বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা

টিউন বিভাগ ইকমার্স
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

মাত্র কিছু বছর হয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। তার মধ্যেই বাংলাদেশ ইন্টারনেটে ই-কমার্স নিয়ে চমক দেখানো শুরু করে দিয়েছে। জনশ্রুতিতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ কয়েক দশকের মধ্যেই ই-কমার্সে অনেক উন্নতি সাধন করবে। এটা বলার যথার্থ কারণ আছে, কেননা বাংলাদেশে ৮০ হাজার ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিদিন পণ্য কেনা হচ্ছে এবং প্রতি নিয়ত নতুন নতুন উদ্যগক্তারা এই কাজের সাথে নিজেকে যুক্ত করে ফেলছেন। ই-কমার্সে বাংলাদেশ এখন যে দূরত্বে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বলার অপেক্ষা নেই যে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ই-কমার্সের অবস্থা কী হতে চলেছে।

ই-কমার্সের কাজকে আরো সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য "ই-ক্যাব (ই-কমার্স অ্যাসোশিয়েসন অব বাংলাদেশ) গঠিত হয়েছে। যার কাজ হলো বাংলাদেশের ই-কমার্স সমস্যা সমাধান করা। টিউন অফিসের মাধ্যমে পণ্য লেনদেন করাটা সম্ভব হয়েছে ই-ক্যাবের জন্যেই। ই-কমার্সে অন্যসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো কিছুই না। কিন্তু যে হারে উদ্যগক্তরা এর সাথে যুক্ত হচ্ছেন তাতে সন্দেহ থাকার কথা না যে, এই ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশে সফল হবেনা। ই-কমার্সের অনেক সুবিধা থাকায় এটা সকলের মনে একটা যায়গা করে নিতে সক্ষম। বিশেষ করে প্রতন্ত এলাকাতে এটা বিশেষভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কেননা এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষ সকল প্রকার পণ্য নিজের কাছাকাছি পায়না। তাই তাঁরা এর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস ই-কমার্সে কিনতে চাইবে।

বাংলাদেশে ই-কমার্স উন্নত হতে হলে আগে ডেলিভারি সিস্টেম দ্রুত করতে হবে। যেদিন ডেলিভারি সিস্টেম একদম দ্রুত হয়ে যাবে সেদিন থেকেই ই-কমার্সের জয় জয় কার শুরু হয়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রতন্ত এলাকাতে ঠিক এ কারণেই ই-কমার্স এখনো জনপ্রিয় হয়নি। তবে বাংলাদেশের ই-কমার্স দিন দিন দ্রুত বিকাশিত হচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যদিকে বাংলাদেশে ই-কমার্সের মাধ্যমে পশু বিক্রি করা শুরু হয়েছে। যদি কেউ চায় তাহলে পশু কিনে তা জবাই করে নিয়ে পশুর মাংস প্যাকেটেই পেয়ে যেতে পারে। এরকম কাজ ই-কমার্স করে দিচ্ছে। করোনার কারণে এখন ই-কমার্স সেক্টর অনেক দ্রুত সকলের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ নিয়ে বড় বড় ই-কমার্স কোম্পানিদের আগ্রহ বাড়ছে, কেননা বাংলাদেশে ই-কমার্স এত দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে যে, বলা যায়না এক দশকে এর অবস্থান কোথায় চলে যাবে। আলিবাবা গ্রুপ নামের চীনা কোম্পানি কিছুদিন আগে দারাজ কিনে নিয়েছে। এই দারাজ দিয়ে আলিবাবা গ্রুপ দক্ষিণ এশিয়াতে কাজের কার্যক্রম চালায়।

বাংলাদেশ ই-কমার্সে উদ্যগক্ততা এবং ব্যবসায়ীদের একটা বিশাল অংশ অংগ্রহণ করেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যবসায়ী এবং উদ্যগক্তারা এই সেক্টরে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উদ্যগক্তাদের ই-কমার্স নিয়ে একটু বেশি আগ্রহ থাকে। তাই তরুণ উদ্যগক্তারাই এই সেক্টরে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং নতুন নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

ফেসবুকে বাংলাদেশের অনেক বড় একটা অংশ নিজেদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে। ফেসবুকে যে জিনিসটা হচ্ছে তা হলো এখানে চেনা শোনা লোকেদের কাছেই পণ্য বিক্রি করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিশ্বস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুকের পার্সোনাল প্রোফাইল থেকেও মোটা টাকার প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে। সেটা সম্ভব হচ্ছে কারণ বেশিরভাগ উদ্যগক্ততারা জানে কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় কি কাজ করলে ফ্রেন্ডদের একটা বড় অংশের কাছে সে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে পারবে। দেখা গেছে পেজের তুলনায় পার্সোনাল প্রোফাইল ই-কমার্সের জন্য অনেক দ্রুত বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে। যারা ই-কমার্স নিয়ে কাজ করতে চায় তারা প্রথম প্রথম পার্সোনাল প্রোফাইল দিয়েই শুরু করতে পারে।

বাংলাদেশে ই-কমার্স একটি উন্নয়নশীল সেক্টর তাই এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সব উদ্যগক্তা এবং ব্যবসায়ীরা যুক্ত হচ্ছে। এখানে প্রায় বড় বড় সব কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে দ্রুত হয়ে যাচ্ছে, আশা করা যাচ্ছে বাংলাদেশে এই সেক্টর অর্তনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। ই-কমার্সের পাশাপাশি অনেক ডিজিটাল কোম্পানি, বিশেষ করে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংক এবং পাঠাও এর মতো ডেলিভারি সিস্টেম অনেক গুরুত্ব পাচ্ছে। বলাই বাহুল্য যে, ই-কমার্স পুরো বাংলাদেশের পুরো চিত্র একদম ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা রাখে। এর পরিসীমা শুধুমাত্র এখানেই সীমিত হয়ত থাকবেনা। প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েও এই সেক্টরকে কাজে লাগানো হয়তো সম্ভব হতে পারে। রকমারির বিজ্ঞান বাক্স তার একটি ছোট্ট উদাহরণ হতে পারে।

বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। এখনো বেশিরভাগ ডেলেভারি ক্যাশ অন ডেলিভারির (COD) মাধ্যমেই হয়। তবে নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম নেই বলে বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বাংলাদেশে আসতে পারে নাই। তবে, এইরকম গতিতে যদি বাংলাদেশের ই-কমার্স চলতে থাকে তাহলে এক দশকও লাগবেনা, বাংলাদেশ তার উন্নতি দেখেই ছাড়বে।

Level 2

আমি ইফতেখার নাইম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 বছর 8 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 6 টি টিউন ও 4 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 9 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস