করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কেন জরুরি?

Level 9
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

এই মুহূর্তে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। করোনাভাইরাস আবির্ভূত হওয়ার আগের আর পরের পৃথিবী মোটেও এক নয়। এই ভাইরাস পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বকে নতুন করে অনুভব করতে শেখাচ্ছে। তাই এই ভাইরাস থেকে আমাদের বর্তমানে বাঁচার বা এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী এবং দ্রত উপাায় হচ্ছে, সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা।

আমরা এই কথাটি অনেক আগে থেকে শুনে আসছি। যত কম লোকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে, ততই কম বিস্তার ঘটবে এ ভাইরাসটির। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন Social Vaccine বা সামাজিক টিকা। নিজেদের ঘরে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কেন জরুরী, সে সম্পর্কে জানব আজকের এই টিউন টি তে। সেজন্য অবশ্যই সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকুন।

করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কেন জরুরি?

করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিভিন্ন লক্ষণ সম্পর্কে জানা গেলেও, এমনও অনেক রোগী আছে, যাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের কোন লক্ষণই দেখা যায়নি। কিন্তু তারা কোনো না কোনোভাবে কোভিট ১৯ পজিটিভ হয়েছেন। আর এর কারণ হচ্ছে, সাধারণত এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার প্রথম কয়েকদিন রোগটি সুপ্তাবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে তখন বাইরে থেকে দেখতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মোটেও অসুস্থ বলে মনে হয় না। এরকম সময়েই একজন সংক্রামিত ব্যক্তি সমাজের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর।

কেননা তখন সেই ব্যক্তি যেখানেই চলাফেরা করুক না কেন, সব জায়গাতে সে করোনা ছড়িয়ে দিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে সে অফিস, বাজার, উপাসনালয় সহ জনসমাগম-পূর্ণ যত জায়গায় যাবেন, সেই সকল জায়গায় ভাইরাস সংক্রমিত হবে। এর ফলে হুট করে কোন দেশের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে লাগামহীন ভাবে। আর যদি মানুষের চলাফেরা মেলামেশা কমিয়ে আনা যায়, তাহলে রোগটি ধীরগতিতে ছড়াবে। এবার তাহলে আপনি বুঝতে পারছেন যে, কেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা জরুরি।

তাই বিশেষজ্ঞরা সবার প্রতি অনুরোধ করে বলছেন যে, "রোগের বিস্তার কমাও"। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলতে গেলে, কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যদি অধিক উন্নত ও হয়ে থাকে এবং হুট করেই যদি একটি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়, তবে কেমন হবে? এক্ষেত্রে অবশ্যই সেই দেশে উন্নত চিকিৎসার থাকা সত্ত্বেও অধিক লোককে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কেননা এক্ষেত্রে একসঙ্গে অধিক লোক আক্রান্ত হয়ে যাবার কারণে এটি তাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতাকে অতিক্রম করবে। আর এভাবে অধিক লোককে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হলে, সেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।

করোনা ভাইরাস

তবে এক্ষেত্রে প্রথমেই যদি রোগ বিস্তারের গতি কমিয়ে আনা যায়, তাহলে কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার মধ্যে থেকেই রোগীদেরকে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। তাই এজন্য দরকার কম লোক আক্রান্ত হওয়া। যেখানে করোনাভাইরাস ও একজনের মাঝে থেকে অন্য জনের মাঝে ছড়াচ্ছে। তাই এই ভাইরাসের বিস্তারের গতি যদি কমিয়ে আনা যায়, তবে কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা অনুযায়ী সে দেশের সমস্ত করোনায় আক্রান্ত লোকদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

এর উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, যেখানে ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা তো আগে থেকেই নাজুক। তার উপর আবার আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাস করছি। তাহলে বলা যায় যে, এসব দেশগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মেনে না চললে, করোনা বিস্তার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তবুও আল্লাহর দয়ায় আমাদের দেশ বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ তেমনভাবে হয়নি।

তবে করোনা মহামারী যদি এই অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়তো, তাহলে মৃত্যুর শাড়ি কতটা দীর্ঘ হতো, তা কেউই বলতে পারে না। যদিও ভারত কিংবা বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। যেখানে করোনা টিকাও মানুষ অনেক ধীরগতিতে নিচ্ছে। সেখানে আমাদের বেশিরভাগই মানুষের এখনো করোনা টিকা নেবার আগ পর্যন্ত অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা জরুরি।

করোনা ভাইরাস বিস্তারের জ্যামিতিক হার

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর হার

অন্যান্য সকল রোগ ছোঁয়াচে না হলেও, এই ভাইরাসটি অধিক ছোঁয়াচে বা সংক্রামক। আমরা জানি যে, সর্বপ্রথম চীনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আর চীনের উহানে প্রথম একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার পর আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে ৬৭ দিন। এর মাত্র ১১ দিন পরেই এই সংখ্যায় ২ লাখে পৌঁছায়। আর এর পরবর্তীতে আরো মাত্র ৪ দিন পর, বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হয় তিন লাখ।

অর্থাৎ, এসব থেকে দেখা যায় যে, সময় যত বাড়বে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে জ্যামিতিক হারে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মত হল, পৃথিবীর সকল দেশেই সীমিত সংখ্যক লোককে পরীক্ষা করা হয়েছে। আর তাতেই করোনা ভাইরাস এর এই ভয়াবহ ফলাফল। এছাড়াও ইতোমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের সনাক্ত করা হয়নি, বিশ্বজুড়ে এমন লোকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। আর বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ ও এটি।

কোন একজন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে, সেই ব্যক্তি তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি অনুভব নাও করতে পারে। কেননা অনেক মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কাছে এটি কোনো প্রভাব ফেলে না। যে কারণে সে অন্যান্য স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মত চলাফেরা করে এবং তার মাধ্যমে অন্যান্য সুস্থ মানুষের মাঝে সেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেয়। তাই আমাদের উচিত হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সম্ভব হলে যথাসম্ভব বাড়িতে অবস্থান করা। তবে আমাদের দৈনন্দিন রোজগারের জন্য তো অবশ্যই আমাদের বাড়ির বাইরে যেতেই হবে।

আমরা করোনাভাইরাস এর প্রথম দিকের পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছি যে, চীনের বাইরে এই ভাইরাসটি যতই গিয়েছে, ততোই ব্যাপকভাবে এই ভাইরাসটি সেসব দেশের মাঝে ছড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রত্যেকটি ব্যক্তি সেসব দেশে টাইম বোমার মত কাজ করেছে। তাদের সংস্পর্শে যারাই আসবেন, তারাই আক্রান্ত হবে। তাই গবেষকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের এই সময়ে বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়ানো মানে দলগত আত্মহত্যা করা। কারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, আপনি হয়তো সুস্থ হয়ে যাবেন, কিন্তু আপনার কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়া কোনো শিশু অথবা বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি হয়তো থেকেই যাবে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা

করোনার চিকিৎসা

কোন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যত উন্নত হোক না কেন, অথবা কোন দেশের সরকার যতসব প্রস্তুতি গ্রহণ করুক না কেন, এই মুহূর্তে করোনার ভয়াবহতা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা কোন দেশের তেমন নেই। যদিও বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং সকলেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা পূর্বে দেখেছি যে, অনেক উন্নত বিশ্বেও করোনা চিকিৎসায় হিমশিম খেয়েছে। হাসপাতালে তাদের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

তাই মহামারী থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে আমাদের ঘরে থাকা প্রয়োজন। নিজের ঘরে থেকে দেশের সেবা করার মত এমন মহৎ সুযোগ হয়তো আর কখনোই আসবেনা। টানা ১৪ দিন বাড়তে থাকা নিশ্চয়ই কষ্টকর, কিন্তু এই সামান্য কষ্টের ফলে অর্জিত হবে সমাজের অন্যান্য সকল মানুষের সুরক্ষা।

করোনায় আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সামান্য নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, আর বাকি ২০% রোগীর মধ্যে গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। সংকটাপন্ন কোভিট ১৯ আক্রান্তদের শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়, এমনকি হাসপাতালে এসপিরেটর এর মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হলেও রোগী শ্বাস নিতে পারে না। এক পর্যায়ে কোভিট ১৯ এ আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস অকার্যকর হয়ে রোগী মারা যায়। আমরা কেউই চাইনা যে, আমাদের কোন আপনজন এমন যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুবরণ করুক।

পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এতটা বেগ বা চ্যালেঞ্জ হওয়ার কারণ

করোনা ভাইরাস মোকাবেলা

সারা পৃথিবীতে করোনা মোকাবেলায় বেগ পাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, ভাইরাসের সংক্রমণের প্রথমদিকে চীনের প্রকৃত ভয়াবহতা প্রকাশ না করা। আমরা এটা জানি যে, চীন নিজের দেশের কোন কিছু বাইরের দেশের সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না। আর যে কারণে আমরা যেমনঃ গুগল, ফেসবুক কিংবা ইউটিউব ব্যবহার করি, চীনের মানুষজন সেখানে নিজের দেশের প্ল্যাটফর্ম গুলো কে ব্যবহার করে। তারা চায় না যে, তাদের দেশের কোন তথ্য বাইরের দেশের সঙ্গে শেয়ার হোক।

তাদের নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মনে করে তারাও প্রথমদিকে করোনার কথা বিশ্বকে জানাতে চায় নি। তারা রোগাক্রান্তদের সঠিক সংখ্যাও চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে চীনা কর্তৃপক্ষ যখন বুঝতে পারে, যে এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে রোগ এবং যেকারণে তার তিন দিনের মাথায় উহান শহরকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশ করোনা মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম, কথাটি সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, এই মুহূর্তে করোনার ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সমাধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তালিকায় প্রথমেই রেখেছে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। হাতে লেগে থাকা ভাইরাস চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমেই আমাদের দেহে প্রবেশ করে। একজন সাধারণ মানুষ প্রতি ঘন্টায় গড়ে প্রায় ২৩ বার তার মুখ স্পর্শ করে। এটি আমাদের জিনগত অভ্যাস। এমনকি মানুষ মায়ের পেটেও মুকে হাত দেয়।

তাই আমাদের এতদিনের এই অভ্যাস বদলানো অতটা সহজ নয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে আমরা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারি।

বন্ধুরা, আপনার কাছে যদি আজকের এই টিউনটি ভাল লেগে থাকে, তাহলে টিউনটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। মনে রাখবেন, শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবার, সমাজ, তথা সমগ্র দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

শেষ কথা

সামাজিক দূরত্ব মানার এই কথাটি যদিও আমাদের দেশে তেমনটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এদেশের মানুষেরা যে যার মত চলাফেরা করে। কিন্তু তবুও আমারাদের একটু সচেতন হয়ে নিজের কথা চিন্তা করে চলাচল করতে হবে। আর তাহলেই হয়তোবা বেঁচে যাবে আপনার পরিবার, সমাজ, তথা সমগ্র দেশের মানুষ।

Level 9

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 10 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 186 টি টিউন ও 73 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 24 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস