যে কারণে আমাদের আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা উচিত নয়

Level 12
কন্টেন্ট রাইটার, টেল টেক আইটি, গাইবান্ধা

বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই? আশা করছি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। বর্তমানে আমাদের প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী স্মার্ট ফোন। এটি আমাদের জীবনের সঙ্গে এমন ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে কোন একদিন আমাদের না খেলেও চলবে কিন্তু মোবাইল ছাড়া এক মুহুর্তও যেন চলে না এরকম অবস্থা। আমরা যখন একটি স্মার্টফোন কিনি তখন সেটি অনেক দেখেশুনেই কিনে থাকি।

আমাদের দেশে অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল দুই ধরনের ফোনই পাওয়া যায়। অনেকেই রয়েছে যারা চিন্তা করে অফিশিয়াল ফোনটি নিব নাকি আনঅফিসিয়াল ফোনটি নিব। কেননা অফিসিয়াল ফোন এর চাইতে আনঅফিসিয়াল ফোনের দাম অনেকটাই কম হয়। এই অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোনের মধ্যে আপনি কোনটি নিবেন সেটি নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই টিউনে। এজন্য সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

প্রথমে কথা বলা যাক অফিসিয়াল ফোন নিয়ে

বিভিন্ন কোম্পানি যেমন রিয়েলমি, শাওমি এবং অ্যাপল এর মত কোম্পানিগুলো বাহিরের দেশ থেকে আমাদের দেশে ফোন আমদানি করে থাকে। ফোন আমদানি করতে তাদেরকে বাংলাদেশ সরকার কে নির্দিষ্ট একটি ট্যাক্স দিতে হয়। ট্যাক্স দেবার পর কোন মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার টি সরকারের ডাটাবেজে সংরক্ষিত করা হয়। সরকারের ডাটাবেজে সংরক্ষিত হওয়া মোবাইল ফোনগুলোই হচ্ছে অফিসিয়াল ফোন। যেগুলো বৈধপথে আমদানিকৃত ফোন।

সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে আনা ফোন গুলো এর আইএমইআই নাম্বার গুলো বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত থাকে। IMEI (আইএমইআই) এর পূর্ণ হচ্ছে International Mobile Equipment Identity (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি)। এই আইএমইআই নাম্বার হল একটি মোবাইল এর পরিচিতি। প্রত্যেকটি মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার আলাদা হয়ে থাকে। যে নাম্বারটি পৃথিবীর সকল মোবাইলের ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি মোবাইলে দুইটি করে আইএমইআই নাম্বার থাকে।

কোন একটি মোবাইল ব্যবহার করে কোন অপরাধ সংঘটিত করলে সেই ব্যক্তি কে সেটি এই নাম্বার দ্বারা খুঁজে বের করা সম্ভব। এমন যদি হয় যে একজনের সিম নিয়ে তার মোবাইলে তুলে অন্য কাউকে ফোন দেয় অথবা সে সিমটি দিয়ে কোন অপরাধ সংঘটিত করে, এক্ষেত্রে এই আইএমইআই নাম্বার দিয়ে মোবাইল সনাক্ত করা সম্ভব যে কোন মোবাইল থেকে সেই ফোনকলটি করা হয়েছিল। যদি একজনার সিম খুলে নিয়ে অন্য মোবাইলে তুলে কল দেওয়া হয় তবে কোন মোবাইল থেকে সেই কলটি দেওয়া হয়েছে সেটি ডিটেক্ট করে আইএমইআই নাম্বার। যেটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বের করতে পারে।

তবে চলুন এবার দেখে নেয়া যাক কেন আপনি আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কিনবেন না।

আনঅফিসিয়াল ফোন যেসব কারণে কিনবেন না

আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো হল বিভিন্নভাবে সরকারের ট্যাক্স বা কর কে ফাঁকি দিয়ে দেশের বাজারে আনা ফোনগুলো। যেসব মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার গুলো সরকারের ডাটাবেজে থাকে না। অর্থাৎ সে সব নাম্বারগুলো সরকারের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয় না। এসব ফোনগুলো সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে অন্যভাবে দেশে আনার জন্য এগুলোর আইএমইআই সংরক্ষিত থাকে না। যে কারণে অফিশিয়াল ফোন এর তুলনায় আন-অফিশিয়াল ফোনগুলো অনেক কম দামে বিক্রি হয়। যদিও আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো গ্রাহকের জন্য অবৈধ নয়।

অফিশিয়াল ফোনগুলোর চাইতে একই মডেলের আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কয়েক হাজার পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হয়। যা ফ্লাগশিপ ফোন গুলোর ক্ষেত্রে ১০ হাজারের উপরে হয়ে থাকে। কারণ এসব ফোনের কর বা ট্যাক্স যেহেতু সরকারকে দিতে হয়না এজন্য কিছু লাভ করেই এসব ফোনগুলো বাজারে বিক্রি করা হয়। দামের ক্ষেত্রে বিবেচনা করলে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কেনাই ভালো হয়। তবে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কেনার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক যে অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কিনে আপনি কি রকম সুবিধা বা অসুবিধায় পড়তে পারেন।

অফিসিয়াল এবং আনঅফিশিয়াল ফোনের সুবিধা-অসুবিধা সমূহ

দেশের ভিতরে যত অফিসিয়াল মোবাইল রয়েছে সেগুলোর সমস্ত আইএমইআই নাম্বার সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। যদি কোন সময়ে সে দেশের সরকার বলে যে দেশে শুধুমাত্র অফিসিয়াল ফোন গুলো চালানো যাবে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে তখন কিন্তু সেসব আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো আর চালানো যাবে না। যদিও বাংলাদেশে অনেক দিন আগে থেকেই আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো বন্ধ করে দেবার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে আসছে, যা এখনো সফল হয়নি। এটির ব্যাপারে আমরা কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ দেখতে পারিনি শুধুমাত্র এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া ছাড়া।

আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোর চাইতে অফিশিয়াল ফোন গুলোতে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে যেমন সার্ভিসিং। অফিশিয়াল ফোন গুলোতে সবসময়ই অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। যেখানে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্রিতেই সার্ভিসিং সেবা পাবেন দেশের যেকোনো সার্ভিসিং সেন্টার থেকে যদি সে সময় আপনার ফোনটি ওয়ারেন্টি এর ভেতরে থাকে।

অন্যদিকে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোতে ও ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়, তবে সেটি অফিশিয়াল ভাবে না। আপনি একটি আনঅফিসিয়াল ফোন যে shop থেকে কিনবেন সেখান থেকে আপনাকে ওয়ারেন্টি দেওয়া হবে। যদি আপনার ফোনটি তে কোন সমস্যা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে আপনাকে সেই shop থেকেই সেটি ঠিক করে নিতে হবে। এবং এক্ষেত্রে তারা আপনাকে যা বলবে সেভাবেই আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সার্ভিসিং করার ক্ষেত্রে মোবাইলের পার্টস এর সঙ্গে সার্ভিসিং ফি ও নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়।

বর্তমানে যারা আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রি করে তারা সাধারণত এক থেকে দুই বছরের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে।

এছাড়া আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলে আপনি আরও একটি সমস্যায় পড়তে পারেন তা হলো আপনি নকল বা কপি মোবাইল পেতে পারেন। যেহেতু আন অফিসিয়াল ফোন গুলোর কোন তথ্য সরকারের ডেটাবেজে থাকে না এবং মোবাইল কেনার সময় বিটিআরসি-এর তথ্যের সঙ্গে এটি মিলে দেখা যায় না সেজন্য আপনি এক্ষেত্রে নকল বা কোন কপি মোবাইল পেতে পারেন। যদিও আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কখনো নকল বা কপি সচরাচর হয়ে থাকে না। আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোতে দেওয়া আইএমইআই নাম্বার গুলো ও সঠিক হয়ে থাকে তবে এটি সরকারের ডেটাবেসে সংরক্ষণ না থাকার কারণে যখন বিটিআরসি থেকে সেই মোবাইলের তথ্যটি খোঁজা হয় সেটি পাওয়া যাবে না।

এবার প্রশ্ন আসতেই পারে যে, তবে কি আমাদের আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা উচিত হবে কিনা?

এক্ষেত্রে আমি বলব আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা থাকে এবং আপনি যদি আপনার মোবাইলটিকে বেশিদিন ব্যবহার করতে চান তবে অবশ্যই একটি অফিশিয়াল ফোন কিনে নিবেন। কেননা যেকোনো সময় আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো বন্ধ করে দিতে পারে বিটিআরসি। যদিও বিটিআরসি অনেকদিন আগে থেকেই একথাটি বলছে যে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটির কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। বিটিআরসি আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোর বিরুদ্ধে বললেও আমারা এখন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনি আনঅফিসিয়াল ফোন কিনতে পারেন। কারণ অফিশিয়াল ফোন গুলো থেকে এই ফোনগুলোতে কয়েক হাজার টাকা কম পাওয়া যায়।

শেষ কথা

আপনি যদি মোবাইল কিনে সেটির সার্ভিসিং ভাল পেতে চান তবে অবশ্যই অফিশিয়াল ফোন কিনে নিবেন। আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোকে নিয়ে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলায় না জড়ানোই ভালো। যদি আপনি আনঅফিসিয়াল ফোন কিনতে যান তবে আপনি যদি কোনো পুরাতন বা সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে যেরকম ভাবে সেটি দেখে নেন, এখানে ও ঠিক একই রকমভাবে পরীক্ষা করে নেবেন। সেই আনঅফিসিয়াল ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি, কল কোয়ালিটি এবং ডিসপ্লে কোয়ালিটি সহ যাবতীয় বিষয় গুলো পর্যবেক্ষণ করে নিবেন। কেননা আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো এর তথ্য বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত না থাকার কারণে আপনি এখানে কোন কপি বা নকল মোবাইল ও পেতে পারেন।

বন্ধুরা এই ছিল আনঅফিসিয়াল ফোন সম্পর্কে আজকের টিউন। যদি টিউনটি আপনাদের কাছে ভাল লেগে থাকে তবে একটি জোসস করতে ভুলবেন না। আজ তবে এই পর্যন্তই, দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

Level 12

আমি মো আতিকুর ইসলাম। কন্টেন্ট রাইটার, টেল টেক আইটি, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 331 টি টিউন ও 93 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 59 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

“আল্লাহর ভয়ে তুমি যা কিছু ছেড়ে দিবে, আল্লাহ্ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু অবশ্যই দান করবেন।” —হযরত মোহাম্মদ (সঃ)


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস