বজ্রপাত কিভাবে সৃষ্টি হয়

টিউন বিভাগ কী কেন কীভাবে
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

শৈশব থেকে আমাদের মন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায়। যখন উত্তর না পেয়ে হতাশ হয়ে পরি। ঠিক তখন গুগল আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় আর হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমাদের সাহায্য করে। আজকে আমরা জানবো এমন কিছু বিষয়, যা আপনার জ্ঞানকে সামান্য হলেও  প্রসারিত করবে।

বজ্রপাত!
বৃষ্টি বাদলের কমন একটি বিষয় হচ্ছে বজ্রপাত।
যা একটি ভয়ংকর ব্যাপার। আজকে আমরা জানবো  কেন এবং কিভাবে এই বজ্রপাত তৈরি হয়?ছোটোবেলায় বড়দের কাছ থেকে শুনতাম দুটি মেঘের ঘর্ষনের ফলে বজ্রপাত ঘটে। যেমন দুটি পাথর ঘষলে স্পার্ক ও শব্দ তৈরি করে। ঠিক একারণেই বজ্রপাত হয়। যা একটি বড় ধরনের ভুল ধারণা।

তাহলে সঠিক
ধারণাটি কি?"স্ট্যাটিক ইল্যাক্ট্রিসিটি"এর নাম শুনেছেন? এখানে ঠিক এই ব্যাপারটিই ঘটে। সহজ ভাষায় বলি, চিরুনী দিয়ে চুল আচরানো পরে সুতা কিংবা কাগজের সামনে ধরলে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। এর কারন হলো চুল ও চিরুনীর ঘর্ষনের ফলে চুলের পরমাণু চিরুনীর মধ্যে থাকা ইল্যাক্ট্রন গ্রহন করায় চার্জ বা আধান সৃষ্টি করে। এটিইহচ্ছে"স্ট্যাটিকইল্যাক্ট্রিসিটি"এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে এখানে আলো ও শব্দ তৈরি হয়ে না কেন?চিরুনীর মধ্যে ভোল্ট কিংবা বিভবশক্তি কম থাকায় স্পার্ক ও শব্দকোনোটাই তৈরি হয়না। ঠিক একইভাবে সূর্যের তাপে সাগর ও ভুমি থেকে পানি জলীয়বাষ্প আকারে ঠান্ডামেঘে রুপান্তরিত হয়। এখানে মেঘ ও বাতাসের সাথে ঘর্ষণের ফলে নিজেদের মধ্যে আধান বা চার্জ তৈরি করে। মেঘের উপরের স্তরে তৈরি হয় পজিটিভ চার্জ এবং নিচে নেগেটিভ চার্জ, অনেকটা ক্যাপাসিটারের মত, একবার পজেটিভ ও নেগেটিভ তার সংযুক্ত করলে স্পার্ক করে সাথে সাথে ডিসচার্জ হয়ে যায়।

ঠিক তেমনি ভাবে মেঘের মধ্যে থাকা পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্জ ৩ উপায়ে সংযুক্ত হয়ে ডিসচার্জ হয়।

১.Cloud to Lighting
একটি মেঘের মধ্যে পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্জ মিলিত হয়ে স্পার্ক ও সাউন্ড তৈরি করে। এ-ই বজ্রপাতের শব্দ খুবি কম হয়।

২.Cloud to Cloud Lighting
দুইটি মেঘের মধ্যে পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্জ সংযুক্ত হয়ে যেই আলো ও শব্দ তৈরি করে, সেই বজ্রপাতের শব্দ মিডিয়াম পর্যায়ের হয়।

৩.Cloud to Ground Lighting
মেঘ ও ভূমির মধ্যে বিশেষ করে উচু ভূমিতে কিংবা উচু গাছ, উচু ভবন সাধারণত পজেটিভ চার্জের হয়। মেঘের নিম্নাংশের নেগেটিভ চার্জ ও উচ্চ ভূমির পজেটিভ চার্জ সংযুক্ত হয়ে আলোর ঝলক এবং বিকট শব্দ তৈরি করে। যাকে আমরা বলি বজ্রপাত।

একটি বজ্রপাতের শক্তি ১০০ মেগা ভোল্ট হয়ে থাকে। যার ভিতরে ৫০-৯০ কিলো অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হয়। যার পরিমান এতই বেশি যে, তা যদি স্টোর করা যায়। তবে তা একটি গোটা শহরে একদিনের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা ২৭০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়। যার কারনে বায়ুর মধ্যে সম্প্রসারণ ঘটে এবং সংকুচিত হয়। এটা অনেক দ্রুত ঘটে। আর এ কারনেই আমরা এমন বিকট শব্দ শুনতে পাই।

যদি আলোর ঝলকানির ১-৩০ পর্যন্ত গুনার পর শব্দ হয়, তাহলে বুঝতে হবে বজ্রপাতটি আপনার থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হয়েছে। এখানে প্রতি সেকেন্ডের  দূরত্ব ৩০০ মিটার।

বজ্রপাতের দেশ বলা হয় ভুটানকে।

Level 2

আমি আহমাদ উল্লাহ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 20 টি টিউন ও 24 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 7 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

সফল হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিবার হার মানার আগে আরেকবার চেষ্টা করা।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

টিউনটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।