ডাটা এন্ট্রি Data Entry কী? মোবাইল ও কম্পিউটার দিয়ে ডাটা এন্ট্রি কাজ শেখার এবং প্রতি মাসে আয় করার এ টু জেড গাইডলাইন!

বর্তমান অনলাইন বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ যে কাজটি দিয়ে অনেকেই তাদের যাত্রা শুরু করতে চান, তা হলো ডাটা এন্ট্রি (Data Entry)। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার বা ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ঢুকলে ডাটা এন্ট্রির হাজার হাজার কাজ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিক গাইডলাইন এবং তথ্যের অভাবে অনেকেই বুঝতে পারেন না কীভাবে কাজটি শুরু করবেন, কোথায় শিখবেন এবং কীভাবে এটি থেকে ভালো অংকের টাকা আয় করা সম্ভব।

​আজকের এই বিস্তারিত টিউনে আমরা ডাটা এন্ট্রি নিয়ে আদ্যোপান্ত আলোচনা করব। আপনি যদি একদম নতুন (Beginner) হয়ে থাকেন, তবে এই একটি টিউনই আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

​ডাটা এন্ট্রি কী? (What is Data Entry?)

​খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যেকোনো তথ্য বা ডেটাকে এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে বা একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমে নির্ভুলভাবে ইনপুট করার প্রক্রিয়াকে ডাটা এন্ট্রি বলা হয়। এটি হতে পারে কোনো হাতে লেখা কাগজ দেখে কম্পিউটারে টাইপ করা, কোনো পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে এক্সেল শিটে সাজানো, কিংবা কোনো অডিও ফাইল শুনে তা টেক্সটে রূপান্তর করা।

​ডিজিটাল যুগে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তথ্যের (Data) গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই তথ্যগুলোকে গুছিয়ে রাখার কাজটিই করেন একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর বা ফ্রিল্যান্সার।

​ডাটা এন্ট্রি কাজের বিভিন্ন প্রকারভেদ

​অনেকেই মনে করেন ডাটা এন্ট্রি মানে শুধু দেখে দেখে টাইপ করা। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ডাটা এন্ট্রির পরিধি অনেক বড়। নিচে বহুল প্রচলিত কয়েকটি ডাটা এন্ট্রি কাজের ধরন তুলে ধরা হলো:

​১. এক্সেল বা স্প্রেডশিট ডাটা এন্ট্রি (Excel Data Entry): মাইক্রোসফট এক্সেল বা গুগল শিটে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ, কাস্টমার লিস্ট কিংবা প্রোডাক্টের তথ্য সাজানো।

২. কপি পেস্ট জব (Copy Paste Work): ইন্টারনেট বা অন্য কোনো সোর্স থেকে তথ্য কপি করে ক্লায়েন্টের দেওয়া নির্দিষ্ট ফাইলে পেস্ট করা।

৩. ওয়েব রিসার্চ বা ডাটা মাইনিং (Web Research & Data Mining): ইন্টারনেট ঘেঁটে ক্লায়েন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য (যেমন: কোম্পানির ইমেইল, ফোন নম্বর, অ্যাড্রেস) খুঁজে বের করা।

৪. পিডিএফ থেকে ওয়ার্ড/এক্সেল (PDF to Word/Excel Conversion): ক্লায়েন্টের দেওয়া কোনো পিডিএফ ফাইল বা ছবির ভেতরের টেক্সটগুলোকে এডিটেবল ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইলে রূপান্তর করা।

৫. ডাটা স্ক্র্যাপিং (Data Scraping): বিভিন্ন সফটওয়্যার বা এক্সটেনশন ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার তথ্য একসাথে এক্সপোর্ট করা।

৬. প্রোডাক্ট লিস্টিং (Product Listing): আমাজন, ইবে বা শপিফাইয়ের মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটে পণ্যের নাম, দাম, ছবি এবং বিবরণ আপলোড করা।

​ডাটা এন্ট্রি শেখার জন্য কী কী স্কিল প্রয়োজন?

​ডাটা এন্ট্রি কাজ শুরু করার জন্য রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন নেই, তবে কিছু বেসিক স্কিল বা দক্ষতা আপনার অবশ্যই থাকতে হবে। যেমন:

​টাইপিং স্পিড (Typing Speed): ডাটা এন্ট্রিতে যত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে টাইপ করতে পারবেন, আপনার কাজের ভ্যালু তত বাড়বে। মিনিটে অন্তত ৩০-৪০ টি শব্দ টাইপ করার গতি থাকা ভালো।

​বেসিক কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জ্ঞান: ব্রাউজিং করা, ইমেইল পাঠানো এবং ফাইল ম্যানেজমেন্টের কাজ জানা জরুরি।

​অফিস অ্যাপ্লিকেশন: মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS Word) এবং মাইক্রোসফট এক্সেল (MS Excel) এর কাজ খুব ভালোভাবে শিখতে হবে। বিশেষ করে এক্সেলের বিভিন্ন ফর্মুলা (যেমন: VLOOKUP, Pivot Table) জানা থাকলে বড় বড় প্রজেক্টের কাজ পাওয়া সহজ হয়।

​গুগল ড্রাইভের ব্যবহার: বর্তমানে বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট গুগল ডকস (Google Docs) এবং গুগল শিটস (Google Sheets) এর মাধ্যমে লাইভ কাজ করিয়ে নেয়। তাই ক্লাউড স্টোরেজের কাজ জানা বাধ্যতামূলক।

​ইংরেজি দক্ষতা: যেহেতু ক্লায়েন্টরা বিদেশি হয়ে থাকে, তাই তাদের কাজের নির্দেশনা বুঝতে এবং তাদের সাথে কথা বলার মতো বেসিক ইংরেজি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

​মোবাইল দিয়ে কি ডাটা এন্ট্রি করা সম্ভব?

​এই প্রশ্নটি অনেকেই করে থাকেন। উত্তর হলো: হ্যাঁ, সম্ভব; তবে সীমিত পরিসরে।

আপনি গুগল প্লে-স্টোর থেকে Microsoft Excel, Word বা Google Sheets অ্যাপ নামিয়ে মোবাইলেই টাইপিং বা কপি-পেস্টের মতো ছোটখাটো কিছু কাজ করতে পারবেন। তবে প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং বা বড় প্রজেক্টের কাজ করতে গেলে অবশ্যই একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রয়োজন হবে। কারণ মোবাইলের স্ক্রিন ছোট হওয়ায় একসাথে একাধিক ট্যাবে কাজ করা বা বড় ডাটা হ্যান্ডেল করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাইলে একটি কম্পিউটার থাকা সবচেয়ে ভালো।

​ডাটা এন্ট্রি কাজ কীভাবে শিখবেন?

​ডাটা এন্ট্রি শেখার জন্য আপনাকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে হবে না। আপনি ঘরে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কাজ শিখতে পারেন:

​ইউটিউব (YouTube): ইউটিউবে "Data Entry Full Course Bangla" লিখে সার্চ করলে শত শত ফ্রি টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে এক্সেল এবং ওয়েব রিসার্চের কাজগুলো প্র্যাকটিস করুন।

এই গাইডলাইনটি আপনাকে কাজ শুরু করতে অনেক সাহায্য করবে।

​কীভাবে কাজ পাবেন এবং প্রতি মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

​কাজ শেখার পর আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।

​মার্কেটপ্লেস সমূহ: Fiverr, Upwork, Freelancer.com, এবং Guru.com ডাটা এন্ট্রির কাজের জন্য সেরা।

​মার্কেটপ্লেসের বাইরে: লিঙ্কডইন (LinkedIn) ব্যবহার করে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির রিমোট জব বা ডাটা এন্ট্রি পদের জন্য সরাসরি অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

​আয়ের পরিমাণ:

ডাটা এন্ট্রিতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টার হিসেবে (Hourly Rate) অথবা ফিক্সড প্রাইস প্রজেক্ট হিসেবে পেমেন্ট করা হয়। শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় ৫ ডলার থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা যায়। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এই রেট ২০-৩০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত কাজ পান এবং দিনে ৪-৫ ঘণ্টা সময় দেন, তবে প্রতি মাসে ২০, ০০০ টাকা থেকে ৫০, ০০০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি আয় করা অনায়াসেই সম্ভব।

​শেষ কথা

​ডাটা এন্ট্রি হলো ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রবেশের একটি চমৎকার দরজা। এখানে যেমন কাজের চাহিদা প্রচুর, তেমনি প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই নিজেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখতে কাজের নির্ভুলতা এবং গতি বাড়াতে হবে। আজই অলসতা কাটিয়ে মাইক্রোসফট এক্সেল এবং ওয়েব রিসার্চের কাজ প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিন। সঠিক পরিশ্রমে সফলতা আসবেই।

​ডাটা এন্ট্রি নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে নিচে টিউমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ!

Level 2

আমি মোঃ আমির। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 5 টি টিউন ও 9 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস