আধুনিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ভূমিকা-৩

টিউন বিভাগ চিকিৎসা বিজ্ঞান
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

প্রিয় টেকটিউনস বন্ধুরা সবাই নিশ্চয় প্রতিপালকের অশেষ কৃপায় ভালোয় আছেন। বরাবরের মতো আজকে আমি আপনাদের মাঝে ‘আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ভূমিকা’ ৩য় পর্ব তথা শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি আপনারা সবাই মনোযোগ দিয়ে শেষ অবধি পড়বেন।

তো চলুন আজকে আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় যাই।

৫। এন্ডোসকপিঃ আজকে আমি আপনাদের মাঝে প্রথমেই যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো তা হলো এন্ডোসকপি। যা আমাদের আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী। প্রিয় বন্ধুরা আমাদের প্রথমে জানতে হবে এন্ডোসকপি কি?

এন্ডোসকপি হচ্ছে আমাদের শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গ বা গহ্বরকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখার প্রক্রিয়ার নাম। এই যন্ত্র দিয়ে শরীরের ফাঁপা অঙ্গগুলোর ভেতরে পরীক্ষা করা যায়। এই যন্ত্রে দুটি স্বচ্ছ নল থাকে। এই নল দুটির একটি দিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের ভেতরে তীব্র আলো ফেলা হয়।

এটি করা হয় অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে, আলো এই ফাইবারে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলের মাধ্যমে প্রবেশ করে। রোগীর শরীরের ক্ষতিগ্রস্থ বা রোগাক্রান্ত জায়গাটি আলোকিত করার পর সেই এলাকার ছবিটি দ্বিতীয় স্বচ্ছ নলের ভেতর দিয়ে দেখা যায়।

কোনো বস্তু দেখতে হলে সেটি সরলরেখায় থাকতে হয় কিন্তু শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গের ভেতরে সরলরেখায় তাকানো সম্ভব নয়, তাই ছবিটি দেখার জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়, যেখানে আলো পূর্ণ অভ্যন্তরিন প্রতিফলন করে আঁকাবাঁকা পথে যেতে পারে।

শরীরের অভ্যন্তরের একটি নির্দিস্ট জায়গা সূক্ষ্মভাবে দেখার জন্য অত্যন্ত সরু ৫ থেকে ১০ হাজার অপটিক্যাল ফাইবারের একটি বান্ডিল ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকটি ফাইবার একটি বিন্দুর প্রতিচ্ছবি নিয়ে আসে বলে সব মিলিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত একটি ছবি দেখা সম্ভব হয়।

যে অঙ্গগুলো পরীক্ষা করার জন্য এন্ডোসকপি ব্যবহার করা হয়ঃ

  • ফুসফুস এবং বুকের কেন্দ্রীয় বিভাজন অংশ।
  • পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র কোলন।
  • উদর এবং পেলভিস।
  • স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ।
  • মূত্রনালির অভ্যন্তর ভাগ।
  • নাসাগহ্বর, নাকের চারপাশের সাইনাস ও কান।

এন্ডোসকপি করার সময় যেহেতু একটি নল সরাসরি ক্ষত স্থানে প্রবেশ করানো হয় সেটি দিয়ে সেই ক্ষত স্থানের Sample নিয়ে আসা সম্ভব এবং প্রয়োজনে এটা ব্যবহার করে কিছু কিছু সার্জারিও করা সম্ভব।

৬। ইসিজিঃ ইসিজি এর পূর্ণরুপ হলো ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ। ইসিজি এর মাধ্যমে মানুষের হৃৎপিন্ডের বৈদ্যুতিক এবং পেশিজনিত কাজগুলো দেখা যায়। আমরা জানি বাইরের কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই হৃৎপিন্ড ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে এবং এই সংকেত পেশির ভেতর ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে হৃৎস্পন্দন হয়।

ইসিজি করতে হলে বৈদ্যুতিক সংকেতগুলো গ্রহন করার জন্য শরীরে ইলেকট্রড লাগাতে হয়। দুই হাতে দুটি, দুই পায়ে দুটি এবং ছয়টি হৃৎপিন্ডের অবস্থান সংলগ্ন বুকের ওপর লাগানো হয়। সাধারণ কোনো রোগের কারণ হিসেবে বুকের ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত কিংবা বড় অপারেশনের আগে ইসিজির সাহায্য নেওয়া হয়।

ইসিজি এর ব্যবহারঃ

  • হৃৎপিন্ডের স্পন্দন হার বেশী বা কম হলে।
  • হার্ট এটাক হয়ে থাকলে।
  • হৃৎপিন্ডের আকার বড় হয়ে থাকলে।

ইসিজি মেশিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মেশিন। তাই এর ব্যবহার আমাদের আধুনিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে সমাদৃত।

তো বন্ধুরা এই টিউনের ধারাবাহিক আলোচনা আজকে এখানেই শেষ করলাম। তো দেখা হবে আগামীতে কোনো নতুন এক পর্বে। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Level 1

আমি Abdur Rashid। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 6 টি টিউন ও 1 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস