
ফ্রিল্যান্সিং এখন বাংলাদেশের যুবক-যুবতীদের জন্য একটা গোল্ডেন অপরচুনিটি। করোনা মহামারীর পর থেকে গ্লোবাল মার্কেটে অনলাইন কাজের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। আর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মধ্যে সবচেয়ে ডিমান্ডিং স্কিল। কারণ প্রতিটা বিজনেস এখন ওয়েবসাইট চায় – ই-কমার্স থেকে শুরু করে কর্পোরেট সাইট পর্যন্ত। বাংলাদেশ থেকে আপনি ঘরে বসে ইউএস, ইউকে বা অস্ট্রেলিয়ার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে মাসে ১-২ লাখ টাকা সহজেই আয় করতে পারেন। আমি নিজে দেখেছি, চট্টগ্রামের একটা ছেলে যে শুরুতে ফ্রি কোর্স করে শিখেছে, সে এখন Upwork-এ মাসে ৩ লাখ টাকা আয় করে। তাহলে কীভাবে শুরু করবেন? চলুন স্টেপ বাই স্টেপ দেখি।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে প্রথমে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য শুরু করুন HTML, CSS এবং JavaScript দিয়ে। এগুলো ফ্রি শিখতে পারেন YouTube-এর চ্যানেল থেকে, যেমন freeCodeCamp বা Traversy Media। বাংলায় শিখতে চাইলে ১০ মিনিট স্কুল বা প্রোগ্রামিং হিরোর কোর্স নিন। ১-২ মাসের মধ্যে বেসিক শিখে ফেলতে পারবেন যদি দিনে ২-৩ ঘণ্টা সময় দেন। এরপর অ্যাডভান্সড লেভেলে যান – ফ্রন্টএন্ডের জন্য React.js বা Vue.js শিখুন, আর ব্যাকএন্ডের জন্য Node.js বা PHP।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্পিড ভালো না? চিন্তা নেই, অফলাইন কোর্স ডাউনলোড করে শিখুন। আমার এক ফ্রেন্ড, যে নোয়াখালী থেকে, সে Udemy-র ৫০০ টাকার কোর্স কিনে শিখেছে এবং এখন Fiverr-এ ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে মাসে ১.৫ লাখ আয় করে।
টিপ: প্র্যাকটিস করুন GitHub-এ প্রোজেক্ট আপলোড করে। এটা আপনার পোর্টফোলিও হবে।
বাংলাদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিং করতে সবচেয়ে পপুলার প্ল্যাটফর্ম হলো Upwork, Fiverr, Freelancer.com এবং PeoplePerHour। Upwork-এ শুরু করুন কারণ এখানে হাই-পেইং ক্লায়েন্ট বেশি। অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে একটা ভালো প্রোফাইল ছবি, বায়ো এবং স্কিল লিস্ট দিন। বাংলাদেশী এনআইডি বা পাসপোর্ট দিয়ে ভেরিফাই করুন। Fiverr-এ গিগ তৈরি করুন, যেমন "I will build a responsive website for $50"। প্রাইসিং শুরুতে লো রাখুন, ৫০০-১০০০ টাকা পার প্রোজেক্ট, পরে রিভিউ পেলে বাড়ান।
বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট নিতে Payoneer বা PayPal ব্যবহার করুন। Payoneer-এ অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যাংক লিঙ্ক করুন, তাহলে ডলার থেকে টাকায় কনভার্ট হয়ে আসবে। আমি জানি, অনেকে ভয় পান ট্যাক্সের জন্য – কিন্তু বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্স আয়ের উপর ১৫% ট্যাক্স, তবে প্রথম ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় আছে। NBR-এ রেজিস্টার করুন সেফ থাকার জন্য।
আপনার প্রোফাইলটা হবে আপনার মার্কেটিং টুল। একটা আকর্ষণীয় টাইটেল দিন, যেমন "Expert Web Developer from Bangladesh | React & Node Specialist"। পোর্টফোলিওতে ৩-৫টা প্রোজেক্ট শো করুন – একটা ই-কমার্স সাইট, একটা ব্লগ, একটা ল্যান্ডিং পেজ। Canva বা Adobe XD দিয়ে থাম্বনেইল ডিজাইন করুন যাতে ক্লায়েন্টের চোখে পড়ে।
বিড করার সময় পার্সোনালাইজড প্রপোজাল লিখুন। এতে ক্লায়েন্ট ইমপ্রেস হয়। টিপ: দিনে ১০-২০টা প্রপোজাল পাঠান, প্রথম মাসে কোনো কাজ না পেলেও হতাশ হবেন না। আমার এক কলিগ, যে ঢাকায় থাকে, প্রথমে ৫০টা প্রপোজাল পাঠিয়ে মাত্র ১টা কাজ পেয়েছে, কিন্তু এখন তার রেট ৫০ ডলার পার আওয়ার!
কাজ পেলে টাইমলি ডেলিভার করুন। টুলস যেমন Trello বা Asana ব্যবহার করুন প্রোগ্রেস ট্র্যাক করতে। ক্লায়েন্টের সাথে কমিউনিকেশন ভালো রাখুন – Slack বা Zoom দিয়ে মিটিং করুন। বাংলাদেশের টাইমজোনের সাথে ইউএসের ডিফারেন্স ১১ ঘণ্টা, তাই রাতে কাজ করার প্রিপেয়ার থাকুন। রিভিশন ফ্রি দিন, কিন্তু লিমিট সেট করুন। সফলতার চাবি হলো রিপিট ক্লায়েন্ট – একবার ভালো কাজ করলে তারা আবার আসবে। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রামের একটা মেয়ে যে ওয়েব ডেভেলপার, সে এক ক্লায়েন্ট থেকে ৬ মাসে ৫ লাখ টাকা আয় করেছে শুধু রিপিট ওয়ার্ক দিয়ে।
একবার স্থিতিশীল হলে টিম তৈরি করুন। বাংলাদেশে অনেক ট্যালেন্ট আছে – LinkedIn বা Facebook গ্রুপে পার্টনার খুঁজুন। আপনি ফ্রন্টএন্ড করুন, অন্য কেউ ব্যাকএন্ড। এতে বড় প্রোজেক্ট নিতে পারবেন, যেমন ১০০০ ডলারের কন্ট্রাক্ট। মার্কেটিং করুন – LinkedIn-এ প্রোফাইল অপটিমাইজ করুন, কনটেন্ট টিউন করুন। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য Facebook গ্রুপ যেমন "Freelancing Bangladesh" জয়েন করুন। আরও আয়ের উপায়: কোর্স সেল করুন Udemy-তে বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করুন। আমি দেখেছি, একজন যে সিলেট থেকে, সে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স বানিয়ে মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার আয় করে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে চ্যালেঞ্জ আছে – পেমেন্ট ডিলে, স্ক্যাম ক্লায়েন্ট, কম্পিটিশন। সল্যুশন: সবসময় কন্ট্রাক্ট সাইন করুন, Escrow ব্যবহার করুন। বাংলাদেশে ইলেকট্রিসিটি প্রবলেম? ইনভার্টার কিনুন বা ক্যাফে থেকে কাজ করুন। মেন্টাল হেলথ: বার্নআউট এড়াতে ব্রেক নিন।
চট্টগ্রামের রাহাত, যে ২০২০ সালে শুরু করেছে, এখন মাসে ৪ লাখ আয় করে। সে বলে, "শুরুতে হার্ড ওয়ার্ক, কিন্তু পরে ফ্রিডম। " আপনিও পারবেন!
ফ্রিল্যান্সিং হলো স্বাধীনতা। বাংলাদেশ থেকে লাখ টাকা আয় সম্ভব যদি কনসিস্টেন্ট থাকেন। ট্রাই করুন, সাকসেস আসবে।
আমি শাজেদা আক্তার। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 সপ্তাহ 2 দিন যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 15 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।