$১.১ বিলিয়ন ডলারে এইচ টি সি’র স্মার্টফোন টিম কিনছে গুগল!

টিউন বিভাগ গুগল
প্রকাশিত

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালো। আজ কথা বলবো গুগল-এর নতুন একটি খবর নিয়ে। তো চলুন শুরু করা যাক।গুগল এবার বেশ বড় একটি খরচ করতে যাচ্ছে তাদের স্মার্টফোন হার্ডওয়্যার-এর জন্য, আর তা না হলে কিছু দক্ষ লোক, যারা স্মার্টফোন হার্ডওয়্যার তৈরি করবে। কোম্পানিটি এটা নিশ্চিত করেছে যে তারা এইচ টি সি'র মোবাইল বিভাগ দলকে ৳১.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিতে চাচ্ছে। গুগলের হার্ডওয়্যার প্রধান তার ব্লগের লেখায় বলেন,

"এই লোকগুলো দারুণ কাজ করে। আমরা পিক্সেল স্মার্টফোন তৈরির সময় এদের খুব কাছ থেকে দেখেছি ও কাজ করেছি। আর আমরা খুশি যে দেখি এদের মতো দারুণ একটা দল নিয়ে  আমরা কী করতে পারি।"

এইচ টি সি'র ফিনানশিয়াল অফিসার পিটার শেন বলেন, এই ডিল বাস্তবায়ন পর এইচ টি সি আরো ২০০০ গবেষক ও কর্মী নিয়োগ দেবে। আর নিউইয়র্ক টাইম্‌স অনুসারে এ সংখ্যা প্রায় ৪০০০। তাই এ বিষয়টি ঘোষণাটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। এছাড়াও তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এইচ টি সি তাদের মেধা ও কারিগরের একটা অংশ গুগলের কাছে পাঠানোর পরও তাদের নিজস্ব ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশাবাদী।

এইচ টি সি'র সি ই ও শের ওয়াং বলেন,

"এই চুক্তিটি আমাদের এইচ টি স্মার্টফোন ও ভাইভ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি'র ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবার ব্যাপারটা নিশ্চিত করবে"।

এইচ টি সি'র প্রেস রিলিজ থেকে প্রাপ্ত এক তথ্য থেকে জানা যায় যে তারা সক্রিয়ভাবে তাদের পরবর্তী নতুন স্মার্টফোন তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে এটা হলো গুগল-এর দ্বিতীয় বড় কোনো চুক্তি। ৬ বছর আগে গুগল ৳১২.৫ বিলিয়ন ডলারে মটোরোলা'র সাথে প্রথম চুক্তিটি করেছিল। সে সময় গুগল-এর সি ই ও ল্যারি পেইজ বলেছিলেন,

"আমরা এক হয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবো যা  পুরো অ্যান্ড্রয়েড জগতের গ্রাহক, সহযোগী ও ডেভেলপারদের উন্নতিতে সহায়ক হবে"।

গুগলের অধীনে, মটোরোলা আমেরিকায় তাদের কোম্পানি চালু করে আর গ্রাহকদের কাছে অনন্য সুবিধাসম্পন্ন স্মার্টফোন মটো এক্স (Moto X)  পৌঁছে দেয়।

কিন্তু ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে, মটোরোলার সাথে ঠিকভাবে বনিবনা না হওয়ায় গুগল একদম পানির দামে এটি লেনোভো'র (Lenovo) কাছে বিক্রি করে দেবার চুক্তিতে পৌঁছায়। এই মটোরোলা'র সাথে চুক্তিটি দেখা হয়েছিল মূলত বিশ্বে আরো ভালো একটা অবস্থান তৈরি করার একটা সংক্ষিপ্ত রাস্তা হিসেবে। কারণ, সে সময় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানদের আদালতে বেশ দৌড়াদৌড়ি করতে হতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তাই সব মিলিয়ে এটাকে মোটেও সফলতা বলা যায় না।

মটোরোলা'র সাথে এরকম অভিজ্ঞতার পর গুগল তাদের স্মার্টফোন নির্মাতাদের সাথে নেক্সাস নিয়ে কাজ করা শুরু করে, বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট ছাড়ার জন্য, যা চলবে গুগল-নির্মিত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা।

গুগল অবশ্য গত বছর থেকেই তাদের হার্ডওয়্যারে উন্নতির জন্য বেশ মনোযোগী হয়েছে। আর তা পিক্সেল, পিক্সেল এক্স এল স্মার্টফোন, গুগল হোম ও গুগল ওয়াইফাই-এর কাজগুলো দেখেই বোঝা যায়। এইচ টি সি ২০১৬ সালে গুগলের পিক্সেল স্মার্টফোনটির ম্যানুফ্যাকচারিং এর দায়িত্ব নেয়।

যদিও এর ডিজাইন করেছিল গুগল আর মার্কেটে এটা গুগলের পণ্য হিসেবেই পরিচিত ছিল। এক কথায় এইচ টি সি এখানে নীরব কর্মীর ভূমিকা পালন করে। তবে মজার ব্যাপার হলো মটোরোলা গুগলের অধীনে থাকার সময় যিনি মটোরোলার প্রধান ছিলেন, সেই রিক ওস্টারলোহ'ই এখন গুগলের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এইচ টি সি'র একটা অংশকে কিনে গুগল অনেকটা স্যামসাং, এল জি, হুয়াওয়ে সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে একরকম চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিলো। ওস্টারলোহ বলেন,

"আমরা ২০১৭ সালটা নিয়ে বেশ উল্লসিত, আর আগামী পাঁচ, দশ এমনকি ২০ বছরে আমরা কোথায় যাবো সে বিষয়টি ভেবেও আমরা উৎসাহ পাচ্ছি। গ্রাহকেরা যেসকল পণ্যের উপর প্রতিদিন আস্থা রাখে সেসকল পণ্য তৈরি করাটা একটা দীর্ঘ ভ্রমণের মতো, আর আমরা সেই দীর্ঘ ভ্রমনের যাত্রী হতে চাই"।

গুগলের এই চুক্তিটি অনেকটাই গুগলকে এগিয়ে দেবে অাইফোন-এর মতো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা পাবার দিকে। এ বছরের শুরুর দিকে গুগল অ্যাপলের একজন চিপ নির্মাতাকে ভাড়া করে, কীভাবে বর্তমান সিলিকন ডিজাইনকে অতিক্রম করে নতুন কিছু তৈরি করা যায় এজন্য। আর, এইচ টি সি উইন্ডোজ মোবাইল ডিভাইসেও কাজ করেছে। আর সব মিলিয়ে তাই প্রায় এক দশক ধরে তারা গুগল ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম  নিয়ে কাজ করছে। যেটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা।

এইচ টি সি'র প্রথম স্বপ্ন ছিলো কমার্শিয়াল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস তৈরি করা যা ২০০৮ সালের দিকে তারা রিলিজ করে। এর পরপরই এইচ টি সি গুগলকে সাহায্য করে গুগল নেক্সাস বের করার কাজে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালে রিলিজ হয় নেক্সাস ওয়ান স্মার্টফোন।

তবে এইচ টি সি'ও কিন্তু বসে নেই। আমেরিকার ফোর জি প্রযুক্তির সাথে অনেক আগে থেকেই লেগে ছিল এইচ টি সি। ইভো ফোর জি-ই এর প্রমাণ। ২০১১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিই এল ই টি স্মার্টফোন তৈরি করে। এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে এইচ টি সি প্রযুক্তির জগতে বেশ ভাল সুবাতাস ছড়িয়ে গেছে।

তবে এইচ টি সি'র সাথে এই চুক্তি কতটা ফলপ্রসু হবে তা এখনও ঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, গুগলের অতীত রেকর্ড ঘাটলে দেখা যায় গুগলের সেরকম কোনোকিছুতে স্থির হবার স্বভাব নেই। তবে ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে গুগল সামনের দিনগুলোতে যে বেশ চমক দেখাতে পারবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

পরিশেষে, টেকটিউনস হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার এক সুবিশাল প্ল্যাটফর্ম।প্রতিনিয়তই থাকবেন নতুন নতুন জ্ঞানের মধ্যে। জানবেন অজানাকে। তবে হ্যাঁ। শুধু জেনেই বসে থাকবেন না। এই জ্ঞানগুলো ছড়িয়ে দিন তাদের নিকট যাদের কাছে এই টিউনগুলো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। জ্ঞান নিজের কাছে রাখার জিনিস না। ছড়িয়ে দিন আশেপাশে যারা আছে সবার মাঝে। প্রযুক্তিকে ভালবাসুন, প্রযুক্তির সাথে থাকুন। টেকটিউনসের সাথে থাকুন।

আজকের মতো এ পর্যন্তই। সামনে আবারও হাজির হবো নতুন কোনো তথ্য নিয়ে। আর টিউনটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। টিউন বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে টিউমেন্ট বক্সে প্রশ্নটি করুন। এছাড়াও ফেইসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ফেইসবুকে আমি: Mamun Mehedee

Level 2

আমি মামুন মেহেদী। Civil Engineer, The Builders, Bogra। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 92 টি টিউন ও 361 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 12 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

আমি আপনার অবহেলিত ও অপ্রকাশিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস