অনলাইনে আমরা আমাদের পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপণ কেন দেখতে পাই এবং এগুলো কেন দেওয়া হয়?

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বর্তমানে আমরা অনলাইন প্লাটফর্মে কিংবা টিভি খুললেই নানা রকম বিজ্ঞাপণ দেখতে পাই। যেটি আমাদের জন্য একই সঙ্গে বিরক্তিকর এবং উপকারী ও বটে। এখানে আমরা আমাদের পছন্দের প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপনসমূহ দেখতে পাই আবার কখনোবা একই বিজ্ঞাপণ বারবার দেখতে পাই। অনলাইন প্লাটফর্ম এ এসব বিজ্ঞাপণ আমরা আমাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কেন দেখতে পাই এবং এসব বিজ্ঞাপণ কেন দেখানো হয় তা নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই টিউনে।

একটু প্রয়োজনে কিংবা অবসর সময় কাটানোর জন্য ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে প্রবেশ করলেই চলে আসে বাহারি রকমের সব চমকপ্রদ বিজ্ঞাপণ। যেসব বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই থাকে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী। তারা আমাদের পছন্দের কথা আসলে কিভাবে বুঝতে পারে সেটি আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন? আপনারা হয়তোবা অনেকেই এ বিষয়টি জানেন যে তারা আমাদের তথ্য চুরি করে আমাদেরকে বিজ্ঞাপণ দেখানোর জন্য। এবার তবে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

আপনারা আপনাদের চারপাশের অনেক জায়গায় বিজ্ঞাপণ দেখে থাকবেন। সেটি হতে পারে টিভিতে, বিলবোর্ড, মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটারে। এবার তবে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক এসব জায়গায় বিজ্ঞাপনগুলো কেন দেওয়া হয়?

Advertising

ধরুন আপনার কোন ব্যবসা রয়েছে। এবার আপনি আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চান। এজন্য আপনাকে কি করতে হবে। অবশ্যই মানুষের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানকে পরিচিতি লাভ করতে হবে। আপনি যদি মুখে মুখে একজনার থেকে আরেক জনকে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলেন তবে তাহলে অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া আপনার যদি কোন প্রোডাক্ট থাকে সেটি যদি কাউকে কেনার জন্য অনুরোধ করেন তবে সেই ব্যক্তি সে প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগ্রহী নাও হতে পারে। তাহলে আপনার পণ্যটি সঠিক লোকের কাছে কিভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়?

এখানে নিশ্চয় উত্তর আসবে বিজ্ঞাপণ। ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিজের প্রোডাক্টটি সঠিক লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দরকার বিজ্ঞাপণ। সেসব এডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার পণ্যটি ঠিক তাদের কাছেই প্রমোট করবে যারা সেই পণ্যটি সম্বন্ধে আগ্রহী। ফলে এতে করে আপনি পাবেন আপনার কাঙ্খিত গ্রাহককে যাদের কাছে আপনি আপনার পণ্যটি বিক্রি করতে পারবেন। কোন পণ্য বা সেবা বিক্রি করা বা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বিজ্ঞাপণ ব্যবহার দেওয়া হয়।

Products

মানুষের মস্তিষ্কের একটি অ্যালগরিদম রয়েছে। যেটি হল মানুষ যখন কোন জিনিস বারবার দেখে তখন সেটি একবার হলেও নিজের জন্য ট্রাই করে দেখতে চায়। বিজ্ঞাপণের ক্ষেত্রেও ঠিক এরকমই হয়ে থাকে। এই ফ্যাক্ট এর ওপরে তারা আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখায়। ধরুন আপনি অনলাইন প্লাটফর্ম কিংবা অন্য কোন জায়গায় স্যামসাং টিভি কিংবা মোবাইলের বিজ্ঞাপণ বেশি পরিমাণে দেখলেন। এবার আপনি যদি কোনো টিভি কিংবা মোবাইল ফোন কিনতে চান তবে আপনি সেখানে যদি সেই ব্রান্ড বা মডেলের মোবাইল টি দেখতে পান তবে আপনি সেটি দেখার এবং কেনার চেষ্টা করবেন।

যেরকম আপনি ইউটিউব খুললেই দেখতে পান 'দারাজ' কিংবা 'ফুডপান্ডা' এর বিজ্ঞাপণ সবচাইতে বেশি পরিমাণে দেখাচ্ছে।

আপনার যে পন্যটি বা সেবা দরকার সেই বিষয়ের বিজ্ঞাপনগুলোই আপনি কেন দেখেন?

অনলাইন প্লাটফর্মে পছন্দমত সব বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয়। তারা আসলে কিভাবে বুঝতে পারেন যে আপনার বর্তমানে কোন বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, আপনি কি বিষয়ে বেশি পছন্দ করেন? আপনার পছন্দ এবং দরকার অনুযায়ী বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয় মূলত আপনার ডেটাগুলোকে ব্যবহার করে। অনলাইন প্লাটফর্মে আপনি যে বিচরণ করছেন সেসবের সমস্ত রেকর্ড রাখা হয়। আপনি কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন, কি লিখে সার্চ করছেন, কোন অবস্থান থেকে সার্চ করছেন, এই মুহূর্তে আপনি কোথায় থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন এবং কোন ব্রাউজার থেকে আপনি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছেন ইত্যাদি।

আপনার ডেটা গুলোকে ট্রাকিং করে কারা?

Data Track

বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে সবার প্রথমে রয়েছে গুগল এবং ফেসবুক। যারা আপনাকে সর্বদাই ট্রাকিং করে। আপনি প্রতিদিন গুগল এবং ফেসবুকে যে বিচরণ করেন সেখানে আমাদের অ্যাক্টিভিটি এর ওপর নজর রাখা হয়। আমরা যখন গুগলে কোন কিছু লিখে সার্চ করি, তখন আমাদের সে কী ওয়ার্ড গুলোকে রেকর্ড রাখা হয়। শুধু সার্চ হিস্টোরি ই নয়, বরং আপনি সেই কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করার পর কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন সেগুলো ও ট্র্যাক করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি যদি গুগলের ব্রাউজার ব্যবহার নাও করেন, তবুও সে সব ওয়েবসাইট থেকে তারা কুকিজ সংগ্রহ করে।

কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি কোন ক্যাটাগরির বিষয় গুলো দেখছেন সেগুলো গুগল নিয়ে নেয়। যা তারা বিজ্ঞাপণ দেখানোর জন্য নেয়। এসব তথ্য শুধু তারা নিজেরাই বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজেই ব্যবহার করে না। আপনি যখন গুগলের কোন কিছু লিখে সার্চ করেন তখন আপনার বয়স, অবস্থান এবং অতীতের অ্যাক্টিভিটির ওপর ভিত্তি করে আপনাকে সার্চ রেজাল্ট এনে দিতেও সাহায্য করে। তবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গুলো বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে। তারা আপনাকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী পার্সোনাল ডাটা গুলো এনালাইসিস করে আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখায়।

Data analysis

কোন ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে কিভাবে ট্র্যাক করা হচ্ছে সেটি যদি আপনি একটুও আন্দাজ করতে চান তবে আপনি Duckduckgo ব্রাউজার ইনস্টল করে কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখতে পারেন। আপনি সেখানে উপরে সার্চ বার এ দেখতে পাবেন যে সেই ওয়েবসাইট এ কতগুলো বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আড়ি পেতে রয়েছে। সে ওয়েবসাইটে আপনি কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহী দেখাচ্ছেন সে বিষয়গুলো তারা সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে যা আপনার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইনের যে কোন মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ দেখাতে কাজে লাগাবে।

ধরুন আপনার বর্তমানে একটি মোবাইলের দরকার। এজন্য আপনি গুগলে অথবা ইউটিউবে গিয়ে সার্চ করলেন সে মোবাইল সম্পর্কে। গুগল আপনার সেই তথ্যটি নিয়ে নেবে বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে। গুগলের কাজই হলো মানুষের পার্সোনাল ডাটা গুলোকে নিয়ে তাকে বিজ্ঞাপণ দেখানো। পরবর্তীতে আপনি দেখতে পাবেন যে ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে আপনি সেই রকমই বিজ্ঞাপণ দেখতে পাচ্ছেন। সাধারণত এমনটাই সব সময় হয়ে থাকে। আপনি যদি গুগলে কোন কিছু কেনার জন্য সার্চ করেন, একটু পর যদি ফেসবুক ওপেন করেন সেখানে গিয়ে সেই প্রোডাক্টটি দেখতে পাবেন। আপনি কোন ওয়েবসাইটে বিচরণ করলে সেই ওয়েবসাইট থেকে একই সঙ্গে ডেটা সংগ্রহ করে ফেসবুক এবং গুগল। যার মাধ্যমে আপনার পার্সোনাল ডাটা অনুযায়ী আপনাকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপণ হিসেবে দেখায়।

গুগল বিজ্ঞাপণ দেখানোর জন্য শুধুমাত্র আপনার সার্চ করা টপিকগুলো রেকর্ড রাখেনা। বরং এটি আপনার অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে যেমনঃ আপনি বর্তমানে কোন ডিভাইস ব্যবহার করছেন, সেই ডিভাইসটির নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি, সেই মুহূর্তে আপনি মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছেন নাকি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, আপনি কোন অবস্থানে থেকে সেই বিষয়টি সার্চ করছেন এবং আপনার বয়স ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করে। যেসব তথ্য গুলো তারা আপনাকে বিজ্ঞাপণ দেখাতে কাজে লাগায়। যখন কেউ গুগলের কাছে কোন বিজ্ঞাপণ দেয় তখন তারা এসব অপশন গুলো সিলেক্ট করে দেয় যে তারা কাদের কাছে সেই বিজ্ঞাপনটি পাঠাতে চাচ্ছে। বিজ্ঞাপনদাতার সেই তথ্যের সঙ্গে যদি আপনার তথ্যগুলো মিলে যায় তবেই আপনাকে সে বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয়।

শুধু গুগল ই নয়, বরং ফেসবুক ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গুলো কে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে। আপনি কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপণে বেশি ক্লিক করছেন, কোন ধরনের post এ বেশি like এবং share করছেন ইত্যাদি সেখানে ট্র্যাক করা হয়। গুগলের মতো ফেসবুক ও আপনার লোকেশন কে ট্র্যাক করে। যেমনটি আপনি ফেসবুকে গেলে তারা আপনার location access চায়। বলতে গেলে অনলাইন প্লাটফর্ম এ কোন জায়গায় আপনি নিরাপদ নন। সব জায়গায় আপনাকে তারা ট্র্যাক করবে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটাগুলো নেবার জন্য, যাতে করে তাদের বিজ্ঞাপণ দেখাতে পারে।

একটি জিনিসের বিজ্ঞাপনই কেন বারবার দেখায়?

কোন বিজ্ঞাপণ বারবার আপনাকে দেখানোর উদ্দেশ্য হলো সেই প্রোডাক্ট বা সেবাটি একবার হলেও আপনার জীবনে ট্রাই করা। মানুষের মস্তিষ্ক এরকমই যে সে বারবার যদি কোন বিষয় দেখে তবে সেটি একবার হলেও নিজে ট্রাই করে দেখতে চায়। যেমনটি আপনি ইউটিউবে বারবার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে 'দারাজ' এর বিজ্ঞাপণ দেখতে পাচ্ছেন। এবার আপনি বারবার সেই বিজ্ঞাপণ দেখার ফলে একবার হলেও দারাজ থেকে কোন কিছু অর্ডার করার চেষ্টা করবেন। আপনাকে বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে এটা বুঝানো হবে যে সেই জিনিসটিই তোমার জন্য ভালো এবং এটিই তুমি ক্রয় কর। সেই প্রোডাক্টটি তুমি অন্য মানুষের কাছে রিকমেন্ড করো।

মানুষের মস্তিষ্কের অ্যালগরিদম এরকমই যে একটা জিনিস যদি বারবার দেখা হয় তাহলে সে বিষয়টি নিজে থেকে ট্রাই করার চেষ্টা করবে। যার ফলে বারবার আমরা একই ধরনের বিজ্ঞাপণ আমাদের সামনে দেখতে পাই, যেন আমরা সেটি একবার হলেও চেষ্টা করি ব্যবহার করার জন্য। এছাড়া কোনো বিজ্ঞাপণ আপনাকে বারবার দেখানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই প্রোডাক্টটি সম্পর্কে যেন আপনি ভুলে না যান। কোম্পানিটি বারবার বিজ্ঞাপণ দেওয়ার মাধ্যমে আপনাকে সেই পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মনে করে দেবে। যাতে করে আপনি সেই প্রোডাক্ট বা সেবাটি মনে রেখে বারবার সেই প্রোডাক্ট বা সেবাটি ব্যবহার করেন।

অনলাইন প্লাটফর্মে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলো কে ব্যবহার করেই আমাদেরকে বিজ্ঞাপণ দেখানো হয়। অনলাইন প্লাটফর্মে যদি বিজ্ঞাপণ না দেখানো হয় তবে আমরা এসব সার্ভিস বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারব না। ইউটিউব এর ভিডিও দেখতে হলে আমাদেরকে টাকা দিতে হবে, ফ্রিতে আর কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারব না, ফেসবুক ব্যবহার করতে হলে আমাদেরকে টাকা দিতে হবে ইত্যাদি। কেননা এই সব প্লাটফর্ম গুলো আমাদেরকে বিনামূল্যে এসব সার্ভিস ব্যবহার করতে দেয় একমাত্র বিজ্ঞাপণ দেখানোর বিনিময়ে। অনলাইনে বিজ্ঞাপণ দেখানোর মাধ্যম হলো একমাত্র প্রধান আয়ের উৎস। তাই আমাদেরকে অবশ্যই বিনামূল্যের সার্ভিস ব্যবহার করতে এসব তথ্য তাদেরকে দিতেই হবে।

বন্ধুরা আজকে আমি বিদায় নিচ্ছি এখানেই। আশা করছি বিজ্ঞাপণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আজকের এই টিউনটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 117 টি টিউন ও 50 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 13 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস