোর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো ও দেশের বাজারে ইতিমধ্যেই তাদের স্মার্টফোন তৈরি করা শুরু করে দিয়েছে। তবে তাদের সকল ফোনগুলো এদেশের ফ্যাক্টারিতে তৈরি হয়না। তাদের ব্রান্ডের ফ্লাগশিপ ফোন গুলো বাহিরে থেকেই আমদানি করে আনতে হয়। যে কারণে স্যামস্যাং এর মতো ব্রান্ড এর ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন আনঅফিসিয়াল পাওয়া যায়।

কি কারনে কোন দেশে স্মার্টফোন আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয় সেটি আপনারা ইতোম্যধ্যেই হয়তোবা বুঝে গিয়েছেন। যদি টিউনটি আপনাদের কাছে ভাল লেগে থাকে তবে জোসস করতে ভুলবেন না। আজ তবে এই পর্যন্তই। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। ততক্ষণ পর্যন্ত টেকটিউনসের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 124 টি টিউন ও 51 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 13 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস