ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার উপায়

ভাইরাস হলো একধরণের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যার কাজই হলো আপনার কম্পিউটারের ক্ষতিসাধন করা। একবার যদি ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকতে পারে তাহলে হয় আপনার ফাইলগুলো ডিলিট করে দিবে নাহয় এগুলোকে করাপ্ট করে আপনার কম্পিউটারের বারোটা বাজাবে।

আবার কিছু ভাইরাস আছে যেগুলো কম্পিউটারে ঢুকামাত্রই বংশবৃদ্ধি করবে এবং কম্পিউটারের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেবে, যাতে করে শক্তহাতে আপনাকে দমন করা যায়। এ ভাইরাসের দল এতোটাই শক্তিশালী যে এরা অ্যান্টিভাইরাস কে ও নিষ্ক্রিয় করে দেয় ফলে অসহায়ের মতো তাঁকিয়ে থাকা ছাড়া আপনার আর কিছুই করার থাকে না।

আচ্ছা তাহলে কি আমরা কিছুই করতে পারবো না? ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কি কোন পথ নেই?
আমাদের শরীর যখন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন আমরা ওষুধ খাই। ওষুধ যে কাজটা করে সেটা হলো শরীরের ভেতরে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করে। আচ্ছা কোনটা ভালো, শরীরের ভেতর ঢুকে ভাইরাসগুলোকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করা? নাকি প্রথম থেকেই শরীরের ভেতরে ভাইরাসগুলোকে ঢুকতে না দেয়া?

অ্যান্টিভাইরাস হলো অনেকটা ওষুধের মতো। এর কাজ হলো আপনার কম্পিউটারের ভেতর ভাইরাস আছে কি না তা খুঁজে বের করা এবং থেকে থাকলে ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলা। তাছাড়া এটি প্রহরীর ন্যায় সারাক্ষন আপনার কম্পিউটার পাহারা দেয় যাতে কোন ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকতে না পারে। কিন্তু অনেক সময় অ্যান্টিভাইরাস ও ভাইরাস ধরতে এবং আটকাতে ব্যার্থ হয়।

কারণ ভাইরাস ধরার জন্য অ্যান্টিভাইরাসকে সবসময় আপডেটেড রাখতে হয়, নাহলে এটি ভাইরাস ধরতে পারে না। আবার এমন অনেক ভাইরাস আছে যেগুলো অ্যান্টিভাইরাসকেও বন্ধ করে দেয়।

তাই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্যকরী উপায় হলো এমন কোন ব্যাবস্থা নেয়া যাতে কম্পিউটারের ভেতর ভাইরাস ঢুকতেই না পারে। আচ্ছা কিভাবে কম্পিউটারের ভেতর ভাইরাস ঢুকে? সহজ উত্তর হলো বিভিন্ন মাধ্যম এর সাহায্যে। মাধ্যম কি?

ধরুন আপনি আপনার বন্ধুর কম্পিউটার থেকে একটি মুভি আনবেন, তো কিভাবে আনবেন? পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড কিংবা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক এর মাধ্যমে। তো এগুলো হলো এক একটি মাধ্যম।

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, আচ্ছা এই মাধ্যমগুলোতে কি এমনিতেই ভাইরাস থাকে, নাকি কেউ রেখে দেয়? ধরুন আপনি চাকরির জন্য সিভি তৈরী করে পেনড্রাইভ দিয়ে সেটা দোকানে নিয়ে গেলেন প্রিন্ট করার জন্য। দোকানের কম্পিউটারে ঢুকানোর সাথে সাথে আপনার পেনড্রাইভে ভাইরাস চলে এলো। দোকানের কম্পিউটারে যেহেতু প্রতিদিন অনেক মানুষের পেনড্রাইভ ঢুকানো হয় তাই কোন একটি ভাইরাস আক্রান্ত পেনড্রাইভ থেকে এটির ভেতর ভাইরাস ঢুকে পড়ে।

প্রিন্ট করা শেষে এই পেনড্রাইভটি দিলেন আপনার বন্ধুকে। এবার পেনড্রাইভ থেকে ভাইরাস তাঁর কম্পিউটারে ঢুকে গেলো। বাড়িতে এসে আবারো পেনড্রাইভ ঢুকালেন আপনার কম্পিউটারে। ফলে আপনার বন্ধুর মতো আপনার নিজের কম্পিউটারটিও ভাইরাস আক্রান্ত হলো। এবার বুঝতে পারলেন তো কিভাবে ভাইরাস ছড়ায়। আরেকটি কথা, ভাইরাস কিন্তু এমনি এমনি জন্ম নেয় না, কিছু দুষ্টু মানুষ আছে যারা ভাইরাস বানায়।

চলুন মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আচ্ছা কি করলে ভাইরাস কম্পিউটারের ভেতর ঢুকতেই পারবে না? সহজ উত্তর হলো ভাইরাস ঢুকার রাস্তা বন্ধ করে দিলে। উইন্ডোজভিত্তিক কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকার সবচেয়ে পরিচিত রাস্তা হলো অটোপ্লে। সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এ বাই ডিফল্ট অটোপ্লে চালু করা থাকে। ফলে ভাইরাস আক্রান্ত পেনড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক যখন আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকানো হয় সাথে সাথে ভাইরাসটি কম্পিউটারের ভেতর ঢুকে পড়ে। তাই অটোপ্লে অপশনটি বন্ধ করে রাখুন।

অটোপ্লে অপশনটি বন্ধ করা মানে ভাইরাসকে অটেমেটিক্যালি চালু হতে না দেয়া। কিন্তু আপনি যদি ভাইরাস আক্রান্ত পেনড্রাইভের ভেতর ঢুকে সেখান থেকে কোন ফাইল আপনার কম্পিউটারে কপি করে নিয়ে আসেন তাহলে সেই ফাইলের সাথে ভাইরাসও চলে আসবে আপনার কম্পিউটারে। সেজন্য ভাইরাস আক্রান্ত পেনড্রাইভ কখনো কম্পিউটারের ভেতর ঢুকাবেন না।

একান্তই যদি দরকার হয় তাহলে প্রথমে সেইফ মোড এ প্রবেশ করে তারপর সেই পেনড্রাইভ কম্পিউটারের ভেতর ঢুকান। কারণ ভাইরাস সাধারণত সেইফ মোড এ চলতে পারে না, ফলে আপনার কম্পিউটারেরও কোন ক্ষতি হয় না।

আজকাল সিডি ডিভিডি খুব একটা ব্যবহার হয় না বললেই চলে, বরং এখন সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অর্থাৎ বর্তমান কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। সেজন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ভাইরাস ছড়ায় বেশী। তাই ইন্টারনেট থেকে যেন ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের ভেতর আসতে না পারে সেজন্য অনিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

কোন ওয়েবসাইটে ডাউনলোড বাটন, কিংবা অবিশ্বাষ্য কোন অফার দেখামাত্রই ক্লিক করবেন না। এক কথায় যেখানে সেখানে ক্লিক করবেন না, কোন লিংকে ক্লিক করার আগে ভালো করে দেখে নিবেন, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট ডাউনলোড করার আগে ভালো করে দেখে নেবেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনাকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। কারণ অসচেতনতা কিংবা অসাবধানতার ফলেই আমরা বেশিরভাগ সময় ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হই।

এই ক'টা নিয়ম মেনে চললে অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াই আপনার কম্পিউটারকে ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। আপনি হয়তো বলতে পারেন কেন আমি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করবো না? কারণ ভাইরাস খুঁজে খুঁজে মারার চেয়ে ভাইরাসকে ঢুকতে না দেয়াই অধিক কার্যকরী। তাছাড়া এ্যন্টিভাইরাস তখনই ঠিকভাবে কাজ করবে যখন আপনি টাকা দিয়ে কিনে নিয়মিত ইন্টারনেট থেকে আপডেট করবেন। ধরুণ আপনি টাকা দিয়ে কিনলেন ঠিকই, কিন্তু নিয়মিত আপডেট করছেন না, তাহলে কিন্তু কোন কাজ হবে না।

এক কথায় বলতে গেলে আপনি যদি সবসময় সচেতন থাকেন, ঝুকিপূর্ণ পেনড্রাইভ না ঢুকান বা ঢুকালেও সেইফ মোড এ ঢুকান, অনিরাপদ ওয়েবসাইট, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট এবং স্প্যাম থেকে দূরে থাকেন, লিংক দেখামাত্রই ক্লিক না করেন, মানে ভেবেচিন্তে কাজ করেন, তাহলে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আপনাকে শুধু মাথায় রাখতে হবে, ভাইরাস ঢুকার সম্ভাবনা কেবল তখনই যখন আপনি কোন মাধ্যমের সাথে যুক্ত হবেন, তাই সবসময় যেকোন মাধ্যমের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে বিশেষ করে স্টোরেজ ডিভাইস, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট ও কোনকিছু ডাউনলোড করার সময় সজাগ থাকবেন।

Level 0

আমি তাসনুভা রায়া। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 11 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 16 টি টিউন ও 92 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

প্রিয় তাসনুভা রায়া,

আমি টেকটিউনস কমিউনিটি ম্যানেজার,

টেকটিউনস থেকে আপনার সাথে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করতে চাচ্ছি। টেকটিউনস থেকে আপনার সাথে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করার জন্য https://tknk.io/fKJN লিংকটিতে ক্লিক করে আপনার সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য সাবমিট করে আমাদের সাহায্য করবেন আশা করছি।

ছদ্ম ছবি, নাম, ইমেইল, ফোন, ঠিকানা ও সৌশল Contact পরিহার করে আপনার প্রকৃত/আসল ছবি, নাম, ইমেইল, ফোন, ঠিকানা ও সৌশল Contact দিন। যেহেতু টেকটিউনস থেকে আপনার সাথে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করা হবে।

সাবমিট করার পর আমাদের এই ম্যাসেজের রিপ্লাই আপনার কাছ থেকে আশা করছি।

বিশেষ নোট: আপনি যদি পূর্বে আমাদের এই ম্যাসেজ পেয়ে ফর্মটি সাবমিট করে থাকেন তবে আর পুনরায় সাবমিট করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি আপনি এখনও আমাদের এই ফর্মটি পেয়ে সাবমিট করে না থাকেন তবে অবশ্যই এখনই সাবমিট করুন এবং সাবমিট করার পর অবশ্যই আমাদের এই ম্যাসেজের রিপ্লাই দিন।

ধন্যবাদ আপনাকে।