8Vim Keyboard- অ্যান্ড্রয়েড দুনিয়া কাঁপিয়ে টাইপিং জগতের অপ্রতিরোধ্য দানব! প্রথাগত কিবোর্ড সাম্রাজ্য পুরো তছনছ করে দেবে! এতে আছে VIM Inspired Gesture Typing এবং 40 WPM Speed ম্যাজিক!

Level 31
সনিক টিউনার, টেকটিউনস, গাইবান্ধা

স্মার্টফোনের ছোট স্ক্রিনে টাইপ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এটি অনেক সময় বেশ বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সবাই এমন একটি সমাধান খুঁজি যা টাইপিংকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সৃজনশীল করে তুলবে। ঠিক এই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি করা হয়েছে 8Vim Keyboard। এটি কেবল একটি সাধারণ Keyboard নয়, বরং এটি আপনার স্মার্টফোনের টাইপিং এবং টেক্সট এডিটিং অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি বদলে দেওয়ার এক বৈপ্লবিক Tool। চলুন, আজকের বিস্তারিত টিউনে আমরা এই অসাধারণ App-টির আদ্যোপান্ত জেনে নিই।

এক নতুন অনুপ্রেরণা: 8Pen থেকে 8Vim-এর জন্ম

8Vim Keyboard

8Vim Keyboard-এর পেছনের গল্পটি বেশ ইন্টারেস্টিং। এটি মূলত VIM এবং 8Pen নামক দুটি ভিন্নধর্মী Concept থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি। একটা সময় 8Pen বেশ পরিচিত ছিল, কিন্তু তারা হঠাৎ করেই তাদের Distribution বন্ধ করে দেয়। মূলত সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই 8Vim-এর যাত্রা শুরু হয়। এর অরিজিনাল Description অনুযায়ী, এটি মানুষের হাতের লেখার প্রাকৃতিক ভঙ্গি বা Handwriting থেকে ধারণা নিয়েছে।

একটি Square Canvas বা বর্গাকার ক্ষেত্রের মধ্যে আমাদের হাত যেভাবে নড়াচড়া করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেই Motionগুলোকেই এখানে টাইপিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করা অনেকটা এক টুকরো Paper-এর ওপর Doodling বা হিজিবিজি আঁকার মতো এক চমৎকার Natural এবং Fun Writing Experience। এর Layout এমনভাবে Optimised করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত Letter Sequences গুলো খুব দ্রুত এবং Fluid Gestures-এর মাধ্যমে লিখতে পারেন। একবার যদি আপনি এই সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত হয়ে যান, তবে আপনি অনায়াসেই প্রতি Minute-এ 40 Words পর্যন্ত গতিতে টাইপ করতে পারবেন।

8Vim Keyboard

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ 8Vim Keyboard

কীভাবে 8Vim Keyboard ব্যবহার করবেন?

কীভাবে 8Vim Keyboard ব্যবহার করবেন?

১. প্রথমে আপনার ফোনে F-Droid বা IzzyOnDroid-এর মতো ক্লায়েন্ট ব্যবহার করে 8Vim Keyboard অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন এবং ফোনের সিস্টেম সেটিংস থেকে এটিকে আপনার ডিফল্ট কিবোর্ড হিসেবে সেট করুন।

8Vim Keyboard

২. এবার, Keybord ওপেন করে Switch Keyboard অপশনে ক্লিক করুন এবং 8Vim সিলেক্ট করে দিন।

কিবোর্ডটি ওপেন

৩. এবার আপনি অন্যান্য কিবোর্ড অ্যাপ এর মত কাস্টমাইজেশন অপশন পাবেন।

কাস্টমাইজেশন অপশন

৪. এখন, কিবোর্ডটি ওপেন হওয়ার পর এর কেন্দ্রস্থলে থাকা মাঝখানের বৃত্ত (Centre-Circle) থেকে শুরু করে চারপাশে থাকা চারটি সেক্টরে (Right, Bottom, Top, Left) আঙুল বুলিয়ে (Fluid Gestures) আপনার হাতের লেখার মতো প্রাকৃতিক ভঙ্গিতে (Handwriting) দ্রুত টাইপ করা শুরু করুন।

মূল লেআউট

৫. টেক্সট এডিটর হিসেবে (Editor-in-Keyboard) কাজ করতে কিবোর্ডের Right Sector ব্যবহার করে লেখা মুছুন, Bottom Sector দিয়ে নতুন লাইনে যান, Top Sector দিয়ে SHIFT বা CAPS_LOCK চালু করুন এবং Left Sector-এ ক্লিক করে সরাসরি Number Pad-এ প্রবেশ করুন।

নাম্বার প্যাডে

কিবোর্ড যখন নিজেই একটি এডিটর: "Editor-in-Keyboard"

কিবোর্ড যখন নিজেই একটি এডিটর

প্রথাগত Keyboard গুলোতে আমাদের বড় সমস্যা হলো, টেক্সট এডিট করতে গেলে আমাদের বারবার বিভিন্ন Toolbars এবং Buttons-এ ক্লিক করতে হয়। এতে কাজের গতি কমে যায় এবং দুই হাত ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। 8Vim-এর উদ্ভাবক এই সমস্যাটি সমাধান করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি কিবোর্ড যা নিজেই একটি Editor হিসেবে কাজ করবে। এভাবেই জন্ম নিল Editor-in-Keyboard Concept। এর মাধ্যমে আপনি অনায়াসে Blind Typing বা স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে টাইপ করতে পারবেন এবং যেকোনো Text Editor-এর সাহায্য ছাড়াই সরাসরি কিবোর্ড থেকেই সব এডিটিংয়ের কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।

টাইপিংয়ের মূল ভিত্তি: চারটি সেক্টরের কাজ

টাইপিংয়ের মূল ভিত্তি: চারটি সেক্টরের কাজ

8Vim-এর ইন্টারফেস মূলত চারটি প্রধান Sector-এ বিভক্ত। প্রতিটি সেক্টরের নির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে:

  • Right Sector: এটি আপনার টেক্সট মোছার জন্য Backspace Key হিসেবে কাজ করে।
  • Bottom Sector: নতুন লাইন তৈরি করতে বা কমান্ড দিতে এটি Enter Key-এর ভূমিকা পালন করে।
  • Top Sector: এটি একটি মাল্টি-ফাংশনাল এরিয়া। একবার প্রেস করলে SHIFT মোড চালু হয়, দুইবার প্রেস করলে CAPS_LOCK একটিভ হয় এবং আরও একবার প্রেস করলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
  • Left Sector: এই বাটনে ক্লিক করলেই আপনি সরাসরি Number Pad-এ চলে যেতে পারবেন।

নেভিগেশন ও এডিটিং জেস্টার: আঙুলের ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণ

নেভিগেশন ও এডিটিং জেস্টার

এই কিবোর্ডটির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর Gesture বা অঙ্গভঙ্গির মধ্যে। নিচে এর প্রধান কিছু জেস্টার ব্যাখ্যা করা হলো:

  1. Cursor Movement: আপনি যদি আপনার আঙুলকে মাঝখানের Centre-Circle থেকে যেকোনো Sector-এ নিয়ে গিয়ে সেখানে হোল্ড করেন, তবে Cursor সেই দিকে মুভ করতে শুরু করবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি Circle থেকে Right-এ সোয়াইপ করেন, তবে Cursor ডান দিকে সরবে। এটি সম্পূর্ণ Emulated একটি পদ্ধতি যা নেভিগেশনকে করে তোলে পানির মতো সহজ।
  2. Text Selection: টাইপিং এরিয়াতেই Selection করার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যদি আপনার আঙুল Right Sector থেকে Circle-এর দিকে টেনে আনেন, তবে Cursor বাম দিকে সরতে সরতে পথিমধ্যে থাকা সব টেক্সট Select করতে থাকবে। আঙুল সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই একটি Selection Keyboard আপনার সামনে ওপেন হবে, যা দিয়ে আপনি আপনার পছন্দমতো কাজ করতে পারবেন।
  3. Instant Paste: কোনো কিছু কপি করা থাকলে তা পেস্ট করা এখন আরও সহজ। Right -> Circle -> Lift-Your-Finger—এই সহজ মুভমেন্টটি করলেই আপনার Clipboard-এ থাকা সব তথ্য সরাসরি পেস্ট হয়ে যাবে।

বর্তমান আপডেট ও কন্ট্রিবিউশন

বর্তমান আপডেট ও কন্ট্রিবিউশন

8Vim একটি কমিউনিটি চালিত প্রজেক্ট। সম্প্রতি @MaethorNaur নামক একজন কন্ট্রিবিউটর এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান করেছেন (Issue #552)। সেখানে Ranged Slider সঠিকভাবে হাইড না হওয়ার একটি Bug সফলভাবে Fix করা হয়েছে।

আপনি এই অ্যাপটি কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

আপনি এই অ্যাপটি কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

এই দারুণ অ্যাপটি আপনি F-Droid Main এবং IzzyOnDroid Repository—উভয় প্ল্যাটফর্মেই পাবেন। যদিও সরাসরি APKs Download করার অপশন আছে, তবে পরামর্শ থাকবে একটি Client ব্যবহার করার। এতে অ্যাপটি আপনার Device-এ সবসময় Up-to-Date থাকবে। Sunil-এর তৈরি ক্লায়েন্ট বা এই ধরনের অন্যান্য অ্যাপে এই Repo ডিফল্টভাবে থাকে। তবে F-Droid-এর মতো ক্ষেত্রে আপনাকে এই Repo ম্যানুয়ালি যুক্ত করতে হতে পারে। এর জন্য অ্যাপের ভেতরে থাকা Hint সেকশনটি দেখে নিতে পারেন।

টেকনিক্যাল ডিপ ডাইভ: পর্দার আড়ালের কারিগরি তথ্য

টেকনিক্যাল ডিপ ডাইভ

8Vim Keyboard তৈরির পেছনে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক সব টেকনোলজি এবং লাইব্রেরি। চলুন সেগুলোর ওপর একটু বিস্তারিত নজর দিই:

স্পেশাল এক্সেস ও কনফিগারেশন:

অ্যাপটিতে একটি Intent Filter ব্যবহার করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডেভেলপারদের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত Clarified বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইউটিলিটি ও ফ্রেমওয়ার্কস:

  • SLF4J (Utility): এটি একটি অত্যন্ত দক্ষ Logging Helper, যা জনপ্রিয় Log4j Project-এর উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
  • Android Support Library: এটি একক কোনো লাইব্রেরি নয়, বরং অনেকগুলো Compatibility এবং Component Libraries-এর একটি সংকলন যা অ্যাপের স্ট্যাবিলিটি বজায় রাখে।
  • Jetpack Compose (Development Framework): এটি একটি আধুনিক টুল যা Composable Functions-এর মাধ্যমে আপনার অ্যাপের UI বর্ণনা করতে সাহায্য করে। এটি মূলত ডেটা ডিপেন্ডেন্সির ওপর ভিত্তি করে ইন্টারফেস তৈরি করে।
  • Coroutines ও ListenableFuture (Utility): ডিভাইসের Main Thread থেকে ভারী কাজগুলোকে সরিয়ে নিতে এই AndroidX Library ব্যবহৃত হয়, যা অ্যাপকে স্মুথ রাখে।
  • ConstraintLayout ও CoordinatorLayout (Utility/UI Component): এগুলো অ্যাপের ভেতরের লেআউটকে সুশৃঙ্খল রাখতে এবং AppBarLayout বা FloatingActionButton-এর মতো উইজেটগুলোকে সঠিক পজিশনে বসাতে সাহায্য করে।
  • Static Library: এমন সব APIs ব্যবহার করতে এটি যুক্ত করা হয়েছে যা হয়তো পুরনো প্ল্যাটফর্ম ভার্সনে নেই।
  • Emoji2 (UI Component): Kitkat বা তার পরবর্তী ডিভাইসে যাতে ইমোজিগুলো সঠিকভাবে দেখা যায় এবং কোনো ফাঁকা বা ভাঙা ক্যারেক্টার না আসে, তা নিশ্চিত করতে এটি কাজ করে।
  • Fragment (UI Component): ইউজার ইন্টারফেসের বিভিন্ন অংশকে ছোট ছোট Reusable Components হিসেবে ব্যবহার করতে এটি সাহায্য করে।
  • Lifecycle (Utility): অন্যান্য কম্পোনেন্টের (যেমন Activities এবং Fragments) অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে।
  • ViewModel (Utility): ফোনের স্ক্রিন ঘোরানো বা অন্যান্য পরিবর্তন সত্ত্বেও আপনার UI Data যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করে।
  • Preference (Utility): সরাসরি ফোনের ইন্টারনাল Storage নিয়ে দুশ্চিন্তা না করেই চমৎকার Interactive Settings Screens তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
  • Tracing (Utility): এটি অ্যাপের পারফরম্যান্স বাড়াতে ART (Android Runtime)-এর জন্য আগে থেকেই Compilation Traces তৈরি করে রাখে।
  • Paging (Utility): অনেক বড় Data Sets প্রসেস করার সময় মেমোরি খরচ সর্বনিম্ন রাখতে এটি ব্যবহার করা হয়।
  • Startup (Utility): অ্যাপটি চালুর সময় প্রতিটি কম্পোনেন্ট যাতে পারফেক্টলি এবং দ্রুত Initialize হয়, তা নিশ্চিত করে।
  • MotionLayout ও Vector Graphics (UI Component): এগুলো অ্যাপের ভেতরে আকর্ষণীয় Animation এবং গ্রাফিক্স রেন্ডার করতে সাহায্য করে।
  • Protobuf (Utility): এটি একটি অত্যন্ত আধুনিক এবং কম্প্যাক্ট Binary Serialization Format, যা প্রসেসগুলোর মধ্যে নিরাপদে ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে।
  • Jackson (Utility): এটি একটি ফাস্ট JSON Parser/Writer যা POJOs এবং Annotations ব্যবহার করে ডেটা প্রসেসিং সহজ করে।
  • Material Design (Utility): Apple, Google-এর অফিসিয়াল ডিজাইন গাইডলাইন মেনে অ্যাপটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
  • Java JSON Schema Validator (Development Aid): এটি একটি দ্রুত কাজ করা ভ্যালিডেটর যা Draft V4, V6, V7 এবং V2019-09 সাপোর্ট করে।

পরিশেষে, 8Vim Keyboard কেবল একটি টাইপিং টুল নয়, এটি একটি শক্তিশালী Efficiency Tool। এর ডেভেলপাররা প্রাইভেসির দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন, কারণ এতে কোনো ক্ষতিকর Trackers বা Anti-Features পাওয়া যায়নি। আপনি যদি স্মার্টফোনে টাইপিং এবং টেক্সট এডিটিংকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, তবে আজই 8Vim Keyboard ট্রাই করে দেখুন! তারা ChatGPT, iPhone, MacBook ব্যবহার করছে।

Level 31

আমি মো আতিকুর ইসলাম। সনিক টিউনার, টেকটিউনস, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 4 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 728 টি টিউন ও 94 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 67 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 3 টিউনারকে ফলো করি।

“আল্লাহর ভয়ে তুমি যা কিছু ছেড়ে দিবে, আল্লাহ্ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু অবশ্যই দান করবেন।” —হযরত মোহাম্মদ (সঃ)


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস