
ধরো, তুমি এমন একটা জায়গায় আছো যেখানে তোমার চারপাশে সবাই কিছু একটা করছে।
কেউ ঘুরতে যাচ্ছে, কেউ নতুন কিছু শিখছে, কেউ সফল হচ্ছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটাচ্ছে।
আর তুমি শুধু দেখছো।
হঠাৎ তোমার মাথায় একটা প্রশ্ন আসে—
“আমি কি কিছু একটা মিস করে ফেলছি?”
এই একটা প্রশ্নই হয়তো তোমাকে বারবার ফোন হাতে নিতে বাধ্য করছে।
নতুন notification এসেছে কি না, নতুন Story এসেছে কি না, সবাই কী করছে—এসব দেখতে দেখতে তুমি হয়তো বুঝতেই পারছো না, কখন অন্যদের জীবন দেখতে গিয়ে নিজের জীবন থেকে মনোযোগ সরিয়ে ফেলেছো।
এই অনুভূতিরই একটা নাম আছে।
FOMO — Fear Of Missing Out.
আর Social Media এই ভয়টাকে কীভাবে ব্যবহার করে আমাদের attention ধরে রাখে—সেটাই আজকের গল্প।
FOMO আসলে নতুন কোনো ব্যাপার নয়।
মানুষ সবসময়ই জানতে চেয়েছে—অন্যরা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কী নিয়ে কথা বলছে।
কিন্তু Social Media এই ব্যাপারটাকে একেবারে অন্য level-এ নিয়ে গেছে।
আগে তুমি হয়তো জানতে পারতে না তোমার বন্ধু আজ কোথায় গেছে।
এখন সে সেখানে পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তুমি তার Story দেখতে পারো।
আগে তুমি জানতে না অন্যরা ছুটির দিনে কী করছে।
এখন তোমার feed-এ একের পর এক ছবি আসে—কে কোথায় ঘুরতে গেল, কে কী খেল, কে কী কিনল, কে কী অর্জন করল।
আর সমস্যা হচ্ছে, আমরা অন্য মানুষের জীবনের পুরো ছবিটা দেখি না।
আমরা দেখি তাদের বেছে নেওয়া সেরা মুহূর্তগুলো।
কেউ তার জীবনের খারাপ দিনটা সাধারণত Story-তে দেয় না।
কেউ পরীক্ষায় খারাপ করার পর নিজের হতাশার ছবি টিউন করে না।
কেউ সারাদিন কিছু না করে থাকার মুহূর্তটা সুন্দর করে edit করে upload করে না।
তুমি দেখছো তাদের highlight।
কিন্তু তুলনা করছো সেটা তোমার পুরো জীবনের সঙ্গে।
আর এখান থেকেই একটা অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি হয়।
“সবাই যেন কিছু একটা করছে… শুধু আমি বসে আছি। ”
হয়তো তোমার বন্ধুরা বাইরে গেছে।
তুমি যেতে পারোনি।
তাদের ছবি দেখলে মনে হলো, “ইশ, আমিও যদি যেতাম!”
হয়তো সবাই কোনো নতুন trend নিয়ে কথা বলছে।
তুমি সেটা জানো না।
তখন মনে হলো, “আমাকে এটা এখনই জানতে হবে। ”
হয়তো একজন creator একটা নতুন ভিডিও দিয়েছে।
তুমি ভাবলে, “এটা না দেখলে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস হয়ে যাবে। ”
আর এভাবেই একটা ছোট্ট curiosity ধীরে ধীরে একটা habit-এ পরিণত হয়।
তুমি ফোনটা unlock করো।
একবার feed দেখো।
আবার কিছুক্ষণ পর check করো।
কোনো notification না থাকলেও check করো।
কেন?
কারণ তুমি নিশ্চিত হতে চাও—কিছু একটা তোমার অজান্তে ঘটে যাচ্ছে না তো?
এখানেই FOMO-এর সবচেয়ে interesting দিকটা আছে।
তুমি সবসময় Social Media-তে থাকতে চাও না।
অনেক সময় তুমি শুধু Social Media-র বাইরে থাকতে ভয় পাও।
আর Social Media এই ভয়টাকে আরও শক্তিশালী করে।
কারণ এখানে সবসময়ই নতুন কিছু আসছে।
একটা নতুন post।
একটা নতুন Reel।
একটা নতুন trend।
একটা নতুন discussion।
একটা নতুন notification।
তুমি একটা জিনিস শেষ করার আগেই আরেকটা জিনিস তোমার attention চাইছে।
ফলে তোমার brain ধীরে ধীরে একটা অভ্যাস তৈরি করে ফেলে—
“কিছু miss হয়ে গেছে কি না, সেটা check করতে হবে। ”
এই checking-এর সবচেয়ে বড় শিকার হয় আমাদের attention।
তুমি পড়তে বসেছো।
হঠাৎ ফোনটা vibrate করল।
তুমি শুধু notification দেখতে ফোনটা হাতে নিলে।
দুই মিনিট পর বুঝলে তুমি Instagram-এ।
আর দশ মিনিট পর বুঝলে তুমি এমন একটা ভিডিও দেখছো, যেটা তুমি আসলে দেখতেই চাওনি।
এটা শুধু সময় নষ্ট হওয়ার ব্যাপার নয়।
তোমার মন বারবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে।
পড়াশোনা থেকে notification-এ।
Notification থেকে Reel-এ।
Reel থেকে Story-তে।
Story থেকে অন্য কারও profile-এ।
আর শেষে যখন ফোনটা নামিয়ে রাখছো, তখন বুঝতে পারছো—তুমি কোথায় ছিলে সেটাই ভুলে গেছো।
সবচেয়ে interesting ব্যাপার হলো, FOMO শুধু Social Media-তেই আটকে থাকে না।
এটা আমাদের সিদ্ধান্তগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বন্ধুরা একটা নতুন ফোন কিনেছে—আমারও কিনতে হবে।
সবাই একটা নতুন trend follow করছে—আমাকেও করতে হবে।
সবাই একটা particular জায়গায় যাচ্ছে—আমাকেও যেতে হবে।
সবাই একটা skill শিখছে—আমাকেও এখনই শুরু করতে হবে।
অর্থাৎ, আমরা অনেক সময় কিছু করছি কারণ আমরা সেটা সত্যিই চাই।
আবার অনেক সময় করছি কারণ আমরা ভয় পাচ্ছি—অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
আর এই “পিছিয়ে পড়ার ভয়”-টাই FOMO-কে এত powerful করে তোলে।
তবে এর মানে এই নয় যে Social Media খারাপ এবং আমাদের সবাইকে এখনই সব account delete করে ফেলতে হবে।
সমস্যা Social Media ব্যবহার করায় নয়।
সমস্যা হলো—কে কাকে control করছে?
তুমি Social Media ব্যবহার করছো?
নাকি Social Media তোমার attention ব্যবহার করছে?
এই জায়গাটা বুঝতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরেরবার যখন অকারণে ফোনটা হাতে নেবে, একটা ছোট্ট প্রশ্ন নিজেকে করো—
“আমি কি সত্যিই এটা দেখতে চাই?”
নাকি—
“আমি শুধু ভয় পাচ্ছি যে কিছু একটা মিস হয়ে যেতে পারে?”
এই দুইটার মধ্যে পার্থক্যটা খুব ছোট মনে হলেও, আসলে অনেক বড়।
কারণ সবকিছু জানা তোমার প্রয়োজন নেই।
সব trend follow করা তোমার প্রয়োজন নেই।
সব notification-এর উত্তর দেওয়া তোমার প্রয়োজন নেই।
আর অন্যরা কী করছে, সেটা জানার জন্য নিজের জীবন থেকে প্রতিটা মুহূর্ত দূরে সরিয়ে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
এই পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে।
তুমি সব দেখতে পারবে না।
সব জানতে পারবে না।
সব জায়গায় থাকতে পারবে না।
আর honestly—তোমার সেটা দরকারও নেই।
কারণ সবকিছু মিস না করার চেষ্টায় যদি তুমি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোই মিস করে ফেলো, তাহলে সেই FOMO-এর আসল লাভটা কোথায়?
হয়তো মাঝে মাঝে কিছু জিনিস মিস করাই ভালো।
একটা notification মিস করা।
একটা trend মিস করা।
একটা Reel মিস করা।
অন্যদের জীবনে কী হচ্ছে—তার একটা অংশ মিস করা।
কারণ সেই সময়টুকু হয়তো তুমি নিজের জীবনে ব্যবহার করতে পারো।
আর এই জায়গা থেকেই আসে FOMO-এর বিপরীত একটা ধারণা—
JOMO — Joy Of Missing Out.
অর্থাৎ, কিছু জিনিস মিস করছি—এটা মেনে নিয়েও নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা।
সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার দরকার নেই।
সবাই কোথায় যাচ্ছে সেটা জানার দরকার নেই।
সবাই কী করছে সেটা দেখার দরকার নেই।
কারণ তোমার জীবন কোনো Social Media feed নয়, যেখানে প্রতিটা মুহূর্তে নতুন কিছু দেখাতে হবে।
তোমার জীবন তোমার।
আর হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এমনই হবে—যেগুলো তুমি কোনো Story-তে upload করোনি, কোনো Reel-এ দেখোনি, আর কোনো notification-ও তোমাকে সেগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়নি।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা এটা নয়—
“আমি কী কী মিস করছি?”
প্রশ্নটা হলো—
“অন্যদের জীবন দেখতে গিয়ে আমি নিজের জীবন থেকে কী কী মিস করে ফেলছি?”
আমি জাকারিয়া হোসেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 7 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
I’m Md Zakaria Hossen, a student, programmer, technology enthusiast, and content creator from Bangladesh. I’m passionate about programming, technology, artificial intelligence, web development, software, science, and creative problem-solving. I enjoy learning how things work — and more importantly, building things with what I learn.