ইন্টারনেট অফ থিংস আইওটি – আপনার জীবন হবে সুপারস্মার্ট!

Level 2
Student, ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), ঢাকা

আসসালামুআলাইকুম টেকটিউনস বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন। আমিও মহান আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আচ্ছা বন্ধুরা আপনাদের কি জানা আছে “ইন্টারনেট অফ থিংস কি”। এটা কিভাবে কাজ করে? কি জন্য ব্যবহার করা হয়? অনলাইনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্টারনেট অফ থিংস নিয়ে ভালোই আলোচনা হয় সেই সুবাদে নেটি-জেনদের বেশীর ভাগই এটা সম্পর্কে হালকা পাতলা ধারণা আছে। ইন্টারনেট অফ থিংস কে সংক্ষেপে আইওটি বা Internet of Things (IOT) বলা হয়। এটার নাম থেকেই এই প্রযুক্তি সম্পর্কে হালকা ধারণা করতে পারে টেকনোলজি নিয়ে যাদের নূন্যতম জানাশোনা আছে। ইন্টারনেট অফ থিংস নিয়ে আমার যেটুকু জ্ঞান আছে সেই সামান্য জ্ঞানের মধ্য থেকে এটার সম্পর্কে এটার পরিচিতি তুলে ধরব এবং এই আইওটি প্রযুক্তি কি তা আপনাদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানোর চেষ্টা করব। আশাকরি আজকের টিউনের মাধ্যমে “ইন্টারনেট অফ থিংস” সম্পর্কে পরিষ্কার এবং ভাল একটি ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের টিউন “ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) - আপনার জীবন হবে সুপারস্মার্ট!”।

ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) বা Internet OF Things (IOT)

ইন্টারনেট অফ থিংস নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটা কি। জিনিষপত্রের ইন্টারনেট। অবাক হচ্ছেন! মানুষজন তাদের প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাই বলা যায় মানুষের ইন্টারনেট। জিনিষপত্রের ইন্টারনেট সেটা আবার কি? ইন্টারনেট অফ থিংস এর আসল রহস্য এই জায়গায়! সমস্ত প্রকার ইলেকট্রনিক্স ডিজিটাল ডিভাইসগুলো বা পণ্যগুলো যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে একে অপরের সাথে, মালিকের সাথে, বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মের সাথে একেবারে মানুষের মতই যোগাযোগ করতে পারে, তাদের সম্পর্কে আপডেট জানাতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা কাটা করতে পারে তখন তাকে ইন্টারনেট অফ থিংস বলে। শুধু এগুলো করতে পারলেই তাকে ইন্টারনেট অফ থিংস বলে না এর বাইরেও আরও নানা ধরনের চমকপ্রদ কাজ করে থাকে। একজন মানুষ তার নিজের ঘরের যন্ত্রপাতিসহ নানান ধরনের ডিভাইস গুলোকে পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে আবার তার যন্ত্রপাতি বা ডিভাইসগুলো তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে এই ধারণার উপর ভিত্তি করেই ইন্টারনেট অফ থিংস গড়ে উঠেছে। শুধু ধারণাই গড়ে উঠেনি বর্তমানে নানা ধরনের আইওটি ডিভাইস বাস্তবেই পাওয়া যাচ্ছে।

দৈনন্দিন ব্যবহার্য্য ডিভাইসগুলো নিজেরাই নিজেদের সাথে যোগাযোগ করে

আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি, জিনিষপত্র, টুলস, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, গ্যাজেটসহ টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইত্যাদি জিনিষপত্র ব্যবহার করি। এই যন্ত্রপাতি বা জিনিষপত্র বা ডিভাইসগুলো যদি একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারত! তাদের বিভিন্ন স্ট্যাটাস জানাতে পারত! একটি সেন্ট্রাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবাই একে অপরের সাথে যুক্ত থাকতে পারত! একটি ফ্রিজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারত! একটি অনলাইন টিভি নিজেই নিজের বিভিন্ন চ্যানেলের কাছ থেকে নেয়া সাবস্ক্রিপশন এর মাসিক বিল পরিশোধ করে দিতে পারত! এক কথায় আমাদের বাসা বাড়ি বা অফিসে ব্যবহার্য্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস গুলো ঠিক মানুষের মতোই তাদের প্রয়োজন জানাতে পারত এবং সেই প্রয়োজন মত কেনাকাটা করতে পারত! তাহলে কেমন হতো! ইন্টারনেট অফ থিংস বা আইওটি ডিভাইসগুলো ঠিক তাই করতে পারে। এমনকি আমাদের ধারণা থেকেও বেশী কিছু করতে পারে যা এতো দিন আমরা বিভিন্ন সাইফাই মুভিতে দেখে এসেছি।

ফ্রিজ নিজেই খাবার কিনবে এবং খাবারের গুনাগুণ খেয়াল রাখবে!

মনে করুন আপনি প্রচুর ব্যস্ত একজন মানুষ আপনার ফ্রিজে কি কি খাবার আছে, কি কি পণ্য অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে তা সময়ের অভাবে প্রায়ই আপনার খোঁজ নেওয়া হয় না বা নিতে পারেন না। এজন্য আপনি নানা ধরনের ঝামেলায় পড়ে যান বা প্যারায় থাকতে হয়। এরূপ ঝামেলার জন্য বেশীর ভাগ মানুষেই আলাদা লোক রাখে কেনাকাটা বা বাজার সদাই করার জন্য। কিন্তু মানুষের বদলে আপনাকে আপনার ফ্রিজ নিজেই জানিয়ে দিল আর তিন দিনের মাংস আছে, দুই দিনের মাছ আছে, দুধ ফুরাতে আর মাত্র একদিন বাকি এগুলো কিনতে হবে এবং রানিং মাসের খাবার দাবার মাছ মাংস ইত্যাদি কতটুকু পরিমাণ লাগবে তা হিসাব করে আপনার ফ্রিজ নিজেই কিনে ফেলল আপনাকে কোন ঝামেলা পোহাতে হল না। এমনকি ফ্রিজে রাখা কোন খাবারের গুনাগুণ কেমন আছে সেটা আর কত দিন খাওয়া যাবে ইত্যাদি তথ্য গুলো আপনাকে নিয়মিত আপডেট করে জানিয়ে দিল, আপনাকে আর বার বার নিয়মিত ফ্রিজের ঢাকনা খুলে চেক করা লাগছে না খাবারের গুনাগুণ কেমন আছে। একটি ফ্রিজ কি কি কাজে ব্যবহার করা হয় এবং ফ্রিজটি আপনাকে কোন না ভাবে অপারেট করতে হয় প্রতিদিনই প্রায়। ফ্রিজটি যদি আওটি প্রযুক্তি সম্পন্ন হয় তাহলে আপনাকে আর এই রকম কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। ফ্রিজ নিজেই আপনার হয়ে আপনার মতোই ক্ষেত্র বিশেষে আপনার থেকেও স্মার্ট ভাবে ফ্রিজ-জনিত সকল কাজ করে দেবে!

আপনার দৈনন্দিন জীবনকে সহজ এবং স্মার্ট করে তুলবে!

মনে করুন আপনার বাসার সকল আসবাবপত্র, দরজা জানালা, ডিভাইসগুলো আইওটি সুবিধা সম্পন্ন তাহলে আপনার জীবন হয়ে উঠবে সহজ, সুন্দর, সুপারস্মার্ট! আপনার হাতে থাকা মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার থেকেই আপনি আপনার বাসার সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, অফিসে বসেই আপনার বাগানের ফুল গাছ গুলোতে পানি দিতে পারবেন, রান্না করা খাবার অফিসে বসেই গরম করে রাখতে পারবেন আপনি বাসায় যাওয়ার আগেই। এমনকি আপনি আপনার শিডিউল জানিয়ে রাখলে নিয়মিত সেই কাজ গুলো আপনার ডিভাইসগুলো আগেই করে রাখবে আপনাকে আর বাড়তি টেনশন করা লাগবে না কাজ গুলো হয়েছে কিনা।

হয় তো আপনি অফিস থেকে বের হলেন সাথে সাথে আপনার বাসায় যাওয়ার স্ট্যাটাস আপডেট হয়ে আপনার বাসার আইওটি এর সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ইউনিটে চলে গেল। কন্ট্রোল ইউনিট আপনার বাসার সকল আইওটি ডিভাইসগুলোকে সেই আপডেট জানিয়ে দিল আর ডিভাইসগুলো সাথে সাথে আপনার বাসায় যাওয়ার পর কি কি প্রয়োজন হবে তা আগে থেকেই করা শুরু করল। বাসায় যেয়ে গোসল করা লাগবে আগে থেকেই আইওটি গিজারটি আপনার জন্য পানি গরম অথবা ঠাণ্ডা করে রাখল। বাসায় যেয়ে ঠাণ্ডা জুস খাবেন তাই আপনার ব্লেন্ডার মেশিনটি ফ্রিজের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজন মতো ফল নিয়ে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে রাখল। আপনার বেডরুমের এসি আগে থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী টেম্পারেচার কমিয়ে বাড়িয়ে আপনার জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে রাখল। আপনি বাসায় ঢুকার সময় দরজা অটোমেটিক খুলে গেল, বাসায় ঢুকে কাপড়চোপড় খুলে ছুড়ে দিলেন আপনার ওয়াশিং মেশিন সেগুলো কালেক্ট করে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে রাখল। এরকম নানান ধরনের অবাক করা কাজ কর্ম করে দেখাতে পারে আইওটি সিস্টেম স্মার্ট হোম।

শেষ কথা

তো বন্ধুরা আজকের টিউনে ইন্টারনেট অফ থিংস আইওটি ডিভাইস এবং আইওটির কিছু কাজ এবং সুযোগ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করলাম। বিশেষ করে আইওটি দিয়ে কি কি করা সম্ভব কিভাবে করা সম্ভব তাই নিয়ে আলোচনা করলাম। উন্নত বিশ্বে অনেক আগে থেকেই আইওটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে এবং অনেক ধরনের আইওটি ডিভাইস অলরেডি তৈরি করে ফেলেছে। আমাদের দেশে এই ধরনের ডিভাইস খুব সহজে পাওয়া যায় না আর গেলেও সেগুলো খুবই বেসিক লেভেলের। সর্বোচ্চ আপনি আপনার বাসার লাইট ফ্যান কন্ট্রোল করতে পারবেন, আপনার সিসিক্যামেড়ার আউটপুট দেখতে পারবেন। হয় তো অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও স্মার্ট ডিভাইসগুলো সহজলভ্য হবে। আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংস এখনও গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে আর অনেক এডভান্স প্রযুক্তি সম্পন্ন আইওটি ডিভাইস এখনও সারা বিশ্বে সব ধরনের গ্রাহকদের জন্য বাজারে রিলিজ করা হয় নি। আমাদের দেশেও আইওটি নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণা হবে অদূর ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ। তো বন্ধুরা আজকের টিউন এখানেই শেষ করছি। পরবর্তী টিউন নিয়ে খুব শ্রীর্ঘ্যই হাজির হব আপনাদের সামনে। সবাই ভাল থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

Level 2

আমি মো সাদ্দাম হোসাইন। Student, ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), ঢাকা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 19 টি টিউন ও 5 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস