যে ৩ টি ভয়ানক ব্যাধি সম্পর্কে প্রাপ্তবয়স্কদের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন

টিউন বিভাগ চিকিৎসা বিজ্ঞান
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 4
২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা

হ্যালো টেকটিউনস কমিউনিটির সদস্যরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন আপনারা। আজ আপদের জন্য খুবই জরুরী একটা টিউন নিয়ে এসেছি। এটা চিকিৎসা বিজ্ঞানের তিনটি ভয়ানক ব্যাধি নিয়ে একটা টিউন। প্রাপ্তবয়স্কদের এ রোগ গুলো হয়ে থাকে সাধারণত। তাই আমি এখানে যে কথা গুলো বলবো তা কেউ খারাপভাবে নিবেন না।

যাদের বয়স ১৮ এর নিচে তাদের না পড়াই ভালো। আমরা প্রতিনিয়ত নানা কারনেই অসুস্থ হই। ফলে আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেই। কিন্তু তার আগে রোগ সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে খারাপ কিছু করে বসি। কখনো গোপন রোগ হলে আমরা তো ডাক্তারের কাছেই যাই না।

কিছু কিছু রোগ রয়েছে যা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয়। অর্থাৎ কিছু কিছু রোগ আছে যা যৌন মিলনের ফলেই হয়। এসব রোগকে যৌনবাহিত রোগ (Sexually Transmitted Diseases- STD) বলে। এসব রোগ যৌন মিলনের সময় সংক্রমণের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়ায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সজ্ঞা অনুযায়ী সংক্রমণের ফলে লক্ষন প্রকাশ পেলে তাকে রোগ বলে। কিন্তু এসব রোগের অনেক সময় লক্ষন প্রকাশ পায় না। তাই এ অবস্থাকে যৌনবাহিত সংক্রমণ বলে। তবে সেটা যাই হোক না কেন মানুষ বা ডাক্তার একে রোগ বলবেই।
অনেক ধরনের যৌনবাহিত রোগ রয়েছে।

তার মধ্যে ভয়ানক তিনটি রোগ নিয়ে আলোচনা করবো। কারণ এগুলো কেবল এর সম্পর্কে জ্ঞান আর সাবধানতাই এর থেকে বাচাতে পারে। তো বন্ধুরা কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক। আজকে তিনটি রোগের লক্ষন ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করবো।

১.সিফিলিসঃ

সিফিলিস এমন একটি যৌনবাহিত রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। এ ব্যাকটেরিয়ার নাম Trephonema pallidum। দীর্ঘকালীন এ রোগ থাকার ফলে জটিলতা সৃষ্টি হয় আর ফলস্বরূপ উপহার মৃত্যু।

যেভাবে সংক্রমণ ঘটেঃ

সিফিলিস এমন একটি রোগ যা শরীরে বিভিন্ন ক্ষত সৃষ্টি করে আর এ ক্ষতর সংস্পর্শে এলে এ রোগ ছড়িয়ে পরে। আর এ ক্ষত প্রধানত বহিযৌনাঙ্গ, যোনি, পায়ু বা মলাশয়ে অবস্থান করে। কখনো কখনো ঠোটে বা মুখেও এ ক্ষত সৃষ্টি হয়। যৌন মিলনের ধরনের উপর সংক্রমণের উৎস নির্ভর করে।

যে মহিলা গর্ভবতী তার সন্তান প্রসবের আগেই সন্তানের শরীরে সিফিলিস রোগেত বিস্তার ঘটিয়ে দেয়। এর জীবানূতে সংক্রমিত হবার ২১ দিন পরে রোগের লক্ষন দেখা দেয়। তবে ব্যক্তি বিশেষ এ সময়কাল ১০-৯০ দিন ও হওয়া সম্ভব।

লক্ষণঃ

সিফিলিস এর প্রথম লক্ষন অনেক দেরিতে প্রকাশ পায়। আর এর পরিণতিতে পৌছাতে মাস, বছর পেরিয়ে যায়। তবে এটাকে অর্থাৎ লক্ষন প্রকাশের সময়কালকে ৪ টি ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ঃ

আনুমানিক ২১ দিনের দিকে একটি মাত্র সিফিলিস ক্ষত প্রকাশিত হয়। এই ক্ষতটি গোল, শক্ত ও ব্যাথাহীন হয়। এটি দেখে বোঝা যায় জীবানুর সংক্রমণ পথ কোন দিকে দিয়ে যাচ্ছে। ২১-৪২ দিনের মধ্যে ক্ষত পুরণ হয়ে দ্বীতিয় ধাপের দিকে ধাবিত হয়।

মাধ্যমিক পর্যায়ঃ

শরীরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পড়ে সিফিলিটিক ক্ষত অমসৃণ, লাল বা লালচে বাদামী দাগ হিসেবে হাতে পায়ের তালুতে প্রকাশ পায়। ক্ষতর সাথে সাথে জ্বর, গলাভাঙ্গা, স্ফীত লসিকা গ্রন্থি, বিভিন্ন জায়গায় চুল উঠে যাওয়া, মাথাব্যাথাব, ওজন কমে যাওয়া, পেশিব্যাথা, ক্লান্তি প্রভৃতি এ রোগের মাঝের অবস্থায় ঘটে।

সুপ্ত পর্যায়ঃ

অল্প কয়দিন পড় মাধ্যমিক পর্যায়ের লক্ষণ গুলো অদৃশ্য হয় এবং শুরু হয় সুপ্ত পর্যায়। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তি একদম সুস্থ অনুভব করে এবং বাহ্যিকভাবে তাই দেখা যায়। অনেক বছর এভাবে অতিবাহিত হতে পারে।

বিলম্বিত পর্যায়ঃ

সিফিলিস জীবানুতে প্রথম সংক্রমিত হবার ১০-২০ পর ইহা পুর্ণাঙ্গরুপে আবির্ভুত হয়। এ রোগের দীর্ঘকালিন দশায় রোগীর মস্তিষ্ক, স্নায়ু, চোখ, হৃৎপিন্ড, রক্তকনিকা, যকৃত, গ্রন্থি ও সন্ধির ক্ষতি সাধন করে। ফলে পেশি সঞ্চালন বিঘ্ন ঘটে, দেখা দেয় পঙ্গুত্ব, অন্ধত্ব, হতবুদ্ধি ও অস্থিরচিত্ত্ব। এ অবস্থায় মানুষের মৃত্যু ঘটে।

প্রতিরোধঃ

সিফিলিস থেকে মুক্তির আসল উপায় স্থায়ী ও একমাত্র সঙ্গীর সাথে জীবনযাপন করা। ভিন্ন সঙ্গীর কথা চিন্তা করা উচিত নহে। সিফিলিস রোগীর আশে পাশে যাওয়া উচিত নয়। অজানা মানুষের সাথে যৌন মিলন না করা। নেশা না করা কারণ নেশা যৌন আচারণকে উসকে দেয়। তখন ভুলভাল লোকের সাথে যৌন মিলন হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসাঃ

সিফিলিস লক্ষন জানা থাকলে এর প্রাথমিক ধাপেই চিকিৎসা করানো সম্ভব। কারণ প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের সিফিলিস জীবানু একটি মাত্র ইনজেকশনেই মারা যায় যার নাম Benzathine Penicilin G। সুপ্ত অবস্থার শেষ সপ্তাহে কেউ থাকলে তাকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ইনজেকশন দিতে হয়। এক্ষেত্রে সিফিলিস সারবে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষত সারবে না। সম্পুর্ণ না সারা পর্যন্ত যৌন মিলন করা যাবে না।

২.গনোরিয়াঃ

গনোরিয়া একটি যৌনবাহিত রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ঘটে থাকে। এর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম Neisseria gonorrhoeae। এই ব্যাকটেরিয়া মহিলাদের জনন নালী যেমন- সারভিক্স, জরায়ু, ফেলোপিয়ান নালিসহ ইউরেথ্রার মিউকাস ঝিল্লিতে সংক্রমন ঘটায়। আর পুরুষের ইউরেথ্রার মিউকাস ঝিল্লিতেও সংক্রমণ ঘটায়।

এছাড়াও মুখ, গলা, চোখ ও পায়ুর মিউকাস ঝিল্লিও আক্রান্ত হয়। গর্ভকালে জটিলতা সৃষ্টি করে। আর তাছাড়া মহিলার মা হওয়ার ক্ষমতা এবং পুরুষের বাবা হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে।

যেভাবে সংক্রমণ ছড়ায়ঃ

যৌন মিলনের সময় রোগীর দেহের বহিযৌনাঙ্গ, মুখ ও পায়ু থেকে ছড়ায়। সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার সময়কালে মা থেকে সন্তানে এরোগ সংক্রমণ ঘটাতে পারে। যে ব্যক্তিব গনোরিয়ায় আক্রান্ত ছিলো কিন্তু চিকিৎসায় সেরে উঠেছে সে আবার আক্রান্ত রোগীর সাথে যৌন মিলন করলে সেও আক্রান্ত হবে। গনোরিয়ার লক্ষণ দেহে সঠিল ভাবে প্রকাশ পায় না বলে এটি ব্যাপক বিস্তৃত যৌনবাহিত সংক্রমণ।

লক্ষণঃ

নারীদের গনোরিয়ার লক্ষণ গুলো হচ্ছেঃ

  • পেটে ব্যাথা হয়।
  • দুই রজঃচক্রের মাঝে প্রচুর যোনিস্রাব ও রক্তপাত হয়।
  • রজঃ চক্রের ধারাবাহিকতা থাকে না। জ্বড় ও ফুসকুড়ি হয়।
  • যৌনমিলনে কষ্ট পায় এবং মুত্রত্যাগেও কষ্টপায়।
  • যোনিদেশ ফুলে যায়।
  • হলদে বা হলদে সবুজ যোনিস্রাব।
  • ঘন ঘন মুত্রত্যাগের প্রবণতা হয়।
  • অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা হয়।

পুরুষের গনোরিয়ার লক্ষন গুলো হচ্ছেঃ

  • প্রসাবে জ্বালা পোড়া সহ ব্যাথা অনুভব করতে থাকে।
  • প্রসাবের পর চাপ দিলে আঠার মতো পুজ বের হয়।
  • স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মুত্র ত্যাগের ইচ্ছা।
  • শক্রাশয় ও অন্ডথলিতে ব্যাথা অনুভব হয়।
  • পুরুষের এসব লক্ষন সকালে ও হালকা অনুভুত হয় বলে অনেকেই বুঝতে পারে না যে তার গনোরিয়া হয়েছে।

পুরুষ ও নারী উভয়ের দেহে মলাশয় থেকে স্রাব, পায়ুপথে চুলকানি, ক্ষত, রক্তপাত মলত্যাগে কষ্ট প্রভিতি লক্ষণ দেখা দেয়। এছাড়া গলবিল সংক্রমিত হলে গলাভাঙ্গার উদ্ভব হয়।

প্রতিকারঃ

পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ও সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলে গনোরিয়ার মতো মারাত্মক যৌনবাহিত রোগ থেকে নিজেকে ও ভবিষ্যত বংশধরকে নিরাপত্তা দেওয়া খুব সহজ।

এ জন্য যা করা দরকার তা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে কম বয়সী ও গর্ভবতী নারীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করাতে হবে। যৌন সঙ্গীর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেতে বা লাগাতে হবে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত যৌনমিলনে প্রবৃত্ত না হওয়া।

৩.এইডসঃ

এইডস শব্দটির সাথে আপনারা অধিকাংশই পরিচিত। আসলে এইডস একটি যৌনবাহিত রোগ। এটি একটি শব্দের সংক্ষেপণ। AIDS এর পূর্ণ্ররুপ হচ্ছে Acquired (অর্জিত) Immune (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) Deficiency (হ্রাস) Syndrome (অবস্থা)।

সত্যিকথা বলতে বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস বলে। এ রোগ এক ভাইরাসের আক্রমনে হয় যার নাম HIV পুর্ণরুপে Human Immunodeficiency Virus। মানুষের শ্বেত রক্ত কনিকার T4 লিম্ফসাইট ও রক্তকনিকার ম্যাক্রোফাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলে কিছু থাকে না। ফলে আল্লাহর দুনিয়ার যত রোগ আছে তার দু চারটায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

বর্তমানে সারা বিশ্বে এইডস একটি মারত্মক ঘাতক ব্যাধি। ২০০০ সালের দিকে HIV আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ছিলো বলে জানা যায়। মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা ছিলো ৩০ লক্ষ। আফ্রিকান দেশগুলোতে এ রোগ বেশি প্রভাব ফেলে।

ধারনা করা হয় বানরের শরীরে প্রথমে এই ভাইরাস ছিলো। পরে আফ্রিকার বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয়ে ইউরোপ, আমেরিকা তথা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের বিজ্ঞানী Dr.Lue Montagnier এবং আমেরিকার Dr. Robert Gallo ১৯৮৪ সালে আলাদাভাবে AIDS এর জীবাণু আবিষ্কার করেন। লালফিতা HIV পজেটিভ ব্যক্তি ও আক্রান্তদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশের প্রতীক।

এইডস এর বিস্তারঃ

একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অনেক উপায়ে এইডস এর ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। যেমন-নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌনমিলন। সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যাবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার করা। সংক্রমিত মায়ের কোলে জন্মগ্রহন করা শিশুর এ রোগ হবে। সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে। দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারীর এটি হতে পারে।

লক্ষনঃ

এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার ফলে রোগীর দেহে ধীরে ধীরে যেসব লক্ষণগুলো প্রকাশঃ

  • প্রথমদিকে রোগীর শরীরে জ্বর আসে। জ্বর অনেকদিন ধরে থাকে যা অপ্রত্যাশিত।
  • দেহের বিভিন্ন জায়গার গ্রন্থি ফুলে যায়।
  • শরীর শুকিয়ে যায় এবং দেহের ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে।
  • খাবারে অনিহা সৃষ্টির সাথে সাথে পেটে ব্যাথাও হয়।
  • ফুসফুসে ও ভাইরাসে আক্রমন ঘটে ফলে বুকে ব্যাথা সহ শুস্ক কফ জমে।
  • দেহে জ্বালাপোড়া সহ অস্থিস্বন্ধিতে ব্যাথা হয়।
  • শ্বাসকষ্ট, জিহব্বায় সাদা স্তর জমা, ত্বকের মিউকাস ঝিল্লি বা যে কোন ছিদ্র থেকে রক্তপাত, ঘন ঘন ফুসকুড়ি, সবসময় মাথাব্যাথা সময়ের পরিক্রমায় স্মৃতিশিক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুটোই হ্রাস পায়।
  • রোগের চুরান্ত পর্যায়ে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ইত্যাদি নানান ঝামেলায় ভোগার পর মারা যায়।

এইডস এর লক্ষন নারী ও পুরুষে প্রায় একই তবে নারীদেহে কতগুলো বিশেষ লক্ষন দেখা দেয়। যেমন- যোনিতে অনিরাময়যোগ্য ঈস্টের সংক্রমণ যা দীর্ঘস্থায়ী। সুস্থ নারীদেহে এ সংক্রমন দ্রুত সেড়ে যায়। জননতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যাথা সৃষ্টি হয়ে থাকে। জরায়ুগাত্রে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারণে টিউমার হওয়া এবং পরবর্তীতে সার্ভিক্স ক্যান্সারের রুপ নেয়া ও একটি লক্ষন।

রোগ নির্ণয়ঃ

রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। এর জন্য পরীক্ষা গুলো হলোঃ HIV অ্যান্টিবডি টেস্ট, RNA টেস্ট, Western Blotting test।

প্রতিরোধঃ

ধর্মীয় ও সামজিক বিধি মেনে নিরাপদ যৌন মিলন করা। এ ব্যাপারে ও অনিরাপদ যৌন মিলন সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা। এইডস থেকে রক্ষায় গন সচেতনা সৃষ্টি করা। যৌন মিলনে কনডম ব্যবহার করা। এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিউনার ইত্যাদির মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করা।

ব্যাবহৃত ইঞ্জেকশন ব্যবহার না করা। শিরার মাধ্যমে ড্রাগ গ্রহণ না করা। সেলুনে একটি ব্লেড একবারই ব্যবহার করা। রোগীকে চিহ্নিত করে সম্পুর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসা করা। পতিতাদের নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন করা।

চিকিৎসাঃ

এইডস এর চিকিৎসা এখনো আবিস্কার হয় নি। চিকিৎসকরা এর জন্য অনেক ঔষধই আবিষ্কার করেছে। সবই বিফলে গেছে তবে দুটি গ্রপের ঔষধের ভালো উপকার পাওয়া গেছে। একটি গ্রুপের ঔষধের নাম নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ ইনহিবিটরস (Nucleoside reverse transcriptase Inhibitors)।

এটি HIV সংক্রমণকে বিলম্বিত করতে পারে বলে গবেষকদের মতামত। দ্বীতিয় গ্রপের ঔষধের নাম প্রোটিয়েজ ইনহিবিটরস (Protease inhibitirs)। এটি HIV এর প্রতিলিপনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানা যায়। এই দুটি গ্রুপের ঔষধ একত্রে সেবন করতে হয়।

এইডস এর এই চিকিৎসাকে HAART (Highly Activ Antiretroviral Therapy) বলা হয়ে থাকে। HAART যদিও এইডস রোগকে উপশম করে না তবে রোগীর মৃত্যুর সংখ্য কমাতে পারে বলে আশা করা যায়।

তো বন্ধুরা এই ছিলো আমার সামান্যতম একটা টিউন। আশা করি ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে জোসস দিতে ভুলবেন না। আর মন্তব্য থাকলে টিউমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। দেখা হচ্ছে পরবর্তী টিউনে। ততক্ষন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি আল্লাহ হাফেজ।

Level 4

আমি মোঃ তানজিন প্রধান। ২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 59 টি টিউন ও 57 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 10 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো হারিয়ে যাই চিন্তার আসরে, কখনোবা ভালোবাসি শিখতে, কখনোবা ভালোবাসি শিখাতে, হয়তো চিন্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে ব্যাস্ততার ভীরে। তারপর ব্যাস্ততার ঘোর নিয়েই একদিন চলে যাব কবরে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস