সেলিব্রিটিরা কেন অ্যাপেলের আইফোন ব্যবহার করে?

টিউন বিভাগ আইফোন
প্রকাশিত
Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমরা সকলেই জানি যে সকল সেলিব্রিটিই প্রায় অ্যাপলের আইফোন ব্যবহার করে। কিন্তু তারা কেন আইফোন ব্যবহার করে?

সেলিব্রিটিরা অ্যাপেলের আইফোন শুধুমাত্র স্ট্যাটাস দেখানোর জন্য ব্যবহার করে না। অ্যাপেলের আইফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অনেক কারণ রয়েছে। ‌বন্ধুরা আজকেকে আমি আপনাদেরকে সামান্য কিছু হলেও ধারনা দেবার চেষ্টা করব যে সেলিব্রিটিরা কেন অ্যাপেলের আইফোন ব্যবহার করে। তো, এজন্য অবশ্যই সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। চলুন তবে আজকের টিউনটি শুরু করা যাক।

সেলিব্রিটিরা কেন অ্যাপলের আইফোন ব্যবহার করে?

অ্যাপলের আইফোনের দাম কিন্তু সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর চাইতে অনেক বেশি। যেখানে একই Ram, Rom এবং Battery capacity মোবাইল বিক্রি হয় 20 থেকে 30 হাজার টাকার মধ্যে সেখানে অ্যাপল এর ক্ষেত্রে সেই ফোনটির দামই এক লক্ষ টাকার উপরে হয়। দামের দিক থেকে বিবেচনা করলে অ্যাপেলের প্রোডাক্ট এর দাম অনেক বেশি হয়। কিন্তু অ্যাপেলের অন্যান্য সব ফিচার এবং সেবাগুলোর কারণে যেটি হয় ঠিকঠাক।

শুধুমাত্র দাম বেশি হওয়ার জন্যই সেলিব্রিটিরা অ্যাপেলের ফোন ব্যবহার করে না। আরো কিছু কারণ রয়েছে যেসব কারণে তারা আইফোন ব্যবহার করেন। তবে চলুন বন্ধুরা এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক যে সেলিব্রিটিরা কেন অ্যাপলের আইফোন ব্যবহার করে এবং আইফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কি কি সুবিধা রয়েছে। টিউনটি সম্পূর্ণ শুরু করার আগে আপনাকে বলে নিচ্ছি আপনি যদি আমার এই টিউন এ নতুন হয়ে থাকেন তবে উপরের ফলো বাটন এ ক্লিক করে আমাকে ফলো করে রাখুন, যাতে করে আমি পরবর্তী কোন টিউন করতে আরো উৎসাহী হই। আর যদি ইতিমধ্যেই আমাকে ফলো করে রাখেন তবে অসংখ্য ধন্যবাদ।

১. অ্যাপেলের ফোন ব্যবহার করার প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে এর প্রাইভেসি

আপনারা এটা সকলেই জানেন যে, অ্যাপেলের ফোন গুলোতে অনেক প্রাইভেসি দেওয়া থাকে। তারা আইফোন ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এর ব্যাপারে এতটাই সতর্ক যে তারা তাদের তখন গুলোতে এক্সট্রা এসডি কার্ড লাগানোর ও অপশন রাখেনা না। এখানে বাইরে থেকে যদি এক্সট্রানাল এসডি কার্ড লাগানোর অপশন দেওয়া থাকতো তবে কেউ যদি বাহিরে থেকে কোন খারাপ কোয়ালিটির এসডি কার্ড মোবাইলে লাগায় তবে ফোনটি ভয়ানক রকমের স্লো হয়ে যেতে পারে।

কেননা একটি স্মার্টফোনের এসডি কার্ড এ যখন কোন ফাইল সংরক্ষণ করে রাখবে তখন যদি সেটি খারাপ কোয়ালিটির হয় সেখানে রাইট স্পিড অনেক কম হবে। আর যদি মেমোরিতে কোন কিছুর রাইট করতে বেশি সময় লাগে তখন ফোনটিকে অনেক স্লো মনে হবে। অপরদিকে যখন সেই মেমোরি থেকে কোন ফাইল ওপেন করতে চাইবে তখন সেটি রিড করতেও অতিরিক্ত সময় নিবে, যে কারণে কোনো ফাইল চালু করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন পড়বে সেইসঙ্গে ফোন থেকে অনেক স্লো মনে হবে। অ্যাপল মোটেও চায়না যে তাদের ফোনে কোন খারাপ কোয়ালিটির এসডি কার্ড লাগিয়ে ফোনটিকে কেউ স্লো মনে করুক। তারা চায় যে, ব্যবহারকারী যেন তাদের ফোন ব্যবহারে একটি ভালো এক্সপেরিয়েন্স পায়।

আইফোন এর ক্ষেত্রে প্রাইভেসি এতটাই শক্তিশালী যে আপনি কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন mod app ডাউনলোড করতে পারবেন না, যেমনটি আমরা এন্ড্রয়েড মোবাইলে করে থাকি। অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অ্যাপ ডাউনলোডের জন্য প্লে স্টোরকে বেছে নিতে হয়। যেখানে রয়েছে অসংখ্য ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন। এসব ফ্রী অ্যাপ্লিকেশন এর বাহিরেও অনেক প্রিমিয়াম অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে প্লে স্টোরে। যেসব অ্যাপ্লিকেশন এর ভেতরের সার্ভিস আমাদের ব্যবহার করতে হলে তাদেরকে নির্দিষ্ট একটি অ্যামাউন্ট পে করতে হয়।

আমরা চাইলেই প্লে স্টোরের এসব অ্যাপের মোড ভার্সন বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারি। যেসব অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য ও সাপোর্ট করে। কোন একটি প্রিমিয়াম বা পেইড অ্যাপ্লিকেশনকে অনেক হ্যাকার কিংবা অন্য কেউ modifi করে ফ্রিতেই প্রিমিয়াম সেবার ব্যবস্থা করে। আমরাও আবার এসব প্রিমিয়াম অ্যাপ্লিকেশন এর mod ভার্সন খুঁজতে থাকি। ইন্টারনেটে কোনো না কোনো ওয়েবসাইটে এসব অ্যাপ্লিকেশন এর mod ভার্সন বা হ্যাক ভার্সন পাওয়া যায়। সেসব অ্যাপ্লিকেশন অনায়াসেই আমরা ডাউনলোড করে আমাদের মোবাইলে ইন্সটল করে রাখতে পারি এবং সেগুলো দিয়েই প্রিমিয়াম সেবা পেয়ে থাকি।

বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কোন প্রিমিয়াম অ্যাপের হ্যাক ভার্সন ডাউনলোড করে আমরা অনেক আনন্দিত হয়ে যাই। তবে এতে করে যে আমরা আমাদের প্রাইভেসির কতটা ক্ষতি করেছি সেটা খেয়ালই করি না। ওয়েবসাইটে এসব অ্যাপ্লিকেশন এর হ্যাক ভার্সন তারা আপনাকে মানব সেবা করার জন্য দেয় না। এখানে তাদের একটি উদ্দেশ্য থাকে। কোন একটি প্রিমিয়াম অ্যাপ্লিকেশন যখন আমরা প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করি তখন সেসব অ্যাপ ব্যবহারের মাসিক কিংবা বাৎসরিক একটি নির্দিষ্ট টাকা দিতে হয় এবং যার বিনিময়ে তারা আপনাকে তাদের সার্ভিস দেয়।

যেখানে আপনি হ্যাক ভার্সনে পাচ্ছেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে। যেখানে আপনি যদি খেয়াল করেন যে, পৃথিবীতে বর্তমানে কেউ কোন কিছু বিনামূল্যে করে না। অনলাইন দুনিয়ায় কেউ আপনাকে বিনামূল্যে কোন সার্ভিস দিবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে, এখানে তাদের কোনো না কোনোভাবে স্বার্থ জড়িত রয়েছে। আপনি যখন প্লে স্টোর থেকে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ফ্রিতে ডাউনলোড করেন তখন সে ক্ষেত্রেও তারা সেখান থেকে লাভ করে থাকে। তারা আপনাকে বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে কিংবা তাদের প্রিমিয়াম সেবা নেওয়ার মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে আয় করে থাকে।

কিন্তু mod বা হ্যাক ভার্সন বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করার পর সেখানে ফ্রিতে প্রিমিয়াম সেবা পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে সেসব অ্যাপ্লিকেশন গুলোতে কোন বিজ্ঞাপণ ও থাকে না। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে যে তারা কিভাবে আপনার থেকে আয় করবে বা এখানে তাদের কি স্বার্থ রয়েছে?

তাদের স্বার্থের কথা বলতে গেলে অনেক কিছু রয়েছে। যেখানে আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখানো হবে না কিন্তু আপনার থেকে ডেটা গুলোকে নিয়ে তারা কোন প্রতিষ্ঠান কাছে বিক্রি করে দিতে পারে। তারা যখন কোন প্রিমিয়াম অ্যাপ্লিকেশন কে আবার নতুন করে কোডিং করবে তখন সে অ্যাপ্লিকেশন থেকে ঠিকই প্রিমিয়াম সেবার চার্জ নেবার অপশন বন্ধ করে দেবে, কিন্তু এখানে তারা আরো নতুন কোনো কিছু যুক্ত করেও দিতে পারে।

প্লে স্টোর এর জন্য যখন কোন অ্যাপ তৈরি করা হয় তখন গুগলের শর্ত অনুযায়ী সেই অ্যাপটি তৈরি করতে হয়। কোন একটি অ্যাপে কি রাখা যাবে এবং কি রাখা যাবে না সেটি বিবেচনা করেই একজন অ্যাপ ডেভেলপার প্লে স্টোর এর জন্য অ্যাপ তৈরি করেন। কিন্তু যখন কোন ওয়েবসাইটে কোন অ্যাপ দেওয়া থাকে তখন সেটি গুগল দ্বারা ভেরিফাইড হয় না। যার ফলে সেই আপনি যদি সেখান থেকে অ্যাপটি মোবাইলে ইন্সটল করেন এতে করে সেই অ্যাপের মাধ্যমে আপনার থেকে কি কি তথ্য নেওয়া হবে সেগুলো আপনি জানবেনই না। এখানে এসেই আপনি যদি আপনার microphone এর পারমিশন নেওয়ার মাধ্যমে আপনার কথাগুলো কে রেকর্ডিং করে তবু আপনি কিছুই করতে পারবেন না। কেননা এখানে জবাবদিহি করার কেউ নেই।

কোন জবাবদিহিতা না থাকার কারণে যে কেউ চাইলে কোন অ্যাপ তৈরি করতে পারে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য। তবে এক্ষেত্রে যদি সেই অ্যাপটি প্লে স্টোর এর জন্য তৈরি করা হয় তবে সেখানে তাদের কিছু রুলস অনুযায়ী অ্যাপকে ডেভলপ করতে হয়। এন্ড্রয়েড মোবাইলের ক্ষেত্রে আপনি চাইলেই যে কোন ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো mod app ইনস্টল করার মাধ্যমে আপনার মোবাইলে সেটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এই কাজটি আপনি আপনার ডিভাইসের ক্ষেত্রে পাবেন না।

অ্যাপেলের আইফোন এ আপনি কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন আজেবাজে অ্যাপ ডাউনলোড করে সেটি মোবাইলে ইন্সটল করতে পারবেন না। কেননা এতে করে আপনার প্রাইভেসির অনেক সমস্যা হবে। আপনি অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে যখন কোনো অ্যাপ আপনার মোবাইলে ইন্সটল করবেন তবে সেটাতে যদি এমন কোন কোডিং থাকে, যার মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত কোনো তথ্য চলে যেতে পারে সেই হ্যাকারদের হাতে। এজন্যই অ্যাপল কোন mod অ্যাপ ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।

আইফোন এ কোন অ্যাপ মোবাইলে ইন্সটল করার জন্য তাদের অ্যাপল স্টোর ব্যবহার করতে হয়। তবে গুগল প্লে স্টোর এর মত 'অ্যাপল স্টোর' এ আপনি কোন আজেবাজে অ্যাপ্লিকেশন পাবেন না। গুগল প্লে স্টোর এর জন্য অ্যাপ তৈরি করার চাইতে অ্যাপেল স্টোর এর জন্য অ্যাপ তৈরি করা অনেক কঠিন।

এবার আপনি বুঝতে পারছেন যে অ্যাপেলের আইফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি সিস্টেম কতটা শক্তিশালী। যেখানে আপনি কোন হ্যাক ভার্সন ইনস্টল করার মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হবে না। যেটি কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে সম্ভব। যেহেতু এটি একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, সেজন্য এখানে যে কেউ অ্যাপ তৈরি করতে পারে এবং সেটি চাইলে তার মোবাইলে ইন্সটল ও করতে পারে। যেখানে অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং প্রাইভেসির ও কোন নিশ্চয়তা নেই।

অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে প্রাইভেসিতে তেমন কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বলতে গেলে প্রাইভেসি এখানে অনেক কম। অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে প্রাইভেসি এতটাই দুর্বল যে, আপনি যদি আপনার বন্ধুর সাথে ল্যাপটপ কেনার ব্যপারে কথা বলেন এবং কিছুক্ষণ পর যদি ফেসবুকে চলে যান তখন সেখানে দেখতে পাবেন যে ল্যাপটপের বিজ্ঞাপণ চলে এসেছে। বলতে গেলে সর্বক্ষেত্রেই আপনাকে ট্র্যাক করা হয়। এক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড কিন্তু আপনার কল রেকর্ডিং ট্রেস করছে এবং আপনি আপনার বন্ধুর সঙ্গে কি লিখছেন সেগুলো জানে। যে পারমিশন গুলো কিন্তু মোবাইলে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার সময়ই আপনার থেকে নেয়া হয়।

কিন্তু আইফোন এর ক্ষেত্রে আপনি এরকম কোন রিপোর্ট পাবেন না। আইফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তারা এরকম কোন ডেটা নেয়না। অ্যাপল শুধুমাত্র সামান্য কিছু ডাটা নিয়ে থাকে তাদের অপারেটিং সিস্টেমটি চালানোর জন্য।

এবার আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে সেলিব্রিটিরা কেন আইফোন ব্যবহার করে। সেলিব্রিটিদের কোন তথ্য যদি কেউ পেয়ে যায় তবে সেটি নিয়ে কিন্তু হইচই পড়ে যাবে। এজন্য তারা নিজেদের প্রাইভেসি নিয়ে অনেক সচেতন। তাই তারা বেশি টাকা দিয়ে হলেও আইফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করে। যদিও তাদের টাকার অভাব নেই। এখানে তাদের প্রাইভেসি টিই মুখ্য বিষয়।

আমাদের সবার কাছে প্রথমেই যে ব্যাপারটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল প্রাইভেসি। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা আমরা আমাদের প্রাইভেসি নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেইনা। অনেকেই রয়েছে যারা তাদের ফোনের সিকিউরিটি কে নিয়ে অতটা ভাবে না। তারা নিজের পার্সোনাল ডাটা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমূহ কে কোন গুরুত্বই দেয় না। অনেকেই ভাবে যে আমাদের ডাটাগুলোকে নিয়ে তারা আর কি করবে, যে ইচ্ছা আমাদের ডাটা গুলো নিয়ে নেক।

কিন্তু যারা নিজেদের ব্যাপারে বুঝে তারা জানে যে, কোন ডেটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়। অনেকে ভাবে যদি কোন কোম্পানি ফোন হ্যাক করে বা ফোন থেকে কোন ডেটা চুরি করে কিংবা যদি কোন ভাইরাস চলেই আসে তাহলে অতটা সমস্যা হবার তো কোন কথা নয়। কিন্তু আপনি বিশ্বাস করুন বা নাই করুন আজকের দিনের ডেটা একটা বড় কারেন্সির মত, যেখানে আপনার ডেটা গুলোকে নিয়ে তারা ব্যবসা করবে।

নিজের ডাটাগুলোকে সুরক্ষার জন্য এজন্য অনেকেই আইফোনকে পছন্দ করে। কারণ এখানে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি আর সর্বোচ্চ প্রাইভেসি আপনি পেয়ে যাবেন। অ্যাপেলের শুধু আইফোন এই নয়, বরং অ্যাপল এর প্রত্যেকটি ডিভাইসে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি পাওয়া যায়। যা একজন ব্যবহারকারীকে খুব সহজে আকৃষ্ট করে। যেটি কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে হয় না।

অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে একটা সবথেকে বড় সমস্যা হলো যে এটা একটা ওপেনসোর্স সফটওয়্যার। এজন্য যে কোন কোম্পানি অ্যান্ড্রয়েডকে নিয়ে মডিফাই করে নিজের ফোনেতে চালাতে পারে। আর এতে করে আপনি জানতেও পারবেন না যে ফোনে কি মডিফিকেশন করা হয়েছে। অ্যানড্রয়েড যেহেতু একটি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার, এজন্য খুব সহজেই হ্যাকাররা বুঝতে পারে যে কিভাবে এটিকে হ্যাক করতে হয়। যে কারণে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস সহজেই হ্যাকারেরা হ্যাক করতে পারে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে সিকিউরিটির দিক বিবেচনা করলে স্যামসাং মোবাইলের সিকিউরিটি সিস্টেম অন্যান্য ফোনের চাইতে অনেক ভাল। এখানে অন্যান্য ফোনের চাইতে সিকিউরিটি অনেক বেশি পাওয়া যায়।

অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার হাওয়ায় এটিতে হ্যাকাররা বিভিন্ন ম্যালওয়ার এবং স্পাইওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত করতে পারে। তবে সব অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসেই খুব সহজে ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকেনা। বিশেষ করে কমদামি বা মিড রেঞ্জের ফোন গুলোতে অ্যান্ড্রয়েড এসব ম্যালওয়ার খুব সহজেই প্রবেশ করে এর জন্যই মিড রেঞ্জের ফোন গুলোতে ভাইরাসের কারণে ফোনটি স্লো এবং হ্যাং হয়ে যাবার ঘটনা বেশি হয়। যে সমস্যাটি কিন্তু আইফোনের সঙ্গে সচরাচর দেখা যায় না। কেননা আইফোনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

২. অ্যাপেলের প্রোডাক্ট এর প্রিমিয়াম হওয়ার কারণে

অ্যাপেলের প্রোডাক্ট অনেক প্রিমিয়াম হয়ে থাকে। আপনি যদি অ্যাপলের কোন প্রোডাক্ট দেখে থাকেন তবে বুঝতে পারবেন যে অন্য সব প্রোডাক্ট এর চাইতে তাদের প্রোডাক্ট কতটা প্রিমিয়াম হয়ে থাকে। অ্যাপেলের প্রোডাক্ট শুধুমাত্র দেখতেই সুন্দর নয়, বরং অ্যাপেলের রয়েছে দারুন সব ফিচার। যে কারণে একজন ব্যবহারকারীকে খুব সহজেই অ্যাপলের প্রোডাক্টগুলো আকর্ষণ করে। অ্যাপলের এই প্রিমিয়ামনেস সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করার একটি বড় কারণ।

সেলিব্রিটিরা সবসময় প্রিমিয়াম জিনিস ব্যবহার করতে পছন্দ করে। তাদের ব্যবহার্য সকল জিনিসপত্র যেমন বাড়ি-গাড়ি সবকিছুই হয় আকর্ষণীয়। যেখানে অ্যাপেলের আইফোন অনেকটা স্ট্যাটাস বহন করে। যেহেতু আইফোন একটি প্রিমিয়াম ডিভাইস, যেজন্য তারা অ্যাপেলের আইফোন কে ব্যবহার করে। তবে শুধুমাত্র অ্যাপেলের ফোনগুলো প্রিমিয়ামনেস হয় এটিও বলা যাবে না। স্যামসাংয়ের ফোন গুলো অনেক প্রিমিয়ামনেস হয়ে থাকে। এছাড়া হুয়াইয়ের ফোন ও অনেক প্রিমিয়াম হয়।

তো এবার প্রশ্ন আছে যে তবে স্যামসাং কিংবা হুয়াইয়ে এর ফোনগুলো মানুষ কেন ব্যবহার করে না। অ্যাপলের ফোনগুলো স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করেন প্রাইভেসী এর কারণে। এছাড়া অ্যাপেলের ফোন গুলোতে বাড়তি কিছু সুবিধা রয়েছে যা অন্যান্য ফোনগুলোতে পাওয়া যায় না। আপনার কাছে যদি অ্যাপেলের একাধিক প্রোডাক্ট থেকে থাকে তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে এখানে কতটা সুবিধা পাওয়া যায়।

অ্যাপল এর ক্ষেত্রে সব চাইতে যে ইন্টারেস্টিং বিষয় তাহলো, এর কপি-পেস্ট সিস্টেম। আপনি যখন এন্ড্রয়েড মোবাইলে কোন লেখা কপি করে সেটি আপনার অন্য কোন ডিভাইসে দিতে চাইবেন তখন সেটি সেই ডিভাইসে যেকোন মাধ্যমে দিতে হবে। কিন্তু অ্যাপলের ক্ষেত্রে আপনি আইফোনে একটি লেখা কপি করে সেটি ম্যাকবুক এ গিয়ে সেটি পেস্ট করতে পারবেন। এখানে আপনাকে কোন মাধ্যমে সেই লেখাটি সেই ডিভাইসে পাঠাতে হবে না। এটা কিন্তু একটা দারুন ফিচার।

সেলিব্রেটিরা যারা আইফোন ব্যবহার করে তারা রেম ও রম এর দিকে অতটা নজর দেয় না। আইফোন এর ক্ষেত্রে যে Ram ও Rom দেওয়া থাকে এতে করে অন্যান্য ফোনের চাইতে এর স্থিতিশীলতা অনেক বেশি হয়ে থাকে।

৩. সেলিব্রিটিদের আইফোন ব্যবহারের আরও একটি কারণ এর স্থিতিশীলতা অনেক বেশি

একটি এন্ড্রয়েড মোবাইলে চাইতে কিন্তু আইফোনের Stability বা স্থিতিশীলতা অনেক বেশী হয়ে থাকে। আইফোনের ক্ষেত্রে তাদের Ram ও Rom কম হওয়া সত্বেও তাদের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর যে অপটিমাইজেশন থাকে তা দিয়ে অনেক ভালোভাবে চলে।

আপনি বর্তমানে অনেক অ্যান্ড্রয়েডের ফোন দেখতে পাবেন যেগুলো অনেক ফাস্ট। কিন্তু অ্যাপেল আগাগোড়াই এরকমই ছিল। অ্যাপেলের শুরু থেকেই এই সুবিধাটি ছিল। এর কারণ হলো যে, অ্যাপল এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট টা খুবই ভালো। তার মানে তাদের অপারেটিং সিস্টেম এবং তাদের তৈরি সফটওয়্যার গুলো তাদের ফোনের Ram, Processor, GPU কে খুব সুন্দর ভাবে ম্যানেজ করতে পারে। এক্ষেত্রে অ্যাপলের প্রতিটি ডিভাইসকে তাদের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর সমন্বয় রেখেই তৈরি করা হয়। যাতে করে সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার ঠিকমতো অপটিমাইজ করতে পারে।

অ্যাপলের প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর মধ্যে এই সমন্বয় থাকার কারণে অ্যাপেলের মধ্যে কম ক্যাপাসিটির ব্যাটারি থাকলেও সেটা অনেক ভালো এবং বেশিক্ষণ পারফরম্যান্স দেয়, যেটি এন্ড্রয়েড ডিভাইসের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের 4000mAh এর ব্যাটারি দিয়ে যেখানে সারাদিন চালাতে পারেনা, কিন্তু একটা আইফোনের 3000mAh-3500mAh দিয়েই সারা দিন চলে যায়। কম ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি দিয়ে দীর্ঘক্ষন চলার কারণ হলো অ্যাপল তাদের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নিজেরাই ডিজাইন করে।

অ্যাপেল তাদের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নিজেরাই ডিজাইন করার কারণে তাদের ডিভাইসে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কে নিজেরাই অপটিমাইজ করতে পারে এবং পুরোপুরি কাজের জন্য তৈরি করতে পারে। যেখানে একটি এন্ড্রয়েড ফোন তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি যন্ত্রাংশ নিতে হয় এবং সে গুলোকে অপটিমাইজ করে লাগাতে হয়। যেখানে এসব কোম্পানিগুলো ঠিকমতো সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার তাদের মত অপটিমাইজ করতে পারে না।

অ্যাপল এর আরও একটা সুবিধা হলো এর ইকোসিস্টেম। অন্য কোন প্রোডাক্ট নেই যার ইকোসিস্টেম এত সুন্দর। যারা অ্যাপেল ডিভাইসের জন্য অ্যাপ ডিজাইন করে তারা ভালভাবেই জানে যে অ্যাপলের জন্য অ্যাপ ডিজাইন করতে গেলে কত প্যারামিটার কে অ্যাপ্রুভ করাতে হয়। যেখানে আপনি আজেবাজে কোন অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন না আপনার ডিভাইসের জন্য। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এতটা কঠিন নয়। অ্যান্ড্রয়েড যেহেতু একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম এজন্য এটিকে যে কেউই কাস্টমাইজ করে তাদের ডিভাইসের জন্য তৈরি করে এবং যে কেউই অ্যান্ড্রয়েডের জন্য অ্যাপ তৈরি করতে পারে।

অ্যাপল এর ক্ষেত্রে অ্যাপ তৈরী করার ক্ষেত্রে অনেক প্যারামিটার মেনে অ্যাপ তৈরি করার কারণে অ্যাপেলের অ্যাপস্টোর এ আপনি ভুলভাল কোন অ্যাপ পাবেন না। যেমনটি এন্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। এখানে যেরকম ইচ্ছা সে রকম ভাবে এন্ড্রয়েডের মতো অ্যাপ ডেভলপ করা যায় না।

বন্ধুরা তবে এই ছিল আইফোন নিয়ে আজকের টিউনের বিষয়। আইফোন কেন এত দামি হয় এ নিয়ে আমার পূর্বের আরো একটি টিউন রয়েছে। আইফোন সম্পর্কিত সেই টিউনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আজ তবে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 116 টি টিউন ও 50 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 13 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস