নাসার সিস্টেমকে হ্যাক করা ১৫ বছর বয়সী এক বিস্ময়কর তরুণের জীবনের শেষ পরিণতি কতই না দূর্বিষহ হয়েছিল

টিউন বিভাগ জীবনী
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনার আশাকরি আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। বরাবরের মতো আজও হাজির হয়েছি আপনাদের জন্য নতুন একটি টিউন নিয়ে।

বন্ধুরা, আজকের এই টিউনের থাম্বনেল এবং শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে আজকের টিউনটি কি সম্পর্কে হতে যাচ্ছে। আজকের এই টিউনে আমি আলোচনা করব ১৫ বছর বয়সী একজন হ্যাকার কে নিয়ে। আজকে আমি যে ১৫ বছর বয়সী একজন নাসা হ্যাকার এর সম্বন্ধে বলবো, তার জীবনী একজন বলিউড সিনেমার নায়ক এর চাইতেও কম নয়। আপনারা হয়তোবা ইতিমধ্যেই ফেসবুক হ্যাকিং, ব্যাংক হ্যাকিং এবং ইমেইল একাউন্ট হ্যাকিং এর মত ঘটনা শুনেছেন। কিন্তু আমি যদি বলি, হ্যাকিং এর হাত থেকে পৃথিবীর সবচাইতে সিকিউর এজেন্সি নাসা ও ছাড় পাইনি; তবে কি আপনাদের সেটি বিশ্বাস হবে?

নাসার সিকিউরিটি সিস্টেম কিভাবে হ্যাক হলো?

সাইবার সিকিউরিটি সবচাইতে বড় এক্সপার্টরা নাসার সিকিউরিটি সিস্টেম কে দেখাশোনা করে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা ও করে। কিন্তু ১৯৯৯ সালে নাসার সঙ্গে এমন একটি ঘটনা ঘটে, যাতে করে নাসার সকল কার্যক্রমকে তিন সপ্তাহ বা ২১ দিনের জন্য বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। এটি সত্যিই অবাক করার বিষয় যে, নাসার মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান কেনইবা এত দিন ধরে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখল। আপনি যদি এটিতেও অবাক না হন তবে আপনাকে আরো একটি কথা বলি, এসব ঘটনার পেছনে ১৫ বছর বয়সী 'জনাথন জেমস' এর হাত ছিল। আপনারা কি তবে জানতে চান যে, কিভাবে এই ১৫ বছর বয়সী হ্যাকার জনাথন জেমস ছেলেটি নাসার সিস্টেমকে হ্যাক করেছিল?

জনাথন জেমস নাসার সিস্টেমকে হ্যাক করার পর তার সঙ্গে কি কি ঘটেছিল এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই টিউনে। এজন্য অবশ্যই আপনাকে সম্পূর্ণ টিউন টি মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। যেখানে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন ১৫ বছর বয়সী হ্যাকার জনাথন জেমস এর জীবনের গল্প এবং তার শেষ পরিণতি সম্পর্কে। চলুন তবে আজকের টিউনটি শুরু করা যাক।

জনাথন জেমস এর হ্যাকার জীবনের গল্প

ঘটনাটি হয়েছিল যখন আমেরিকাতে সর্বপ্রথম কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার সবে মাত্র শুরু হয়েছিল। সে সময়ে অনেক লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। তার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চারাও ইন্টারনেট দুনিয়ায় নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছিল; আর এসব বাচ্চার মধ্যে সে রকমই একজন ছিল জনাথন জেমস। জনাথন জেমসও কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট দুনিয়ায় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করছিল। বলা হয় যে, এই বাচ্চাটির বুদ্ধি অন্যান্যদের চাইতে অনেক বেশি ছিল এবং তার কম্পিউটারের প্রতি আসক্তির জন্য তার পিতা-মাতা অনেক আতঙ্কিত হতে থাকে।

আর এভাবে চলতে থাকলে তার পিতা-মাতা তার থেকে কম্পিউটারকে কেড়ে নেয় এবং জেমস ও বাড়ি থেকে চলে যায়। তবে তার পরবর্তীতে কম্পিউটার ফিরে দেবার শর্তে আবার সে বাড়িতে চলে আসে। জনাথন জেমস সোর্স, কোড, প্রোগ্রামিং ও কমান্ড শেখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে হ্যাকিং এর দিকে আকৃষ্ট হয় এবং কিছু সময় পর সে হ্যাকিং শুরু করে দেয়। হ্যাকিং এর জগতে সে তার নাম পরিবর্তন করে রেখে দেয় 'Comrade' এবং নিজের এই নামটি নিয়ে হ্যাকিং দুনিয়ায় সে প্রথম পা রাখে। সেইসঙ্গে জনাথন জেমস হ্যাকিং করার জন্য প্রোগ্রাম বানানো শুরু করে দেয়।

জনাথন জেমস হ্যাকিং এর সফলতা পাবার জন্য প্রথমে কিছু ইন্সটিটিউশন এবং স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করার পর সে তার হ্যাকিং এর পরিধি বড় করতে চেয়েছিল। সবচাইতে বড় কথা যে, জনাথন জেমস হ্যাকিং বাধ্য হয়ে করত না; বরং এটি সে তার বিনোদনের জন্য করত। সে তার অভিজ্ঞতাকে বড় করবার জন্য সরাসরি নাসার সিস্টেমকে টার্গেট করে। এজন্য সে এমন প্রোগ্রাম বানাতে শুরু করে যাতে করে সে খুব সহজেই নাসার সিস্টেমেই খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এক্ষেত্রে জেমস এর বেশি সময় লাগেনি।

জনাথন জেমস খুব অল্প সময়েই এরকম একটি প্রোগ্রাম বানিয়ে ফেলেছিল এবং এবার শুধু অপেক্ষায় ছিল সেই প্রোগ্রামটি পরীক্ষা করার। এ জন্য সে তার প্রোগ্রামটি একটি স্কুল এবং একটি শপিংমলে পরীক্ষা করে এবং এখানে তারপরীক্ষা সফল ভাবে সম্পন্ন হয়। যে কারণে তাঁর আগ্রহ ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকে। যে প্রোগ্রামটি দ্বারা জনাথন জেমস সেই স্কুল এবং শপিং মলের কম্পিউটার নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। এক্ষেত্রে সে সেই কম্পিউটার থেকে ফাইল গুলো ট্রানস্ফার করে নিতে পারত।

পরবর্তীতে জানা যায় যে, জেমস ওই দুইটা কম্পিউটার থেকে কিছু ব্যক্তির গোপন তথ্য বের করে নিয়েছিল। এবার তার প্রোগ্রামিং সঠিক থাকার কারণে সে ধীরে ধীরে নাসার সিস্টেম এর দিকে যেতে থাকে এবং সে তার প্রোগ্রামটিকে নাসার কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকিয়ে দেয়। জনাথন জেমস এর এই কাজটিকে আপনি নাসার দুর্বলতা ও ভাবতে পারেন আবার তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও ধরে নিতে পারেন। সেটি যাই হোক, জনাথন জেমস এর প্রোগ্রামটি সঠিকভাবে নাসার সিস্টেমে তখন ইনস্টল হয়ে যায়। এবার সে নাসার মতো এত বড় একটি সিকিউর এজেন্সির ডেটাকে Extract করতে পারত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো।

বলা হয় যে, জনাথন জেমস শুধুমাত্র নাসার সিস্টেমকে হ্যাক করেই থামেনি। বরং, জেমস নাসার সিস্টেমে ঢুকে কিছু সফটওয়্যার ও চুরি করেছিল; যে গুলোর মূল্য সে সময়ে ১.৭ মিলিয়ন ডলার ছিল। এছাড়া জেমসের হাতে ছিল ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এর এমন একটি সোর্সকোড, যেটির সাহায্যে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এর Temperature, Immunity নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কিন্তু জেমস বুঝতেই পারেনি যে, সে অজান্তেই অনেক বড় একটি অপরাধ করে ফেলেছে। অবাক করা বিষয় এটা যে, প্রথমদিকে নাসার এটা বুঝতেই পারেনি তাদের সিস্টেমটি কেউ হ্যাক করে রেখেছে।

যদিও কিছুদিন পর নাসার একজন এক্সপার্ট নিজের সিস্টেম এর কিছুটা পরিবর্তন দেখে তখন তবে সম্পূর্ণ সিস্টেমকে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। যার পরবর্তীতে নাসা পরবর্তীতে ২১ দিন এ বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং এটা জানার চেষ্টা করে এই হ্যাকিং এর পেছনের সোর্স টি আসলে কি। এছাড়া তারা এটি বের করার চেষ্টা করে যে, নাসার সিস্টেম থেকে কি কি বিষয় গুলো চুরি হয়েছে। কেননা ইতিমধ্যেই কোন একজন হ্যাকার নাসার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল এবং যেখানে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেই হ্যাকার হাতিয়ে ও নিতে পারতো। যেখানে তারা এই পর্যবেক্ষণটি করার কারণে ২১ দিনে তাদের প্রায় ৪১ হাজার ডলার এর ক্ষতি হয়।

জেমস ভেবেছিল যে, সে হয়তো বা নাসাকে বোকা বানাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তার এটা জানা ছিল না যে, সেখানে বসে থাকা লোক গুলো পৃথিবীর সবথেকে ভালো সাইবার এক্সপার্ট ছিল। যারা আজ নয়তো কাল ঠিকই তাকে খুঁজে বের করবেই। কেননা তার চাইতেও অনেক বড় বিশেষজ্ঞ এর দল রয়েছে নাসার কাছে। হ্যাকিংয়ের নেশায় ডুবে থাকা জেমস পরবর্তীতে নাসার মতো আরো বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলোর সিস্টেম কে হ্যাক করতে থাকে।

হ্যাকিংয়ের নেশায় ডুবে থাকা জেমস ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসের দিকে DTRA (Defence Threat Reaction Agency) এর কম্পিউটারকে ও হ্যাক করে ফেলে। যেখানকার ১০ টিরও বেশি কম্পিউটার থেকে মিলিটারিদের অনেক জরুরী মেইল এবং সেখানে থাকা কর্মীদের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড চুরি করে ফেলে। যেখানে Defence Threat Reaction Agency আসলে United State এর Department of Defence এর একটি সংস্থা। যেটা আমেরিকাকে পরমাণু, জৈবিক রাসায়নিক এবং বিশেষ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে।

আমেরিকার এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার হ্যাক হবার পর তারা একটু নড়েচড়ে বসে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার হ্যাক হবার পর তারা মনে করে এটি হয়তো বা কোন বড় একটি হ্যাকার গ্রুপের কাজ। এ জন্য তারা এই হ্যাকারকে বা এই হ্যাকার দলকে ধরার জন্য আমেরিকার বিশেষ ডিফেন্স সিস্টেম এবং গোপন এজেন্সিগুলো কাজ করতে শুরু করে দেয়। সবার কাছে এই ভয় ছিল যে, এরা যদি নাসার কাছে পৌঁছাতে পারে তবে আরো অনেক ক্ষতি হতে পারে। এভাবে করে তদন্ত চলার পর গোপন এজেন্সি সগুলো সাত দিন পর জনাথন জেমস এর তৈরি প্রোগ্রামটি খুঁজে বের করে।

জনাথন জেমস এর তৈরি প্রোগ্রামটি কিভাবে কাজ করে এটি জানার পর তারা হ্যাকার কে খুঁজতে থাকে। যেরকম টি আমি আগেই বলেছিলাম যে, পৃথিবীর সবচাইতে বেস্ট সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টরা কাজ করে এবং তাদের থেকে তার কোনো ভাবেই বাঁচা সম্ভব ছিল না। তাই কিছু সময় পরেই নাসা অপরাধীদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যেখানে নাসার কর্মীরা বুঝতে পেরেছিল জেমস তার বাড়ি থেকেই নাসার সিস্টেমে প্রোগ্রামটি ইনস্টল করেছিল। আর এজন্য তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু অপরদিকে জনাথন জেমস জানতোই না যে তার সঙ্গে পরবর্তীতে কি কি হতে চলেছে। একদিন হঠাৎ করেই জেমস এর বাড়িতে পুলিশ চলে আসে। জেমস কে ২০০০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বয়স যেহেতু তার বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল তাই তাকে কোট থেকে ৭ মাসের জন্য ফ্লোরিডার Detention Centre-এ রাখার সাজা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে তাকে কম্পিউটার এর কাছাকাছি আসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যেহেতু সেই সময়ে জেমস নাবালক ছিল এবং এজন্য তার সাজা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার শরীরে ড্রাগস-এর চিহ্ন পাওয়া যায়।

যে কারণে জেমসকে পরবর্তীতে আবার ছয় মাসের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। অবাক করার বিষয় হলো, ১৬ বছর বয়সে জেমস প্রথম নাবালক বালক ছিল যাকে সাইবার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে জেমস এসব প্রতিষ্ঠান কাছে ক্ষমা চায় যাদের কম্পিউটারে সে হ্যাকিং করেছিল। এজন্য জেমসকে নাসা এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর এর কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখতে হয়েছিল। তবে জেমসকে মুক্তি দেওয়ার পরও তাকে পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কড়া নজরদারিতে রাখা হয়, যেখানে জেমসকে কম্পিউটার ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এবার আপনি ভাবছেন যে গল্পটি হয়তোবা এখানেই শেষ; কিন্তু জেমস এর জীবনের গল্পটি এখানেই শেষ হয়নি। এসব ঘটনার পর জেমস এর জীবন পরবর্তীতে অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং সে ধীরে ধীরে মানসিক ডিপ্রেশন এ ভুগছিল। সবাই তার সঙ্গে একজন অপরাধীর মতই ব্যবহার করত এবং গোপন এজেন্সিগুলো তার ওপর সব সময় নজর রাখতো। এর পরবর্তীতে জেমসের জীবনের শুরু হয় পরবর্তী ধাক্কা। যেখানে জেমস অপরাধ না করেও দোষী সাব্যস্ত হতে চলেছিল।

এর পরবর্তীতে আমেরিকাতে আবার এধরনের বড় একটি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। যেখানে হ্যাকিংয়ের প্রক্রিয়াটি ঠিক একই রকম ছিল যেরকম টি জেমস করেছিল। এরকম সময়ে সুরক্ষায় এজেন্সির মাথায় জেমস এর কথায় প্রথমেই চলে আসে, যার ফলে সুরক্ষা এজেন্সিগুলো কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই জেমস এর বাড়িতে রেট করে। যদিও সে সময়ে তার বাড়ি থেকে কোনো রকমের তথ্য পাওয়া যায়নি হ্যাকিং এর বিষয়ে এবং যে কারণে তাদেরকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু সে সময় পর্যন্ত সন্দেহ জেমস এর দিকেই ছিল।

বলা হয় যে, এই রেট এরপর জেমস সবসময় ঘাবড়ে থাকতো এবং সে অনেকটা ডিপ্রেশন এর শিকার হয়ে গিয়েছিল। সে সবসময় ভাবতে তার অপরাধের কারণে তাকে হয়তো বা আবারও গ্রেপ্তার করে নেয়া হবে। কিন্তু সে দ্বিতীয়বার আর জেলে যেতে চাইছিল না। দ্বিতীয়বার তার বাড়িতে রেট করার পর পরবর্তী দুই সপ্তাহ পর জানা যায় জনাথন জেমস আত্মহত্যা করেছে। জেমস তার বাবার পিস্তল দিয়ে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছে।

মৃত্যুর আগে জেমস পাঁচ পাতার একটি সুইসাইড নোট লিখিয়েছিল। যেটি তার বাবা তার মৃত্যুর এক বছর পর মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেছিল।

সুইসাইড নোটে ঠিক এই রকম কিছু লেখা ছিল যে, "সে আইন ব্যবস্থার উপর কোন ভরসা করে না। জেমস লিখেছিল, হয়তো আমার এই মেসেজটি জনগণের কাছে অনেক শক্তিশালী বার্তা হয়ে দাঁড়াবে; কিন্তু আমি এই পরিস্থিতি থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। আর এর থেকে পরিত্রান পাবার জন্য আমার কাছে আর কোনো রাস্তা নেই। এটি কারো হার কিংবা জেতার সম্পর্ক নয়, বরং এটা আমার হার এবং জেতার সম্পর্ক। যে অপরাধী টি আমি নিজে করিনি, অথচ সেই অপরাধে ফাঁসিয়ে কারো কি লাভ হবে। এখানে তো আমি জিতব না, বরং হারবো; তার চাইতে আমার মরে যাওয়া অনেক ভালো। "

তো বন্ধুরা, এটি হলো সবচাইতে যুবক এবং বুদ্ধিমান একজন হ্যাকারের দুঃখ ভরা গল্প। এটি সত্য যে, জেমস ভুলবশত একটি খারাপ কাজ করে ফেলেছে এবং এটা সত্য যে জেমস এর কাজটি অনেক খারাপ ছিল। কিন্তু জেমসের এই কাজটি পৃথিবীর অত্যান্ত সিকিউর এজেন্সি অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। যেমন জেমস নিজে বলেছিল যে, সরকার নিজের কোন কোম্পানির সুরক্ষার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ ক্ষেত্রে সরকারি সিস্টেমগুলোতে সিকিউরিটি এর ব্যবস্থা অনেকটাই কম এবং সেসব সিস্টেমকে যে কেউ হ্যাক করে নিতে পারবে।

যদিও জেমস এর কথার পর সেসব সিকিউরিটি সিস্টেমের ব্যাপক আপডেট আনা হয়। যেটিকে জেমস এর হ্যাকিং এর জন্য পজিটিভ দিক ধরা যেতে পারে। জেমস এর বাবা রবার্ট জেমস নিজেই একজন প্রোগ্রামার ছিলেন। তিনি একটি ইন্টারভিউ এ বলেছিলেন যে, তার ছেলে কতটাই না জিনিয়াস ছিল; আবার তিনি কখনও কখনও ভাবেন কত বড় বোকা কেইনা পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছেন। জনাথন জেমস এর গল্প থেকে বোঝা যায় জীবন যে কোন সময় যে কোন দিকে ঘুরে যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ জেমস নিজের বিনোদনের জন্য যেটা করেছিল, সেই হ্যাকিং জিনিসটি তাকে শেষমেষ কোথায় নিয়ে চলে যায়। যেখানে জেমস প্রথমে হ্যাকিং করেছিল নিজের অভিজ্ঞতাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য বা নিজের কিছুটা বিনোদনের জন্য। যেখানে সে এটি দেখতে চেয়েছিল তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কেমন কাজ করা যায়। কিন্তু হ্যাকিং এর বিষয়টি যে তাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা সে চিন্তা করেনি। যেখানে জেমসকে শেষমেষ নিজের জীবনকে নিজে শেষ করতে হলো।

শেষ কথা

মানুষ তার ভবিষ্যৎ আগে থেকে দেখতে পারে না। তবে মানুষ তার কর্মের দ্বারা এটি একটু হলেও উপলব্ধি করতে পারে যে, তার ভবিষ্যৎ কি হতে পারে। যেখানে আমরা সবাই এই বিষয়টিকে খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারি। আমরা যে রকম কাজ বর্তমানে করে থাকবো, ভবিষ্যতে ঠিক এরকমই কিছু পাবার আশা করতে পারি। আর সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদেরকে ভবিষ্যতের কর্মফল উপলব্ধি করেই সামনের দিকে এগোতে হবে।

যেখানে আমাদের এমন কোন কাজ করা উচিত নয়, যেই কাজটির ভবিষ্যৎ অনেক অন্ধকার। যেমনভাবে আমি যদি বর্তমানে কোন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন, তবে এক্ষেত্রে আপনি আশা করতে পারে না ভবিষ্যতে আপনি কোন সমস্যায় পড়বেন না। যেখানে মাদক ব্যবসার ভবিষ্যত হিসেবে আপনি খুঁজে পাবেন শুধুই অন্ধকার এবং এক্ষেত্রে আপনি ভবিষ্যতে পড়তে পারেন অনেক বড় বিপদে। তেমনি ভাবে হ্যাকিং বিষয়টিও একই, যেখানে যদি কৌতূহলবশত কিংবা বিনোদনের বসে কেউ যদি হ্যাকিং করে থাকে, তবে এক্ষেত্রেও এটি অপরাধ। যেমন ঘটনা ঘটেছে জনাথন জেমস এর জীবনে।

জেমস এর হ্যাকিংয়ের বিষয়টি দেখার পর আপনার কি মতামত? জেমস কি আসলেই বুদ্ধিমান ছিল নাকি সে খুব বোকা ছিল? আপনার মতামত টি অবশ্যই এজন্য টিউনমেন্ট করবেন এবং সেইসঙ্গে টিউনটিতে একটি জোসস করবেন। যদি আপনাদের কাছে আজকের এই টিউন টি মানসম্মত না মনে হয়, তবে এক্ষেত্রে আমাকে ফলো করে রাখবেন। কেননা আমি নতুন নতুন টিউন নিয়ে প্রতিনিয়ত আপনাদের সামনে হাজির হয়ে থাকি; এক্ষেত্রে আজকের টিউনটি আপনার কাছে ভাল না লাগলেও ভবিষ্যতে আপনাদের কাছে আমার টিউন ভালো লাগতেও পারে।

বন্ধুরা, আজ তবে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তী টিউনে আপনাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 163 টি টিউন ও 55 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 15 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস