ফোনের স্টোরেজ ভরে যায় কেন, ভেতরের আসল হিসাব ও নিরাপদে ২০ GB খালি করার পদ্ধতি

১২৮ GB এর ফোন কিনেছেন, ভারী কোনো গেম নেই, ছবিও হাজার দুয়েক। তবু এক বছর পর Settings খুলে দেখলেন খালি জায়গা মাত্র ৬ GB, আর তালিকার সবচেয়ে বড় অংশটির গায়ে লেখা System অথবা Other। কিছু মুছলেও সংখ্যাটা তেমন নড়ে না, উল্টো দুদিন পর আবার Storage Full এর নোটিফিকেশন চলে আসে।

এই সমস্যার সমাধান কোনো Cleaner অ্যাপ নয়। সমাধান হলো স্টোরেজের ভেতরের হিসাবটা বুঝে ফেলা। Android আপনার স্টোরেজকে ঠিক যে ভাবে ভাগ করে রাখে, সেটি একবার বুঝে গেলে আপনি নিজেই বলতে পারবেন কোথায় হাত দিলে সবচেয়ে বেশি জায়গা ফিরে আসবে আর কোথায় হাত দিলে উল্টো ক্ষতি হবে।

এই টিউনে আমি একেবারে গোড়া থেকে শুরু করব। প্রথমে দেখাব নতুন ফোনেই কয়েক GB কম কেন দেখায়, তারপর দেখাব Settings এর Storage পাতাটি কীভাবে পড়তে হয়, এরপর ধাপে ধাপে এমন একটি পদ্ধতি দেব যা দিয়ে বেশিরভাগ ফোনে ১৫ থেকে ২০ GB জায়গা ফিরে পাওয়া সম্ভব, একটি দরকারি ফাইলও না হারিয়ে।

➡ স্টোরেজ আর র‍্যাম দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস

শুরুতেই একটি বিভ্রান্তি পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। স্টোরেজ হলো ফোনের স্থায়ী ভান্ডার, যেখানে ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেম জমা থাকে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও এই তথ্য মুছে যায় না।

র‍্যাম হলো অস্থায়ী কাজের টেবিল, যেখানে এই মুহূর্তে চালু থাকা অ্যাপগুলো বসে কাজ করে। ফোন বন্ধ হলেই র‍্যাম খালি হয়ে যায়। তাই র‍্যাম খালি করার অ্যাপ দিয়ে স্টোরেজের কোনো উপকার হয় না, আর স্টোরেজ খালি করলে র‍্যামের সমস্যা মেটে না।

র‍্যাম ও মেমোরি ম্যানেজমেন্টের ভেতরের হিসাবটি আমি আগে আলাদা করে লিখেছি, সেটি পড়তে পারেন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে RAM Cleaner ও Battery Saver অ্যাপ আসলে কী করে টিউনটিতে। এই টিউনের পুরো আলোচনা শুধু স্টোরেজ নিয়ে।

➡ নতুন ফোনেই কয়েক GB কম দেখায় কেন

বক্সে ১২৮ GB লেখা থাকলেও ফোন চালু করে Settings এ গিয়ে দেখবেন মোট স্টোরেজ ১১৯ GB এর মতো, আর তার মধ্যে আগেই ২০ GB এর কাছাকাছি ব্যবহৃত। এটি প্রতারণা নয়, এর পেছনে দুটি সোজা কারণ আছে।

বিজ্ঞাপণের GB আর ফোনের GB এক নয়

নির্মাতারা GB হিসাব করে দশভিত্তিক নিয়মে, অর্থাৎ ১ GB মানে ১০০ কোটি বাইট। কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম হিসাব করে দুইভিত্তিক নিয়মে, যেখানে ১ GB মানে ১০৭৩৭৪১৮২৪ বাইট। এই পার্থক্যের কারণেই ১২৮ GB এর চিপ ফোনে প্রায় ১১৯ GB হিসেবে দেখা যায়।

  • ৬৪ GB এর ফোনে ব্যবহারযোগ্য দেখাবে প্রায় ৫৯ GB
  • ১২৮ GB এর ফোনে ব্যবহারযোগ্য দেখাবে প্রায় ১১৯ GB
  • ২৫৬ GB এর ফোনে ব্যবহারযোগ্য দেখাবে প্রায় ২৩৮ GB

সিস্টেম পার্টিশন ও প্রি ইনস্টলড অ্যাপ

এর পরের অংশটি খেয়ে ফেলে অপারেটিং সিস্টেম নিজেই। Android এর মূল অংশ, নির্মাতার নিজের স্কিন, Google এর বাধ্যতামূলক অ্যাপগুলো এবং আগে থেকে বসানো অ্যাপ মিলিয়ে আধুনিক ফোনে ১৫ থেকে ২৫ GB চলে যায়। এই অংশটিই Settings এ System নামে দেখানো হয়।

  • Android এর কোর ফাইল ও ড্রাইভার
  • নির্মাতার কাস্টম স্কিন ও থিম ইঞ্জিন
  • প্রি ইনস্টলড অ্যাপ ও তাদের প্রথম আপডেট
  • আপডেটের জন্য সংরক্ষিত অতিরিক্ত জায়গা
  • ফাইল সিস্টেমের নিজের হিসাব রাখার অংশ

এই System অংশটি আপনি মুছতে পারবেন না এবং মুছতে চেষ্টাও করা উচিত নয়। তাই বাস্তব হিসাব করার সময় ধরে নিন, ১২৮ GB এর ফোনে আপনার নিজের কাজে আসল জায়গা প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ GB।

➡ Settings এর Storage পাতা কীভাবে পড়বেন

যেকোনো পরিষ্কারের কাজ শুরুর আগে আপনাকে জানতে হবে জায়গাটা আসলে কে খাচ্ছে। অনুমানে কাজ করলে দরকারি ফাইল মুছে যায়, আর জায়গা তেমন বাড়ে না।

  • স্টক Android ও Pixel এ যান Settings তারপর Storage
  • Samsung এ যান Settings তারপর Battery and device care তারপর Storage
  • Xiaomi ও Redmi তে যান Settings তারপর About phone তারপর Storage
  • Realme, Oppo ও Vivo তে যান Settings তারপর About device তারপর Storage

এই পাতায় সাধারণত Apps, Images, Videos, Audio, Documents, System ও Trash নামে ভাগ থাকে। এখানে দুটি শব্দ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়, তাই সেগুলো আলাদা করে বলি।

System মানে কী

System হলো অপারেটিং সিস্টেম ও প্রি ইনস্টলড অংশ। এটি স্থির থাকে, বড়জোর বড় আপডেটের পর কিছুটা বাড়ে। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই এবং এটি কমানোর কোনো নিরাপদ উপায়ও নেই।

Other বা Miscellaneous মানে কী

Other হলো সেই সব ফাইল যেগুলো Android নির্দিষ্ট কোনো ভাগে ফেলতে পারেনি। এর ভেতরে থাকে অ্যাপের ভেতরের ডেটা, ডাউনলোড করা জিপ ও এপিকে, অফলাইনে রাখা ভিডিও, ম্যাপের ডেটা, লগ ফাইল ও অসম্পূর্ণ ডাউনলোড। বেশিরভাগ ফোনে হারিয়ে যাওয়া জায়গার সবচেয়ে বড় অংশ এখানেই লুকিয়ে থাকে।

➡ জায়গা খাওয়ার আসল অপরাধীরা, ক্রম অনুযায়ী

শত শত ফোন ঘেঁটে দেখা যায়, অপরাধীর তালিকাটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই একই রকম। নিচের ক্রম অনুযায়ী কাজ করলে সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি জায়গা ফিরে আসে।

এক নম্বর অপরাধী, মেসেজিং অ্যাপের মিডিয়া

WhatsApp, Messenger, Telegram ও Imo প্রতিটি ছবি, ভিডিও, ভয়েস নোট ও স্টিকার ফোনে নামিয়ে রাখে। পরিবারের বা অফিসের একটি সক্রিয় গ্রুপে থাকলে মাসে দুই থেকে তিন GB শুধু ফরওয়ার্ড হওয়া ভিডিওতেই চলে যায়। বছর শেষে এটি দাঁড়ায় ২০ থেকে ৩০ GB।

মজার বিষয় হলো, এই ফাইলগুলো মুছে ফেললেও চ্যাটের লেখা অংশ অটুট থাকে। অর্থাৎ আপনি স্মৃতি হারাচ্ছেন না, শুধু আপনার কাজে না আসা ভিডিওগুলো সরাচ্ছেন।

দুই নম্বর অপরাধী, ক্যামেরার ভিডিও

ছবি নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ দুশ্চিন্তা করেন, অথচ আসল ভিলেন ভিডিও। একটি সাধারণ ছবি ৩ থেকে ৬ MB, কিন্তু ভিডিওর হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা।

  • 1080p তে ৩০ ফ্রেমে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ MB
  • 4K তে ৩০ ফ্রেমে প্রতি মিনিটে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ MB
  • 4K তে ৬০ ফ্রেমে প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০০ MB ছাড়িয়ে যেতে পারে

অর্থাৎ 4K তে ধারণ করা মাত্র আধা ঘণ্টার ভিডিও একাই ১০ GB এর বেশি নিয়ে ফেলে। তাই ক্যামেরার ডিফল্ট রেজোলিউশন কমিয়ে রাখা সবচেয়ে কার্যকর একটি সিদ্ধান্ত।

তিন নম্বর অপরাধী, অ্যাপ ক্যাশ ও অ্যাপ ডেটা

ক্যাশ হলো অ্যাপের নিজের বানানো অস্থায়ী কপি, যাতে পরের বার দ্রুত খোলে। YouTube, Facebook, Instagram ও Chrome এই ক্যাশ জমিয়ে রাখে। ক্যাশ মুছলে কোনো তথ্য হারায় না, শুধু পরের বার অ্যাপ একটু ধীরে খোলে।

অ্যাপ ডেটা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। এর ভেতরে থাকে আপনার লগইন, সেটিং ও অফলাইনে নামানো কনটেন্ট। Clear Data চাপলে অ্যাপ একদম নতুন অবস্থায় ফিরে যায় এবং আপনাকে আবার লগইন করতে হয়। তাই এই দুটির পার্থক্য মনে রাখা জরুরি।

চার নম্বর অপরাধী, ডাউনলোড ফোল্ডার ও Trash

Downloads ফোল্ডার হলো ফোনের সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা। এখানে বছরের পর বছর জমে থাকে পুরোনো এপিকে, একবার দেখা পিডিএফ, অর্ধেক নামানো ভিডিও ও ডুপ্লিকেট ছবি। এর সাথে যোগ হয় Google Photos ও File ম্যানেজারের Trash, যেখানে মুছে ফেলা ফাইল ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত জায়গা দখল করে বসে থাকে।

➡ ধাপে ধাপে নিরাপদে ২০ GB খালি করার পদ্ধতি

এখন হাতে কলমে কাজ। নিচের ধাপগুলো ঠিক এই ক্রমেই করুন, কারণ ক্রমটি সাজানো হয়েছে সবচেয়ে বেশি লাভ থেকে সবচেয়ে কম লাভের দিকে। প্রতিটি ধাপ শেষে Storage পাতায় ফিরে গিয়ে সংখ্যাটা মিলিয়ে নিন, তাতে বুঝতে পারবেন কোন ধাপে কত জায়গা এল।

  • ধাপ এক, WhatsApp খুলে Settings তারপর Storage and data তারপর Manage storage এ যান। এখানে Larger than 5 MB ও Forwarded many times নামে দুটি তালিকা পাবেন। এই দুটি তালিকা থেকে নির্বাচন করে মুছে ফেলুন, সাধারণত এখানেই সবচেয়ে বড় লাভ হয়
  • ধাপ দুই, একই Storage and data পাতায় Media auto download এর নিচে Photos, Audio, Video ও Documents সব জায়গা থেকে টিক তুলে দিন। এতে ভবিষ্যতে আর আপনাআপনি কিছু নামবে না
  • ধাপ তিন, Telegram এ যান Settings তারপর Data and storage তারপর Storage usage এবং Clear cache চাপুন। Telegram এ Keep media অংশে সময়সীমা তিন দিন করে দিন
  • ধাপ চার, Google Photos খুলে প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিয়ে Free up space চাপুন। এটি শুধু সেই ছবিগুলোর ফোনের কপি মুছবে যেগুলো আগে থেকেই ক্লাউডে সংরক্ষিত আছে
  • ধাপ পাঁচ, Google Photos এর Trash ও ফাইল ম্যানেজারের Recycle bin দুটিই খালি করুন। মনে রাখবেন, মুছে ফেলা মানে সাথে সাথে জায়গা ফিরে আসা নয়
  • ধাপ ছয়, Files by Google অ্যাপের Clean ট্যাবে যান। এখানে Junk files, Duplicate files, Large files ও Unused apps আলাদা করে দেখানো হয়। ডুপ্লিকেট ও বড় ফাইল এখান থেকে দেখে দেখে সরান
  • ধাপ সাত, Settings এর Storage পাতা থেকে Apps এ ঢুকে আকার অনুযায়ী সাজান। সবচেয়ে বড় পাঁচটি অ্যাপে একটি একটি করে ঢুকে Storage and cache তারপর Clear cache চাপুন। Clear data চাপবেন না
  • ধাপ আট, Downloads ফোল্ডার খুলে তারিখ অনুযায়ী সাজান এবং তিন মাসের পুরোনো সব এপিকে ও জিপ ফাইল মুছে দিন
  • ধাপ নয়, ছয় মাস ধরে একবারও খোলেননি এমন অ্যাপগুলো আনইনস্টল করুন। একটি অ্যাপ আনইনস্টল করলে তার সাথে জমা ডেটাও যায়, তাই লাভ প্রায়ই আকারের চেয়ে বেশি হয়
  • ধাপ দশ, Settings এর Storage পাতায় Smart Storage বা Storage manager নামের সুইচটি চালু করে দিন। এটি চালু থাকলে ক্লাউডে ব্যাকআপ হয়ে যাওয়া ছবি নির্দিষ্ট দিন পর ফোন থেকে নিজেই সরে যাবে

এই দশটি ধাপ ঠিক ভাবে করলে এক থেকে দুই বছর ব্যবহার করা একটি সাধারণ ফোনে ১৫ থেকে ২৫ GB জায়গা ফিরে আসে, আর এর মধ্যে একটিও দরকারি ছবি বা নথি হারায় না।

➡ Google Photos ও ১৫ GB এর ফাঁদ

অনেকেই ভাবেন Google Photos এ ব্যাকআপ থাকলে ফোনের জায়গা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। বাস্তবতা একটু ভিন্ন এবং এটি না জানলে হঠাৎ একদিন ব্যাকআপ বন্ধ হয়ে যায়।

  • প্রতিটি Google অ্যাকাউন্টে বিনামূল্যে ১৫ GB জায়গা থাকে
  • এই ১৫ GB Gmail, Google Drive ও Google Photos তিনজনে ভাগ করে ব্যবহার করে
  • ২০২১ সালের ১ জুন এর পর আপলোড করা প্রতিটি ছবি ও ভিডিও এই ১৫ GB থেকেই কাটা হয়, Storage saver মানে কমানো কোয়ালিটিতে রাখলেও কাটা হয়
  • ওই তারিখের আগে High quality তে আপলোড করা ছবিগুলো এখনো হিসাবের বাইরে আছে

তাই ব্যাকআপ চালু রাখার আগে একবার Google One এ ঢুকে দেখে নিন কোথায় কত জায়গা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় Gmail এর পুরোনো অ্যাটাচমেন্ট ও Drive এ পড়ে থাকা ফাইল অনেকটা দখল করে বসে আছে।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখুন। Google Photos এর Free up space শুধু ফোনের কপি মুছে, ক্লাউডের কপি রেখে দেয়। কিন্তু আপনি যদি Google Photos অ্যাপের ভেতর থেকে কোনো ছবি মুছে দেন, তবে সেটি ক্লাউড থেকেও মুছে যায়। এই দুটি কাজ আলাদা, গুলিয়ে ফেলবেন না।

➡ Cleaner ও Booster অ্যাপ আসলে কী করে

Play Store এ Cleaner লিখে সার্চ দিলে শত শত অ্যাপ আসে, যেগুলো একটি বোতাম চেপে GB খালি করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাস্তবে এরা যা করে তা আপনি নিজেই Settings থেকে দুই মিনিটে করতে পারেন, অর্থাৎ ক্যাশ মুছে দেয় ও Trash খালি করে।

সমস্যা হলো এদের নিজেরই আকার প্রায়ই ১০০ MB এর বেশি, এরা সারাক্ষণ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে, বিজ্ঞাপণ দেখায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমতি চায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এরা সমাধানের চেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে। Android নিজের ভেতরে যে Storage manager ও Files by Google দিয়েছে, সেগুলোই যথেষ্ট এবং নিরাপদ।

➡ স্টোরেজ ভরা থাকলে ফোন স্লো হয়ে যায় কেন

এটি কেবল মনের ভুল নয়, এর পেছনে সত্যিকারের প্রকৌশলগত কারণ আছে। ফোনের স্টোরেজ হলো ফ্ল্যাশ মেমোরি, আর ফ্ল্যাশ মেমোরির একটি স্বভাব হলো, এটি সরাসরি পুরোনো তথ্যের ওপর নতুন তথ্য লিখতে পারে না। আগে ব্লকটি মুছতে হয়, তারপর লিখতে হয়।

যখন অনেক খালি ব্লক হাতে থাকে, কন্ট্রোলার আগে থেকেই ব্লক মুছে তৈরি রাখতে পারে, তাই লেখার কাজ দ্রুত হয়। স্টোরেজ প্রায় ভরে গেলে খালি ব্লক ফুরিয়ে যায় এবং প্রতিটি নতুন লেখার আগে কন্ট্রোলারকে তখনই জায়গা বানাতে হয়। এই বাড়তি কাজটির নাম Write Amplification এবং এখানেই গতি পড়ে যায়।

  • অন্তত মোট স্টোরেজের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সব সময় খালি রাখুন
  • ১২৮ GB এর ফোনে অন্তত ১৫ GB খালি রাখার চেষ্টা করুন
  • স্টোরেজ ৯৫ শতাংশ ভরে গেলে অ্যাপ ক্র্যাশ ও ক্যামেরা আটকে যাওয়া স্বাভাবিক
  • ভরা স্টোরেজে বারবার লেখামুছার কারণে চিপের আয়ুও কিছুটা কমে

➡ যেগুলো কখনো মুছবেন না

জায়গা খালি করার নেশায় পড়ে অনেকে ফাইল ম্যানেজার খুলে ফোল্ডার ধরে মুছতে শুরু করেন। এখানেই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিচের জিনিসগুলো থেকে দূরে থাকুন।

  • Android নামের ফোল্ডারটি না বুঝে মুছবেন না, এর ভেতরে চালু থাকা অ্যাপগুলোর কাজের ডেটা থাকে
  • WhatsApp এর Databases ফোল্ডার মুছবেন না, এখানেই আপনার চ্যাটের ব্যাকআপ থাকে
  • ব্যাংক, bKash, Nagad ও সরকারি সেবার অ্যাপে Clear data চাপবেন না, আবার পুরো নিবন্ধন করতে হতে পারে
  • যে ফাইলের নাম বা এক্সটেনশন চেনেন না, সেটি মুছবেন না
  • রুট ছাড়া সিস্টেম ফাইল মুছতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না, ফোন বুট না হওয়ার ঝুঁকি থাকে

একটি সহজ নিয়ম মনে রাখুন। ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড ও ক্যাশ মুছতে ভয় নেই। এর বাইরে কিছু মুছতে হলে আগে জেনে নিন সেটি ঠিক কী কাজে লাগে।

➡ SD কার্ড ও OTG নিয়ে বাস্তব কথা

যাদের ফোনে এখনো কার্ড স্লট আছে, তাদের জন্য SD কার্ড একটি সস্তা সমাধান। তবে কার্ড কেনার সময় শুধু আকার নয়, গতির শ্রেণিটিও দেখতে হয়, নয়তো ভিডিও ধারণের সময় ফ্রেম পড়ে যায়।

  • ছবি ও গান রাখার জন্য অন্তত Class 10 বা U1 কার্ড নিন
  • 4K ভিডিও ধারণের জন্য U3 বা V30 লেখা কার্ড দরকার
  • অ্যাপ চালানোর জন্য অন্তত A1 বা A2 শ্রেণির কার্ড বেছে নিন
  • নামহীন সস্তা কার্ড এড়িয়ে চলুন, এগুলোতে হঠাৎ সব ডেটা হারানোর ঘটনা সবচেয়ে বেশি

কার্ডকে ফোনের ভেতরের স্টোরেজের অংশ বানানোর একটি সুবিধা কিছু ফোনে থাকে, যাকে বলে Adoptable storage। এটি চালু করলে কার্ডটি এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং অন্য কোনো যন্ত্রে আর পড়া যায় না। কার্ড নষ্ট হলে ভেতরের অ্যাপ ডেটাও চলে যায়, তাই সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটি আমি পরামর্শ দিই না।

➡ দীর্ঘমেয়াদে স্টোরেজ ভরা আটকানোর অভ্যাস

একবার পরিষ্কার করে ফেলা সহজ, কঠিন হলো তিন মাস পর আবার একই অবস্থায় ফিরে না যাওয়া। নিচের অভ্যাসগুলো একবার সেট করে দিলে কাজটি অনেকটাই নিজে নিজে হতে থাকে।

  • সব মেসেজিং অ্যাপে Media auto download স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখুন
  • ক্যামেরার ডিফল্ট রেজোলিউশন 1080p তে রাখুন, দরকার হলে তখন 4K করুন
  • Smart Storage বা Storage manager চালু রাখুন
  • মাসে একদিন ঠিক করে রাখুন, সেদিন Downloads ফোল্ডার ও Trash খালি করুন
  • যে অ্যাপ তিন মাস খোলেননি সেটি আনইনস্টল করে দিন, দরকার হলে আবার নামানো যাবে
  • দরকারি নথি ও ছবি ক্লাউডে বা কম্পিউটারে সরিয়ে রাখুন, ফোনকে স্থায়ী গুদাম বানাবেন না

➡ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

ক্যাশ মুছলে কি কোনো ক্ষতি হয়

না। ক্যাশ হলো অ্যাপের নিজের বানানো অস্থায়ী কপি। মুছলে শুধু পরের বার অ্যাপ একটু ধীরে খোলে, আর কিছুই হারায় না।

Clear cache আর Clear data এর পার্থক্য কী

Clear cache শুধু অস্থায়ী ফাইল মুছে। Clear data অ্যাপটিকে একদম নতুন অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়, ফলে লগইন ও সেটিং সব চলে যায়।

ফোন রিস্টার্ট দিলে স্টোরেজ খালি হয়

না। রিস্টার্ট শুধু র‍্যাম খালি করে, স্টোরেজে কোনো প্রভাব ফেলে না।

ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে কি অনেক জায়গা পাওয়া যায়

জায়গা পাওয়া যায়, কারণ আপনার সব ফাইল ও অ্যাপ মুছে যায়। তবে System অংশটি একই থাকে, তাই নতুন ফোনের চেয়ে বেশি খালি জায়গা পাবেন না। এটি সবচেয়ে শেষ উপায় হিসেবে ভাবুন।

ছবি ক্লাউডে থাকলে ফোন থেকে মুছে ফেলা কি নিরাপদ

ব্যাকআপ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর নিরাপদ। তবে অ্যাপের ভেতর থেকে মুছবেন না, বরং Free up space ব্যবহার করুন, কারণ প্রথমটি ক্লাউড থেকেও মুছে ফেলে।

➡ শেষ কথা

ফোনের স্টোরেজ ভরে যাওয়া কোনো রহস্য নয়, এটি নিছক হিসাবের ব্যাপার। মোট জায়গার একটি বড় অংশ অপারেটিং সিস্টেম আগেই নিয়ে বসে আছে, বাকিটার সবচেয়ে বড় অংশ খায় মেসেজিং অ্যাপের মিডিয়া ও ক্যামেরার ভিডিও, আর তারপরের অংশ খায় ক্যাশ ও ভুলে যাওয়া ডাউনলোড।

এই তিনটি জায়গায় ঠিক ভাবে হাত দিলে কোনো Cleaner অ্যাপ ছাড়াই বড় অঙ্কের জায়গা ফিরে আসে, আর ফোনের গতিও ফিরে আসে, কারণ ফ্ল্যাশ মেমোরি খালি জায়গা পেলে অনেক দ্রুত কাজ করে।

আজই একবার Settings এর Storage পাতা খুলে দেখুন, আপনার ফোনে সবচেয়ে বড় ভাগটি কার নামে লেখা। আর উপরের দশ ধাপের কোন ধাপে আপনি সবচেয়ে বেশি জায়গা ফিরে পেলেন, সেটি টিউমেন্টে জানাবেন। আপনার হিসাবটি অন্য টিউডারদেরও কাজে লাগবে।

এই টিউনের সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন ফোনের ব্যাটারি হেলথ কেন দ্রুত কমে যায় এবং ঘরের WiFi স্লো কেন হয় টিউন দুটি।

Level 1

আমি নাছিরুল হক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 দিন 23 ঘন্টা যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 19 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি নাছিরুল হক। প্রোগ্রামিং আর প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভালোবাসি। টেকটিউনসে মূলত Java প্রোগ্রামিং নিয়ে ধাপে ধাপে হাতে কলমে টিউটোরিয়াল লিখি — JDK ইনস্টল ও এনভায়রনমেন্ট সেটআপ থেকে শুরু করে IntelliJ IDEA, Exception Handling, OOP, Java Swing ও ফাইল হ্যান্ডলিং পর্যন্ত। এছাড়া স্মার্টফোন, ব্যাটারি ও নেটওয়ার্ক নিয়ে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক...


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস