হ্যাকার কারা?? এবং কিভাবে একজন প্রফেশনাল হ্যাকার হবো??

আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আমি আজকে আলোচনা করবো হ্যাকার ও হ্যাকিং নিয়ে। তাহলে আর বকবক না করে চলুন শুরু করি।

হ্যাকার কারা??

বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তার দিনের অধিকাংশ সময় পার করে অনলাইনে। এতো বেশি সময় দেওয়ার কারণে অনলাইন জগৎটা হয়ে গেছে আরেকটা পৃথিবী। মানুষ এখন সব কিছু করতে পারে অনলাইনে। অনেকে আবার নিজের গোপন কথাও অলাইনে আপলোড করে থাকে। তবে চিন্তা করেছেন, আপনার আপলোড করা এই গোপন বিষয় কেউ জেনে ফেলছে না তো? হয়তো পরবর্তীতে নিজের মনকে শান্তনা দিয়ে বলেন 'দেখবে কিভাবে, আমিতো সিকিউর করার জন্য গোপন পাসওয়ার্ড/পিন কোড দিয়ে রেখেছি। সেটা তো কেউ জানে না'

যদি সেটাই মনে করে থাকেন, তবে আমি বলবো আপনার কথাকে ভুল প্রমাণ করে দিবে হ্যাকার। অর্থাৎ, হ্যাকার হলো তারাই, যারা নিজের মেধাকে ব্যবহার করে আপনার যেকোনো পাসওয়ার্ডকে বের করে ফেলতে পারে। হ্যাকার মূলত ৩ ধরণের হয়ে থাকে। তাদের নামের সাথে তাদের কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

  • হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারঃ যেসব হ্যাকার মানুষের কোনো ক্ষতি না করে মানুষকে সাহায্য করে, তারাই হলো হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার। আপনাদেরকে আর একটু পরিষ্কার করে বলি। হ্যাকাররা সাধারণত অনলাইনে যেকোনো ধরনের ত্রুটি বের করে তা দিয়ে হ্যাক করে। কিন্তু হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা অনলাইনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দিয়ে হ্যাক না করে মালিককে জানিয়ে দেয়, যে তার অনলাইনে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে বা অন্য যেকোনো ডেভেলপমেন্টে ত্রুটি রয়েছে। ফলে মালিক তার তথ্যকে সিকিউর রাখতে পারে। আর এজন্য হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারদেরকে হ্যাকার বলা না হয়ে সাইবার সিকিউরিটি বলা হয়।
  • ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারঃ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার তারাই, যারা সর্বদা মানুষের ক্ষতি করে থাকে। যেমন কারোর পাসওয়ার্ড হ্যাক করে তাকে ব্ল্যাক-মেইল করে তার কাছে থেকে টাকা নেওয়া, কিংবা ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করে সব টাকা নিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ, এক কথায় আমরা বলতে পারি, যে হ্যাকাররা সব সময় ইল্লিগ্যাল বা অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকে, তারাই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার।
  • গ্রে হ্যাট হ্যাকারঃ ব্ল্যাক এবং হোয়াইট হ্যাকারের মিশ্রণ হচ্ছে গ্রে হ্যাট হ্যাকার। অর্থাৎ, গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা ইচ্ছা করলে খারাপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা হলে ভালো কাজেও মত প্রকাশ করে।

 

কিভাবে একজন হ্যাকার হবো??

বর্তমানে হ্যাকিং শেখার প্রতি মানুষের প্রচুর আগ্রহ দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, হ্যাকিং শেখা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু আমি বলবো, হ্যাকিং শেখা মোটেও কঠিন কাজ না। তবে আপনি যদি হ্যাকিং শিখতে চান, তবে আপনাকে খুব ভালো ভাবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ রপ্ত করতে হবে এবং প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। আপনি যদি হ্যাকিং শেখার জন্য প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে এটা আপনার কাছে কোনো ব্যাপারই না। কারন, ইচ্ছা করলে মানুষ কি না করতে পারে। হ্যাকিং শিখতে হলে আপনাকে কি কি বিষয় জানতে হবে তার একটা তালিকা নিচে প্রকাশ করা হলোঃ

  1. প্রথমে হ্যাকার ও হ্যাকিং বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
  2. হ্যাকিং এর বেসিক জানতে হবে।
  3. প্রোগ্রামিং শিখতে হবে।

এই তিনটা বিষয়ে জানলেই আপনি একজন দক্ষ হ্যাকার হতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হলো, হ্যাকিং করতে হলে কি এলিমেন্ট প্রয়োজন? হ্যাকিং করতে হলে দরকার একটি কম্পিউটার আর কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার। কিন্তু শুধু কম্পিউটার থাকলেই তো হবে না। কম্পিউটার এ কালি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করতে হবে। উইন্ডোজেও হবে তবে উইন্ডোজে আপনারা সম্পূর্ন হ্যাকিং এর মাত্র ৫% করতে পারবেন। আর কালি লিনাক্সে কি কি করতে পারবেন, তা আমি পরের টিউনে বলবো। যাইহোক, এখন কথা হলো আমরা বেশিরভাগ মানুষই তো উইন্ডোজ ব্যবহার করি। তো উইন্ডোজে হ্যাকিং কিভাবে করবো? উইন্ডোজেও হ্যাকিং করা যাবে। আর তা করতে হলে লাগবে কিছু সফটওয়্যার। কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নাম, কাজ ও ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হলোঃ

  1. ওয়াইফাই হ্যাক করতে হলে লাগবে WireShark নামক সফটওয়্যার। এটা দিয়ে আপনারা TCP/WPA/WPS এর আইপি সহ অন্যান্য এলিমেন্ট হ্যাক করে ফ্রিতে ওয়াইফাই হ্যাক করতে পারেন। WireShark ডাউনলোড করেন এখান থেকে।
  2. ওয়েব সাইট হ্যাক/ডাউন করতে হলে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে LOIC (Low Orbit Ion Cannon) সফটওয়্যারটি।  LOIC ডাউনলোড করেন এখান থেকে।

আর কিছু এখন লিখবো নাহ। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন। আলবিদা......

Level 0

আমি জুবায়ের পারভেজ হিমেল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 5 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 5 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস