
প্রথমেই সকল মুসলিম ভাই বোনদেরকে আমার সালাম ও আসন্ন ঈদ উল আজহার মুবারকবাদ জানাচ্ছি, আসসালামু আলাইকুম। অন্য ভাইবোনদের জানাচ্ছি শুভেচ্ছা।
দীর্ঘদিন পরে এখানে ফিরে এলাম। আগের মত আর লেখা হচ্ছে না। তাই একটু আমার পরিচয় দিয়ে নিই। আমি তাহমিদ হাসান মুত্তাকী। মুত্তাকী নামেই পরিচিত, কিন্তু ডাকনাম তাসিন। জন্মসূত্রে আমি মানুষ, তবে কর্মসূত্রে কি সেটা জানি না। কর্মসূত্রেও মানুষ হওয়ার ইচ্ছা। গ্রিন রেঞ্জারস+ এর এডমিনদের একজন। অনেকদিন পরে লিখছি বলে একটু ভূমিকা করলাম। তো, আর বেশি কথা বাড়ালে হয়ত আপনারা রাগ করতে পারেন তাই মূল টিউনে আসি।
আজকের টিউনের বিষয়বস্তু তো টাইটেলেই লিখেছি। আর মেগা টিউন কিনা সন্দেহ আছে বলে একটা প্রশ্নচিহ্ন দিয়েছি। গুগল ম্যাপের একটি নতুন(?) ফিচার স্ট্রিট ভিউ নিয়ে লিখব এখন। যারা এর সম্বন্ধে জানেন, তাদের কাছে হয়ত এটি ৮ বছরের পুরাতন(পুরোটা পড়ুন) মনে হতে পারে। কিন্তু আমার মতে এটা নতুনই আছে। কারণ ৮ বছর আগে কেবল এর সূচনা হয়। আর বাংলাদেশে কার্যক্রম(পুরোটা পড়ুন) শুরু হয় ৩ বছর আগে। কিন্তু খুব এখনো অনেকেই এর সম্বন্ধে অজ্ঞাত। যতক্ষণ না মানুষ না জানছে ততক্ষণ অবশ্যই এটি নতুন। এখন হয়ত আপনাদের মনে আরেকটা প্রশ্ন ঢুকেছে। আমি কেন দুইবার বন্ধনীর ভেতরে 'পুরোটা পড়ুন' লিখলাম। অবশ্যই কারণ আছে। খুব যৌক্তিক প্রধান কারণটা হল, আমরা বাঙালি। এত কষ্টে ৮ বছরের পুরনো কোন কার্যক্রম নিয়ে কে পড়ে? তাই একটু বলতে চাচ্ছি পুরোটা না পড়লে বিষয়টা বুঝবেন না। অল্প/আংশিক বিদ্যা/টিউন পড়া ভয়ঙ্করী। যদি পুরোটা পড়ার ধৈর্য্য না থাকে তবে আপনাদের সুবিধার্থে অল্প একটু বোল্ড করে দিলাম। অন্তত এটুকু পড়ুন।
স্ট্রীট ভিউ কি?
স্ট্রীট ভিউ(Street View) শব্দটি থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটা হল কোন স্থান রাস্তা থেকে দেখতে কেমন তা এই প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যাবে। তাহলে কি এটা রাস্তা থেকে তোলা কিছু ছবি? না। তা নয়। তবে আসলে ছবিই। আবার কি প্যাঁচ লাগিয়ে দিলাম? একটু পরিষ্কার(আরেকটা প্রশ্ন থাকে, নোংরাটা কোথায়?) করব? আসলে এটা হল বিশেষ ক্যামেরা তোলা বিশেষ ধরণের ছবি। এই ক্যামেরাটি আসমান হইতে জমিন পর্যন্ত ৯ টি ছবি তোলে প্রতিটি স্থানের। তবে এটা দেখলেই বুঝবেন কেন এই ছবিকে আমি ছবি বলছি না। ৯টি ছবিকে এরপর একত্র(কম্বাইন) করা হয়। ফলে তৈরি হয় একটি ৩৬০ডিগ্রি(প্যানারোমা) ছবি। যা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখা যাবে। তাহলেও তো এটা ছবিই হল তাই না? কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা আরো অন্যরকম। আপনি এর মাধ্যমে ঢাকা শহরে ঘোরাফিরা করতে পারবেন। বগুড়ার মহাস্থানগড়ের গোকুল মেধ আর গোবিন্দ ভিটায় বিনা টিকিটে ঢুকতে পারবেন। আর কক্সবাজার ভ্রমণটাও সেরে ফেলতে পারবেন। যেতে পারবেন অ্যাভারেস্টের পাশে। উল্লেখ্য যে, ছবি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কেউ অ্যাভারেস্টের চূড়ায় উঠেনায় :'(অবশ্য গুগল ম্যাপের 3D City ফিচারের মাধ্যমে এটা সম্ভব। সেটার নিয়ম আমি এই টিউনের শেষে লিখে দিব।
এখন তাহলে চলুন, স্ট্রিট ভিউ থেকে ঘুরে আসি কক্সবাজার, কি বলেন? অবশ্য কক্সবাজারের রাস্তায় হাঁটাচলা করতে পারলেও সি বিচে শুধু কিছু স্থির ৩৬০ ডিগ্রি ছবি পাবেন। সেগুলোর একটা দেখে নিন। এটাকে মাউস দিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে পারবেন।
ধাপসমূহ:
১। http://www.google.com.bd/maps এ যান।
২। Earth-এ ক্লিক করুন।
৩। উপরের সার্চ বক্সে Cox লিখুন। বাকিটা লেখা লাগবে না, সাজেশনে চলে আসবে 😛 Cox's Bazar, Chittagong Division এ ক্লিক করুন।
৪। এবার সৈকত নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন ম্যাপে? কিন্তু আমরা তো দেখতে চাই আরো উচ্চমানের ভিউ তাই না? একটু জুম করুন। বেশি না, বেশি করলেও সমস্যা নাই, না করলেও নাই। তবে একটু জুম করলে সুবিধা হবে। এখন একটু কষ্ট করে নিচের মানুষটাকে ধরে টানুন(চিত্রে দেখুন)। টানলেই দেখবেন অনেক রাস্তায় আকাশি দাগ বা গোল চিহ্ন দেখছেন। যে জায়গার স্ট্রীট ভিউ দেখবেন সেখানে মানুষটিকে ড্রপ করুন। অবশ্য সবগুলো স্ট্রীটের না। সৈকতসহ বিভিন্ন জায়গার ভিউ আছে। কোন সমস্যা যেন না হয় তাই নিচের ছবিতে মার্ক করে দিলাম-
৫। সবশেষে এরকম কোন ভিউ দেখবেন। এই ভিউটায় মাউস বা কিবোর্ড দিয়ে হাঁটাচলাও করতে পারবেন, সত্যি! এই ভিউটা পেয়েছি এই স্থান থেকে-
এই একইভাবে আপনি আমার বাড়ির পাশের মাঠ, বগুড়ার মহাস্থানগড়, রাজশাহীর রাস্তা, পাহাড়পুর, অ্যাভারেস্টের চূড়া, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সবই দেখে আসতে পারেন! স্ট্রীট ভিউ সত্যিই অসাম, নয় কি? এভাবে আপনি ভ্রমণের কিছুটা স্বাদ নিতে পারেন। অচেনা রাস্তা চিনতে পারেন, আরো অনেক সুবিধা আছে।
এখন তাহলে হয়ত জানতে চাইবেন, HOW IT WORKS?
বছর চারেক আগে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের একটা প্যানারোমা ছবি দেখে অবাক হয়েছিলাম। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছি। সেটার মান ছিল গুগল ম্যাপের চেয়ে অনেক ভাল এটা ঠিক, কিন্তু ওটা একটা মাত্র ছবি। কিন্তু গুগল কভার করেছে প্রায় পুরো পৃথিবীকে। এটা কি স্যাটেলাইটে তোলা? না, গুগলের এই বিশেষ গাড়ি এই ছবিগুলো তোলে। এর উপরের ক্যামেরা একসাথে গোল করে ৮টি ছবি তোলে। যা কম্বাইন করেই হয় এই ৩৬০ ডিগ্রি প্যানারোমা ছবি।

তবে পাহাড়ি রাস্তা, মেরু অঞ্চল, মিউজিয়ামের ভেতরের ছবি তুলতে আলাদা ডিভাইস ব্যবহৃত হয়।




এরপর এগুলোর মাধ্যমে তোলা ৮টি ছবিকে কম্বাইন করা হয়। কিছুটা নিচের ছবির মত।
>
এখানেই অবশ্য শেষ না। এরপর আরেকটু কাজ আছে। নিরাপত্তার সার্থে মুখ, গাড়ীর নাম্বার প্রভৃতি ঘোলা করে দেওয়া হয়। আরো জানতে চান? এখানে যান।
যারা বেশি পড়তে চান না তাদের আল্লাহ হাফেজ। আর ধৈর্য্যশীলদের জন্য আরেকটু লিখি। জানি, কেউ এটা জানতে চাইছেন না, এতদিন না লেখার কারণটা একটু বলি। পরীক্ষা শেষ হলো দিন বিশেক আগে। তবুও পরীক্ষা শেষেও কেন জানি একটু বিশ্রাম নিলাম। বাট বিশ্রাম শেষ হতেই স্কুল প্রাইভেটের জ্বালায় পুনঃ চাপায়িত(চাপে পড়লাম)। মনে হয় পরীক্ষায় এর চেয়ে ভালো। যেই একটু টাইম পাই মারিও ফরেভার না খেলে লিখতে ইচ্ছা হইতেছিল না, তাই আরকি।
আর এখন এভারেস্টের চূড়ায় যাওয়ার বিষয়টা একটু লিখি(সংক্ষিপ্ত করে)।
১। গুগল ম্যাপে Mount Everest সার্চ দিন।
২। জুম করুন। জুম অপশনের উপরে থ্রিডি দিন। সব ব্রাউজার সাপোর্ট করে না। লেটেস্ট ক্রোম বা ফায়ারফক্স থাকলে ভাল হয়।
৩। ব্যাস। এক্সপ্লোর করুন! এক্সপ্লোরের জন্য মাউস বা কিবোর্ডের সাহায্য নিন। অ্যাঙ্গেল পাল্টাতে কন্ট্রোল চেপে মাউসের মাধ্যমে ঘোরান।
৪। আর অলস ব্যক্তিরা শুধু ৪ নম্বর ধাপ ফলো করুন। সোজা এখানে যান।
আশা করি, পাঠকদের ভাল লেগেছে। যদি না লাগে তবে আপনার মূল্যবান অথবা মূল্যহীন(সব বাঙালি সময়ের মূল্য দেয় না, আমার মত কতক আছে) সময় নষ্ট করার জন্য আন্তরিক আন্তরিক দুঃখিত।
টিউনটি ভালো লাগলে টিউমেন্টে ভালো লাগা প্রকাশ করুন এবং আমাদের সাইটে ভিজিট করুন। আর বেশি ভালো লাগলে এবং প্রকৃতই যোগ্য(আমার মতে না) মনে হলে নির্বাচিত মনোনীত করুন।
টিউনটি খারাপ লাগলে টিউমেন্টে আর একটু সময় নষ্ট করে খারাপ লাগার কারণ ও ভালো করার উপায় সম্বন্ধে লিখুন। হয়ত ভবিষ্যতে আমার উন্নতি হবে। আপনাদের যেকোন প্রকার(আক্রমণাত্মক হলেও) সমালোচনা গ্রহণে আমি প্রস্তুত আছি।
আল্লাহ হাফেজ।
আমি তাহমিদ হাসান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 5 টি টিউন ও 12 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
ভাল লাগল