ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা ৫ টি কার্যকরী উপায়

টিউন বিভাগ ফেসবুক
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 4
Sonic টিউনার, টেকটিউনস, গাইবান্ধা, রংপুর

আসসালামু আলাইকুম। টেকটিউনস ওয়েবসাইটের নতুন আরো একটি টিউনে আপনাকে স্বাগতম। আমি স্বপন আছি আপনাদের সাথে, আশাকরি সকলেই অনেক অনেক ভালো আছেন। বন্ধুরা আমরা সবাই জানি যে, ফেসবুক একটি বিশাল সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। সেখানে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অথবা ফেসবুক পেজ একটি ইনকামের মাধ্যম। তবে এই ফেসবুক থেকে ইনকাম যতোটা ভাবছেন ততোটা সহজ বিষয় নয়৷ আপনি চাইলেই ইনকাম করতে পারবেন না, আবার আপনি চাইলেই ইনকাম করা সম্ভব। বিষয়টি একটু গন্ডগোল মনে হলো তাই না? তাহলে চলুন একটু বিস্তারিত জেনে নেই। তার আগে জেনে নেই আজকের টিউনের বিষয়, আজকে আমরা ফেসবুক পেজের লাইক টিউমেন্ট বাড়ানোর সেরা ৫ টি উপায় সম্পর্কে জানবো।

ফেসবুকে আপনাকে ইনকাম করতে হলে প্রথমত আপনাকে অনেক ধৈর্যশীল ব্যক্তি হতে হবে। তারপরে আপনার পরিচিতি বাড়াতে হবে। আপনি যখন আপনাকে পরিচিতি বাড়াতে চাইবেন ঠিক তখনই আমাদের আজকের বিষয়গুলো আপনাকে ফলো করতে হবে। তাহলেই খুব সহজেই আপনি নিজের পরিচিতি বাড়াতে পারবেন। তার আগে চলুন জেনে নেই কেনো আপনি ফেসবুকে নিজের পরিচিতি বিস্তার করবেন? কেনোইবা ফেসবুকে নিজের পরিচিতি বাড়ানো দরকার?

কেনো পরিচিতি বাড়ানো দরকার?

ফেসবুক যেই ব্যক্তি নিজের পরিচিতি বাড়াতে চায় আমরা মনে করে নেই তার পিছনে অবশ্যই তার কোনো উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো সাধারণ ব্যক্তি নিজের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য এতোটা কষ্ট করবে না। আপনি যেহেতু আপনার পরিচিতি বাড়াতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের টিউনের জন্য আমরা মনে করে নিবো, হয়ত আপনি ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে চাচ্ছেন নয়তো আপনি ফেসবুকে নিজের মার্কেটপ্লেস বানাতে চাচ্ছেন। অবশ্য নিচের পরিচিতি বাড়িয়ে মার্কেটিং করা চিন্তাটা মন্দ নয়।

বর্তমানে ফেসবুকে পরিচিতি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আবার অডিয়েন্সরাও একটু বেশি অলস। আপনি সারাদিন-সারারাত কষ্ট করে ভিডিও বানাবেন তারা শুধুমাত্র আপনার ভিডিও দেখে চলে যাবে। আপনার ভিডিও লাইক, টিউমেন্ট কিচ্ছু করবে না। যার ফলে আপনার স্বপ্ন পূরণ অনেক বেশি কষ্টকর হবে৷ তবে আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে কষ্ট হলেও স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে৷ স্বপ্ন পূরণের জন্য আপনাকে কিছু টেকনিক্যাল উপায় অনুসরণ করতে হবে। যাতে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সগুলো আপনার টিউনে লাইক, টিউমেন্ট এমনকি ফলো করতে বাধ্য হয়। এতে আপনার পরিচিতি বাড়বে। যত বেশি পরিচিতি ততো বেশি ইনকাম। তো চলুন জেনে নেই ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা ৫ টি উপায়৷

১. কুইজ জিজ্ঞাসা/প্রতিযোগিতা

ফেসবুকে অর্গানিক ভাবে রিচ পাওয়ার সেরা একটি মাধ্যম হলো নিয়মিত কুইজ জিজ্ঞাসা/প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত করা৷ বর্তমানে ফেসবুক অডিয়েন্সদের আকৃষ্ট করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো কুইজ অথবা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা। আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অথবা ফেসবুক পেজে নিয়মিত ইমেজ আকারে অথবা লেখিত আকারে প্রশ্ন জিজ্ঞাসার টিউন করতে থাকুন। এমন প্রশ্ন করুন যাতে প্রশ্নগুলো ইউনিক, ইন্টারেস্টিং, সহজ হয়। এতে অডিয়েন্সরাও আপনার প্রশ্ন দেখে মজা পাবে। তারা আপনার প্রশ্নে অথবা উত্তরে লাইক, টিউমেন্ট করতে উৎসুক হয়ে পরবে।

যার ফলে আপনার ফেসবুক টিউনে যত বেশি লাইক, টিউমেন্ট পরবে, আপনার ফেসবুক টিউন ততো বেশি রিচ পাবে৷ ফলে আপনার পেজের পরিচিতিও বাড়বে৷ মাঝে মাঝে চেষ্টা করবেন কুইজগুলো নিয়ে প্রতিযোগিতা দেওয়ার এতে অল্প সময়ে টিউনে অনেক বেশি টিউমেন্ট পরার সম্ভাবনা থাকে। এতে আপনার ফেসবুক পেজ থেকে পুরস্কার পাওয়ার আশায় লোকজন ফলো দিতে থাকবে। যার ফলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অথবা পেজের ফলোয়ার তুলনামূলক অনেক বেশি হবে। আপনার সাধ্য থাকলে আপনার বেশি রিচ পাওয়া কুইজ পোস্টটি ফেসবুকে বুস্ট করুন। এতে আপনার সফলতা অনেক বেড়ে যাবে৷

২. গিভওয়ে মার্কেটিং

ফেসবুক মার্কেটিং করার আরো একটি জনপ্রিয় উপায় হলো গিভওয়ে মার্কেটিং। আপনি ফেসবুকে যেকোনো বিষয় নিয়ে মার্কেটিং করেন না কেনো, আপনার সেই পণ্যের গিভওয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে অন্তত ১ টি গিভওয়ে অনুষ্ঠিত করুন৷ গিভওয়েগুলোতে শর্ত জুড়ে দিন। যাতে আপনার অডিয়েন্সগুলো গিভওয়ে পাওয়ার আশায় শর্তগুলো মানতে রাজি হয়। এটি এক প্রকার ট্যাকনিক্যাল ফোর্স বলা যায়। তবে আপনাকে অবশ্যই সময় উপযোগী গিভওয়ে অনুষ্ঠিত করতে হবে। তাহলে সফলতা নিশ্চিত।

মনে করুন, বর্তমানে T20 বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে। দুইদিন পর বাংলাদেশ খেলবে। আপনি এই খেলাকে টার্গেট করুন। এবার আপনি আপনার পেজের গিভওয়ে দিন বাংলাদেশের জার্সি। আপনি আপনার স্টোকে থাকা জার্সি টিউন করুন। শর্ত হিসাবে জুড়ে দিন, যার আপনার এই পোস্টটিকে তাদের টাইম লাইনে ১০ টি বন্ধুকে ট্যাগ করে শেয়ার করবে তাদের মধ্য মোট ৩ জনকে বাংলাদেশের জার্সি গিভওয়ে দেওয়া হবে৷ এছাড়াও আপনি এইভাবে অফার করতে পারেন, জার্সি টিউনে টিউমেন্ট করা ব্যক্তিদের মাঝ থেকে ৩ জন ব্যক্তিকে উইনার হিসাবে ঘোষণা করা হবে৷ এতে খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি পরিচিতি লাভ করা অথবা বিক্রি করা সম্ভব। গিভওয়ের মাধ্যমে ফেসবুক সহজেই ফলোয়ার বাড়ানোও সম্ভব।

৩. মিম মার্কেটিং

মিম মার্কেটিং বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে মিম মার্কেটিং সফলতা তেমন বেশি না হলেও বিফলতা তেমন বেশি নয়। সব মিলিয়ে সফলতাই বেশি। মিম মার্কেটিং চাবিকাঠি হলো আপনি কতটা ক্রিয়েটিভ মিম বানাতে পারবেন তার উপর সফলতা নির্ভর করে। আপনি আপনার পণ্যকে নিয়ে এমন ক্রিয়েটিভ কোনো মিম বানালেন যেটি আপনার অডিয়েন্স দেখে মজা পাবে। আপনার অডিয়েন্স সেই মিমস তার প্রোফাইলে শেয়ার করলে আপনি শতভাগ সফলতা পাবেন।

আপনার বানানো মিমগুলো যত বেশি শেয়ার হবে, যত বেশি রিচ পাবে  আপনার মার্কেটিং ততো বেশি পরিচিতি পাবে৷ মিম বানিয়ে মার্কেটিং করাটা নির্ভর করে আপনার ক্রিয়েটিভিটির উপর৷ এতে মিম অনেক বেশি সুন্দর হলে টিউনে হাই রিচ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এতে আপনার ফেসবুক ফলোয়ার অথবা আপনার অডিয়েন্স মজা পেয়ে আপনার মিম টিউমেন্ট করে ফেলবে যার ফলে আপনার টিউনের রিচ অনেক বেশি হবে৷ বর্তমানে মিম মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় একটি মার্কেটিং বলা যায়।

৪. স্টক আউট পদ্ধতি

স্টক আউট পদ্ধতি একটি সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতি। আপনি আপনার পণ্য টিউন করার আগে এমন কোনো ক্যাপশন দিয়ে নিশ্চিত করলেন যে, আপনার এই স্টক টি সীমিত। দ্রুত অর্ডার না করলে পাবেন না অথবা পণ্যটি শেষ হলে আর পাবেন না। এমন কথাগুলো কাষ্টমারের মস্তিষ্কে একটি সাইকোলজিক্যাল চাপ সৃষ্টি করে। তারা ভাবে হয়ত এই পণ্য তারা অনেক খুঁজেও আর পাবে না অথবা হয়ত তারা শুধুমাত্র ভালো পণ্যটি এখানেই পাচ্ছে। তারা তাদের মস্তিষ্কের এমন সাইকোলজিক্যাল চাপের কারণে খুব সহজেই আপনার পণ্যটি কিনতে অর্ডার করে ফেলবে৷ যার ফলে আপনি খুব কম সময়ে অনেক বেশি বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে সফলতার বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হলো এই স্টক আউট পদ্ধতি।

৫. অফার মার্কেটিং

ফেসবুকে মার্কেটিং করার জনপ্রিয় আরো একটি মাধ্যম হলো অফার মার্কেটিং। অফার মার্কেটিং করে অনেক দ্রুত সেলস টার্গেট পূরণ করতে পারবেন। বড়ো বড়ো অনলাইন মার্কেটিং এই পদ্ধতি ফলো করে থাকে। বিশেষ করে আপনি দারাজে এই অফার মার্কেটিং সিস্টেমটি দেখতে পারবেন। এবার আপনি হয়ত ভাবছেন অফার মার্কেটিং করলে হয়ত আমার ব্যবসায় ইনকাম কম হবে অথবা আমর টার্গেট মুনাফা লস হয়ে যাবে৷ চিন্তা করবেন না আমি যখন আছি সমাধান পাবেন ইনশাআল্লাহ।

বর্তমানে আপনি বেশিরভাগ অফার মার্কেটিং গুলো দেখবেন ❝অমুক পণ্যটি কিনলে ডেলিভারি চার্জ ফ্রি❞ আপনি এবার গভীরভাবে খেয়াল করুন, ডেলিভারি চার্জ কি আপনার পকেট থেকে দিবেন? উত্তর হবে, না একদম না! তাহলে ডেলিভারি চার্জ কোথায় পাবেন? দারাজের পণ্যগুলোকে দিকে লক্ষ রাখুন বিশেষ করে যারা হঠাৎ ফ্রি ডেলিভারি দেয়।

উদাহরণ হিসাবে অথবা প্রমাণ হিসাবে বলতে গেলে, একটি পণ্য আপনি চার্টে যোগ করে রাখুন পণ্যটির বর্তমান দাম নোট করে রাখুন। মনে করুন, বর্তমানে পণ্যটির ডেলিভারিতে চার্জ আছে। পণ্যটির দাম যদি হয় ১০০ টাকা ডেলিভারি চার্জ হবে মনে করুন ১০০ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে পণ্যটি নিতে আপনাকে দিতে হবে ২০০ টাকা৷ এবার যখন দেখবেন পণ্যটির ডেলিভারিতে চার্জ ফ্রি তখন দেখবেন পণ্যটির দাম পরিবর্তন হয়ে ২০০ টাকা হয়ে গেছে। শুধুমাত্র দেওয়া ডেলিভারিতে চার্জ ফ্রি।

বিষয়টি বুঝতে পেরে মজা পেলেন তাই না। হ্যাঁ, ঠিকই বুজছেন। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে বলা হয় অফার মার্কেটিং। এছাড়াও অনেকেই শর্ত জুড়ে দেয় ২০০০ টাকার পণ্য কিনলে ৫০০ টাকা ছাড়। এর মধ্য আসলে তারা সবগুলো পণ্যতেও দাম সামান্য করে বৃদ্ধি করে রাখে। যার ফলে অফারের ৫০০ টাকা আপনার পকেট থেকেই নেওয়া হয়। কিন্তু আপনি সেটা বুঝতে পারেন না। উলটে আপনি সেই অফার মার্কেটিং এর চক্ররে নিজেকে অর্থ সেভ করা মার্কেটার ভাবতে থাকেন। অফার মার্কেটিং করে খুব অল্প সময়ে আপনি আপনার সেল টার্গেট পূরণ করতে পারবেন। আপনার সামর্থ্য থাকলে অফারগুলো অবশ্যই বুস্ট করার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার ইনকাম দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।

শেষ কথা

বন্ধুরা, ফেসবুকে মার্কেটিং করতে চাইলে আমার আলোচনা করা, ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা ৫ টি উপায় ফলো করতে পারেন। এতে আপনার ফেসবুক টিউনের রিচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সেলস বৃদ্ধির কাজগুলো সহজেই বুঝতে এবং করতে পারেন। এতে আপনি প্রতি মাসে টার্গেট সেল পূরণ করতে পারবেন। ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা ৫ টি উপায় সম্পর্কে আপনাদের কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে টিউমেন্ট বক্সে জানাবেন৷ আমি যতোটা পারি আপনাদের মতামত দিয়ে সাহায্য করবো। আপনার যদি ফেসবুকে মার্কেটিং করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন তাহলে আজ থেকে আমার ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা উপায়গুলো আপনার মার্কেটিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ইনকাম অনেক বেড়ে যাবে।

তো বন্ধুরা, এই ছিল আমাদের আজকের টিউন, ফেসবুকে মার্কেটিং করার সেরা ৫ টি উপায়! আশাকরি টিউন টি আপনাদের একটু হলেও হেল্পফুল হবে। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি, দেখা হবে পরবর্তী টিউনে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততক্ষণ অবধি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং টেকটিউনস এর সাথেই থাকবেন।

Level 4

আমি স্বপন মিয়া। Sonic টিউনার, টেকটিউনস, গাইবান্ধা, রংপুর। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 67 টি টিউন ও 28 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

টেকনোলজি বিষয়ে জানতে শিখতে ও যেটুকু পারি তা অন্যর মাঝে তুলে ধরতে অনেক ভালো লাগে। এই ভালো লাগা থেকেই আমি নিয়মিত রাইটিং করি। আশা করি নতুন অনেক কিছুই জানতে ও শিখতে পারবেন।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস