আপনি বিশ্বাস করতেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে এরকম ৫ টি সাধারণ মিথ, যা আসলে সত্য নয়!

Level 12
কন্টেন্ট রাইটার, টেল টেক আইটি, গাইবান্ধা

ইদানীং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক হাইপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ChatGPT, MidJourney, Chatsoni এবং Google Bard এর মত এআই টুলগুলো সামনে আসার পর থেকে। আর এসব এআই টুলগুলো সামনে আসার পর, অন্যান্যদের মতো আপনিও হয়তোবা অনেক আগে থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে কিছু সাধারণ ধারণা পোষণ করতেন।

আপনি এআই সম্পর্কে জানেন এমন অনেক ধারণাই কিন্তু সঠিক নয়। বর্তমানে আমরা এআই এর Learn এবং Self-improve এর ক্ষমতা দেখছি এবং যার সবই আমাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য। তবে, AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর এরকম ইম্প্রুভ হওয়ার কারণে অনেকের মাঝে সম্ভাব্য কিছু নেতিবাচক প্রভাব ও কাজ করছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে সেসব মানুষরা ভুল ধারণার দিকে পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলোকে আমাদের ঠিক করা দরকার।

এআই সম্পর্কে আপনার অনুভূতি যাই হোক না কেন, যতটা সময় যাবে, আমরা ও এআই প্রযুক্তির উপর তত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বো। তাহলে চলুন এবার এরকম কিছু পৌরাণিক কাহিনী দেখে নেওয়া যাক, যেগুলো আপনার বিশ্বাস করা বন্ধ করা উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেবলমাত্র মেশিনে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অনুকরণ করে। এআই প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো, এমন একটি সিস্টেম ও মেশিন তৈরি করা, যা এমন সব কাজগুলো সম্পাদন করতে পারে, যা করতে মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো, অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝা ও প্যাটার্ন চেনা, সমস্যার সমাধান এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

এআই দীর্ঘকাল ধরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, এআই প্রযুক্তি ২০১৭ সালে গুগলের মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি Nasa এর Kepler-90i গ্রহ আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা নাসা এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। আর এটি ছিল জ্যোতির্বিদ্যায় এআই প্রযুক্তির প্রথম ভূমিকা, যা মহাকাশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর বিশাল সম্ভাবনাকে আরো বেশি লাইমলাইটে নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পণ্য যেমন, স্মার্ট ফোন কম্পিউটার এবং অন্যান্য IOT ডিভাইস গুলোতে সুস্পষ্ট। আর আপনি হয়তোবা এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে Deep Fake Videos, Image Generation এবং AI Chat bot গুলো প্রত্যক্ষ করে দেখেছেন। তবে এসবের মধ্য থেকে, আপনি হয়তোবা এআই চ্যাটবট বেশি ব্যবহার করে থাকতে পারেন এবং এজন্য এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে আপনার অনেক ধারণা হতে পারে।

যাইহোক, ব্যবসায়ী এবং মানুষের কাজের উপর প্রভাব ছাড়াও এআই প্রযুক্তি ওষুধ, জ্যোতির্বিদ্যা, কৃষি এবং সফটওয়্যার শিল্পে ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। আর এসব কারণে এআই সম্পর্কে ভুল ধারণা সময়ের সাথে আরো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তিবিদরা এবং অনেক ভবিষ্যৎ বাদীরা দৃঢ়ভাবে এটি বিশ্বাস করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সীমাহীন।

তাহলে চলুন, এবার এরকম কিছু ধারণা জেনে সম্পর্কে পর্যালোচনা করা যাক এবং এসব ধারণা সত্য ও মিথ্যা গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

১. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কর্ম ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা দূর করবে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কারণে কর্ম ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা

২০১৯ সালে CNBC এবং SurveyMonkey একটি রিপোর্ট করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্ম ক্ষেত্রে থাকা মানুষদের ৭০ শতাংশ উদ্বিগ্ন যে, AI প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে রিপ্লেস করবে। অর্থাৎ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কর্মক্ষেত্রে তাদের জায়গা দখল করবে। আর এই বিতর্কিত মিথ টি ধরেই, অবশেষে কিছু কর্ম ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থানকে এআই কিছু অংশে রিপ্লেস করতে পেরেছে।

কিন্তু, যখন এআই প্রযুক্তির প্রভাবের কারণে কর্মক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটেছে এবং কিছু দক্ষতা এবং চাকরি ইতিমধ্যেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কারণে হ্রাস পাচ্ছে, তখন AI এর আবির্ভাব চাহিদা মাফিক চাকরি এবং দক্ষতার ও উদ্ভব হচ্ছে।

World Economic Forum ভবিষ্যৎবাণী করেছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮৫ মিলিয়ন মানুষ চাকরীচ্যুত হতে পারে। আর একই পরিসংখ্যান পূর্বাভাস দিয়েছে যে, AI বিভিন্ন শিল্পে ৯৭ মিলিয়ন নতুন চাকরির জন্য ভূমিকা তৈরি করতে পারে।

এমন পরিসংখ্যান দেখে এটি আমাদের কাছে বোধগম্য যে, AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির কারণে যে নতুন চাহিদার তৈরি হবে, সেই শূন্যতা পূরণ করার জন্য উচ্চ দক্ষতার মানুষ প্রয়োজন। আর, এআই প্রযুক্তির কারণে যে আরো নতুন সব কাজের সৃষ্টি হবে, সেসব কাজের জন্য দক্ষতার উন্নয়ন করলেই সেসব খাত গুলোতে আরো অনেক বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Zippia এর আরো একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, অটোমেশনের ফলে ২০০০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার লোক চাকরি হারানোর জন্য দায়ী। এরমধ্যে বেশিরভাগই উৎপাদন মূলক কাজ, যা মানুষকে কর্মক্ষেত্রে বিপদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অতএব দেখা যাচ্ছে যে, এধরনের প্রতিস্থাপনের ফলে মানুষের ক্ষতির পরিবর্তে কর্মক্ষেত্রে আরও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ফলে যেমন পণ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি ভাবে সেই সেক্টর ঘিরে আরো অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র সেই নতুন সেক্টরের জন্য নতুন দক্ষতা বা সেই প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজন।

উদাহরণস্বরূপ, ChatGPT এর কথাই বলা যায়। বর্তমানে, অনেক প্রোগ্রামার ChatGPT এর দ্বারা প্রোগ্রামিং করে নিচ্ছে। এই AI Chat Bot টি দিয়ে কীভাবে সঠিক কোড লিখে নিতে হবে, তা শুধুমাত্র একজন দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জানেন এবং কাঙ্ক্ষিত আউটপুট পাওয়ার জন্য কী ধরনের Prompts ব্যবহার করতে হবে, তা তিনি দিতে পারেন। তাই, এখানে ChatGPT এর মত এআই টুলগুলো প্রোগ্রামারদের কাজ হাতছাড়া করছে না। বরং, এটি আরো মানুষদেরকে আরো দক্ষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করছে, যাতে করে এআই ব্যবহার করে তিনি সর্বোচ্চ আউটপুট নিতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্ম ক্ষেত্রে মানুষকে রিপ্লেস করছে কিনা, এটি সম্পর্কে যদি একটি বাস্তব উদাহরণ সামনে নিয়ে আসা যায়, তাহলে অ্যামাজনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার হার এর দিকে নজর দিতে হবে।

অ্যামাজনের পাঁচ লক্ষের ও বেশি Roaming Warehouse Robots থাকা সত্ত্বেও, Macrotrends একটি রিপোর্ট অনুসারে, ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাদের মানবশক্তি নিয়োগের হার ২৩% বেড়েছে। আর ছাটাই এর কারণে এটি ২০২২ সালে ৪.১৭% হ্রাস পেয়েছে, যা AI ব্যবহারের কারণে ছিল না।

তাই সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, এআই আপনার কাজের জন্য হুমকি নয়। এটি শুধুমাত্র কর্মীদের কর্মের পরিমাণ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা আরো বেশি করতে সাহায্য করে। আর আপনি যদি এআই প্রযুক্তির প্রভাব বিবেচনায় দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে এআই প্রযুক্তির কারণে আপনার চাকরি হারানোর ঝুঁকি কম থাকবে। এক্ষেত্রে নতুন কোন কাজ শেখার সময়, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি আপনার দক্ষতাকে আরো বেশি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

তাছাড়া, এআই যতই চেষ্টা করুক না কেন, মানুষ যে মানসিক বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তেমনটি করতে পারেনা।

২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব দখল করবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব দখল করবে এমন ধারণা

এআই প্রযুক্তি নিয়ে যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে, আমাদেরকে অবশ্যই সেসবের বিষয়ে যত্নবান হতে হবে। যদিও কিছু উল্লেখযোগ্য AI Expert রা AI এর আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু, তাদের করা এই সতর্কবাণী কতটা যৌক্তিক?

মেশিন মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান হবে এই ধারণাটি সব সময় বিতর্কিত। স্টিফেন হকিং এবং নিক বিল্টনের মত ব্যক্তিরা এমনটি বিশ্বাস করেন যে, এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যেতে পারে। আর, এই বিষয়টি অনেক সাইন্স ফিকশন মুভিতে দেখানো হয়েছে।

এর পাল্টা যুক্তি হিসেবে টেসলার সিইও এলন মাস্ক এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও যৌক্তিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি এআইকে একটি ভূতের মত বস্তুর সাথে তুলনা করেছেন এবং এমনটি বলেছেন যে, আমরা যদি বোকামি করি তাহলে আমরা এটির নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারি।

এআই প্রযুক্তির যদিও দক্ষতা এবং নির্ভরতার শক্তি রয়েছে, কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, AI কখনোই একজন ব্যক্তির অন্তর এবং আবেগের মতো জায়গা দখল করতে পারে না। সুতরাং, এআই যে একেবারে রহস্যময় ভাবে মানুষের মতো আবেগ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করে বিশ্ব দখল করে নিবে এবং তাকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে, এরকমটি করা সম্ভব নয়।

৩. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিজে নিজেই বিকশিত হবে এবং অতি মানব হয়ে উঠবে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিজে নিজেই বিকশিত হবে এমন ধারণা

২০১৪ সালে The Machine সিনেমায় একটি মহিলার রোবট চরিত্রকে এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যে, সে মানসিক বুদ্ধিমত্তা অর্জন করে। এ ধরনের সাইন্স ফিকশন মুভিগুলো মূলত এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। কিন্তু, এগুলো নিছক কল্পনার উপর তৈরি করা হয়েছে, যেগুলোতে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করা কিংবা সেগুলো বাস্তবে ঘটা‌ অসম্ভব।

তবে এটি স্পষ্ট যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বিজনেস ইন্টেলিজেন্স, জ্যোতির্বিদ্যা, ঔষধ এবং ফার্মেসিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু আমাদের এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, আপনি একটি মেশিনকে যতই ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেন না কেন, এটি শুধুমাত্র তার কাছে থাকা Available Data এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং সে নিজের জন্য চিন্তা করতে পারেনা।

Self-Evolve বা নিজে থেকে চিন্তায় এমন একটি লিমিটেশন, যা AI এর জন্য অতিক্রম করতে অনেক বেশি সময় লাগবে। আর এটি সম্ভবত কখনোই ঘটবে না। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে করা হয় এমন বেশিরভাগ কাজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানুষের চূড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করে। তাই, কোন AI কে যদি এমন কোন কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বানানো না হয়, তাহলে সে সেটি করতে পারবেনা।

অতএব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকে শিখে একেবারে অতি মানব হয়ে যাবে এবং আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে, এমন চিন্তা করা কিছুটা হাস্যকর। এক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র এআইকে আধুনিক যুগের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কল্পনা করতে পারেন, যিনি আপনার কাজগুলোকে আরো নির্ভুল এবং দক্ষতার সাথে করে দিতে সক্ষম। আর এটি কোনভাবেই আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান নয়।

৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং একই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং এর বিষয়টি অনেকেই একই মনে করেন। কিন্তু, এই দুইটি বিষয় এক নয়। তবে, এই দুইটি বিষয়ে একই না হলেও এগুলোর মধ্যে আন্তঃ সম্পর্ক রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৫০ এর দশকের দিকে। তখন আইবিএম-এর আর্থার স্যামুয়েল ১৯৫২ সালে মেশিন লার্নিং শব্দটি তৈরি করেছিলেন।

মেশিন লার্নিং হল এমন একটি লক্ষ্য বা ধারণা, যেখানে একটি মেশিনকে শেখানো হয় যে, কীভাবে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়। মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিতে একটি কম্পিউটার সিস্টেমকে স্পষ্টভাবে কোন প্রোগ্রাম না করে শুধুমাত্র হিস্টোরিক্যাল ডাটা ব্যবহার করে কোন একটি কাজ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। মেশিন লার্নিং হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি সাব-ফিল্ড, যা মেশিন গুলোকে অতীতের ডেটা বা অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিখতে ব্যবহৃত হয়।

আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অনুকরণ করে কাজের ব্যবস্থা করা। যেখানে, এই কাজগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝা, নতুন করে শেখা, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। ‌

অন্যদিকে, মেশিন লার্নিং এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মেশিনকে আগে দেখানো তথ্যের প্যাটার্নের উপর ভিত্তি করে সেটি দক্ষতার সাথে একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করে।

৫. রোবট হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একমাত্র পণ্য

রোবট এর সাথে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক

প্রতিবার যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি সামনে আসে, তখন আপনার মাথায় রোবটের ছবি সামনে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র রোবটের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

রোবটিক্স ধারণার বাহিরে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরো অনেক জটিল ব্যবহার রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, সেখানে ফেসিয়াল এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিকগনিশন সিস্টেম, স্মার্ট হোমস, স্বাস্থ্যসেবার ইকুইপমেন্ট এবং ব্যবসায়িক আরো অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার রয়েছে।

যেখানে রোবটিক্স হলো অটোমেশনের একটি মাত্র দিক, যা এআই প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে। তাই, সংক্ষেপে বলতে গেলে, রোবটগুলোকে শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির পণ্য হতে হবে, ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং, এআই প্রযুক্তির আরো অনেক যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিগত ব্যবহার হতে পারে। রোবটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের আচরণে এবং কাজের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানেই রোবট, এবং ধারণা করা মানুষেরা এখন থেকে এই চিন্তা বাদ দিন।

শেষ কথা

AI প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের কাজগুলোকে আরো দ্রুত এবং আরও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সহায়তা করা। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে কিছু বিতর্ক হওয়ার কারণে অনেকের কাছে এটি সমাধানের পরিবর্তে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আশা করছি, আপনি অন্যান্যদের মতো এসব পৌরাণিক কাহিনী পড়ে এআই সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছেন না এবং আপনি এখনো সঠিকটি জানেন।

Level 12

আমি মো আতিকুর ইসলাম। কন্টেন্ট রাইটার, টেল টেক আইটি, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 331 টি টিউন ও 93 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 59 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

“আল্লাহর ভয়ে তুমি যা কিছু ছেড়ে দিবে, আল্লাহ্ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু অবশ্যই দান করবেন।” —হযরত মোহাম্মদ (সঃ)


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস